বিয়ানীবাজার পৌরশহরের পশ্চিম নোয়াগ্রামে বসবাসরত মৃত মালু হোসেনের ছেলে সাইরুল ইসলাম (৩৩)। জাতীয় পরিচয়পত্রে তার এ ঠিকানা উল্লেখ থাকলেও মূলত: সে অন্য জেলার বাসিন্দা। নয়াগ্রামে সে ভাড়াটিয়া হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করে আসছে। তাঁর মূল বাড়ি ময়মনসিংহ বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। স্থানীয়দের মধ্যে তার আচরণ বরাবর ছিল রহস্যজনক। সে মূলত: আন্তঃজেলা ডাকাত দলের তথ্য প্রদানকারী। উপজেলার রাস্তাঘাট বাতলে দেয়া এবং কোন বাড়ির অর্থনৈতিক অবস্থান কেমন-তা সে অন্য ডাকাতদের জানিয়ে দিতো সাইরুল। পাশাপাশি বিত্তবান ও প্রবাসীদের বাড়ির খোঁজখবর নিয়ে অপেরেশনের টার্গেট হিসেবে জানিয়ে দিতো আন্তঃজেলা ডাকাত চক্রকে। সাইরুলের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিয়ানীবাজার উপজেলার মুড়িয়া ইউনিয়নের কয়েকটি বাড়িকে অপারেশনের টার্গেট হিসেবে চিহ্নিত করে প্রস্তুতি নেয় ডাকাত চক্র। ডাকাতরা দুটি সিএনজি অটোরিকশা যোগে মুড়িয়া ইউনিয়নের কোনাগ্রামে আসবে এবং সেখানকারই একটি ইটভাটার আশেপাশে একত্রে জড়ো হওয়ার কথা ছিল তাদের। অপারেশনকে ঘিরে ওই ডাকাত চক্রের ছিল না পরিকল্পনা। আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্রসহ ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত সরঞ্জামসহ বিয়ানীবাজারের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিয়েছিল তারা।

কিন্তু বিধিবাম! তাদের সকল জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটে যায় বিয়ানীবাজার পৌরসভার খাসা নয়াবাজার এলাকায় এসে। আগে থেকে ওত পেতে থাকা পুলিশ তাদের গাড়িকে পথরোধ করে দাঁড়ায়। এসময় প্রথম অটোরিকশাতে থাকা তিনজন আগ্নেয়াস্ত্র ও ডাকাতির সরঞ্জামাদিসহ আটক হলেও পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অপর একটি অটোরিকশাতে থাকা আরও কয়েকজন ডাকাত পালিয়ে যায়।

আটককৃত তিন ডাকাতরা হচ্ছে- বিয়ানীবাজার পৌরসভার পশ্চিম নয়াগ্রামের মালু হোসেনের ছেলে সাইদুল ইসলাম ওরফে সাইরুল (৩২) ও দুবাগ ইউনিয়নের বাঙ্গালহুদা গ্রামের খলিলুর রহমানের ছেলে হোসেন আহমদ (৩০) এবং  কমলগঞ্জ উপজেলার কাটাবিল গ্রামের প্রয়াত মদরিছ মিয়ার ছেলে ইসলাম মিয়া (২৮)। এর মধ্যে সাইদুল ইসলাম ওরফে সাইরুলের মূল বাড়ি ময়মনসিংহ জেলায়, সে দীর্ঘদিন ধরে বিয়ানীবাজার পৌর এলাকায় বসবাস করছে বলে জানা গেছে। তার বিরুদ্ধে ডাকাতির কোন মামলা না থাকলেও তার বিরুদ্ধে আদালতে চুরির মামলা বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে।

এদিকে, ডাকাতদের গ্রেপ্তারের পর বুধবার দুপুরে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন করেন জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন পিপিএম। এসময় তিনি বলেন, গত ১৫ ডিসেম্বর রাতে সিলেট নগরী থেকে ডাকাত সর্দার শিপন হাজারীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের পরই জেলাজুড়ে ডাকাতদের তথ্য ও পরিকল্পনা আমরা বেশ কিছু তথ্য পেয়েছি। এরপর পুরো সিলেটজুড়েই তৎপরতা ও নজরাদারী বৃদ্ধি করি। বিয়ানীবাজারে বড় ধরনের ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছে সংঘবদ্ধ ডাকাতচক্র এমন সংবাদ পেয়ে আমরা তাদেরকে ধরার জন্যে পরিকল্পনা করি। একই সাথে প্রযুক্তির সহায়তায় তাদের সর্বশেষ অবস্থান নজরে রেখেছিলাম। সর্বশেষ মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুদীপ্ত রায়, জকিগঞ্জ সার্কেল ও অফিসার ইনচার্জ হিল্লোল রায় এর নেতৃত্বে ডিবি দক্ষিণের পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ১০/১২ জন ডাকাত পালিয়ে গেলেও তিনজনকে আগ্নেয়াস্ত্র ও সরঞ্জামাদিসহ গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছি।

এসময় গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে একটি নাম্বারবিহীন সিএনজি চালিত (অটোরিক্সা), একটি ৬ চেম্বার বিশিষ্ট ১টি বিদেশী রিভলবার, দুইটি ওয়ান শুটারগান, ১৪টি কার্তুজ, গ্রীল কাটার, ৩টি লােহার তৈরী কাঠের বাটযুক্ত দা, একটি শাবল, দুইটি তালা ভাঙ্গার শাবল, একটি স্লাই রেঞ্জ, ১টি প্লাস্টিকের ক্রু ড্রাইভারসহ বিভিন্ন সরঞ্জামসহ ৫টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ সুপার আরও জানান, ডাকাতদের শীর্ষ নেতাকে গ্রেপ্তার করতে কাজ করছে পুলিশ। তবে শীতকালে সিলেটের ডাকাতরা সক্রিয় হয়ে উঠে তবে তাদেরকে গ্রেপ্তার করতে এবং সিলেট জেলার জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা পুলিশের বিভিন্ন টিম মাঠে কাজ করছে।

থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আন্তঃজেলা ডাকাত দলের এই ৩ সদস্যকে বুুুধবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। এ সময় আদালতে আসামিদেের ৭ দিনের রিমাণ্ড চেয়েছে পুলিশ। এর আগে তাদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ও ডাকাতির প্রস্তুতি আইনে দুটি মামলা করেছে থানা পুলিশ।

এবিটিভির সর্বশেষ প্রতিবেদন-

প্রথমবারের মতো বিয়ানীবাজারে নির্মিত হচ্ছে আধুনিক 'ইনডোর ব্যাডমিন্টন স্টেডিয়াম'