মনে হলো ভূমিকম্প হচ্ছে। পুরো ঘর থরথর করে কাঁপতে লাগল। চিৎকার দিয়ে সবাইকে ঘুম থেকে জাগালাম। কয়েক মিনিট গড়গড় করে হঠাৎ বিকট শব্দে পুরো ঘর নদীতে তলিয়ে গেল। আমরা কোনোভাবে জান নিয়ে বেরিয়ে আসতে পারলাম।

শুক্রবার মাঝরাতে সুরমা নদীতে ঘরগুলো তলিয়ে যাওয়ার বর্ণনা করেন হোমিওপ্যাথি ডাক্তার বাচ্ছেশ পতি দে। শুক্রবার রাতে ভাঙনে চার পরিবার গৃহহারা হয়েছে। নদীভাঙনে গত কয়েক দিনে গৃহভিটা হারিয়ে ১৫টি পরিবার এখন নিঃস্ব।

বিয়ানীবাজার উপজেলার চারখাই ইউনিয়নের সাফাগ্রামে বইছে নিঃস্ব মানুষের আহাজারি। তাদের সান্ত্বনা দিতে উপজেলা চেয়ারম্যানসহ রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ছুটে গেছেন অসহায় মানুষের পাশে। নদীভাঙন রোধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাসে ক্ষতিগ্রস্তরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। শুক্রবার রাতে অজিত চন্দ্র দে, ডাক্তার বাচ্ছেশ পতি দে, মাস্টার রামেন্দ্র চন্দ্র দে ও বাবুল চন্দ্র দে’র পরিবার হয়েছে গৃহহারা। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে অবশিষ্ট ভিটেতে কোনোভাবে রাত যাপন করছেন। তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কয়েক বছর থেকে নদীভাঙনের বিষয়টি দায়িত্বশীলদের জানানোর পর ভাঙন রোধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। শুধু ভাঙন রোধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাসই আমরা পেয়েছি। এখন সব হারানোর পরও একই আশ্বাস শুনতে হচ্ছে।

চারখাই এলাকার বাসিন্দা শহিদ উদ্দিন বলেন, নদীতে অবৈধভাবে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করায় নদী তীরবর্তী ওই এলাকা গত কয়েক বছর থেকে ভাঙছে। স্থানীয় জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ দায়িত্বশীলদের কাছে বালু উত্তোলন বন্ধ এবং ভাঙনরোধে ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন করলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আতাউর রহমান খান বলেন, নদীভাঙন এলাকা পরিদর্শন করেছি। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড সিলেটের দায়িত্বশীলদের সঙ্গে কথা বলেছি। এ ছাড়া অসহায় পরিবারগুলোকে সরকারি সহায়তা প্রদানের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি।

সিলেট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সিরাজুল ইসলাম বলেন, নদীতে বসতঘর তলিয়ে যাওয়ার কোনো সংবাদ আমাদের জানা নেই। তবে সুরমা নদীর ওই অংশসহ আরও দুটি ভাঙনকবলিত অংশে ভাঙন রোধ করতে ১ কোটি ৮৩ লাখ টাকার একটি প্রজেক্ট পাঠিয়েছি। তিনি বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ প্রজেক্ট অনুমোদন করলে আমরা দ্রুত সময়ের মধ্যে কাজ শুরু করব।