দুর্ঘটনা কবলিত বিয়ানীবাজারগামী শ্যামলী বাসের বিয়ানীবাজারের একমাত্র যাত্রি হুমায়ুন কবির। দুর্ঘটনা বিষয়ে বলতে গিয়ে আঁতকে উঠে বলেন, আল্লাহ আমাদের রক্ষা করেছেন।গাড়িটি প্রচন্ড ঝড় ও তুফানের কবলে পড়ে নিয়ন্ত্রণ হারায়। এরকম বিপদে এর আগে পড়েছি বলে মনে হয়নি। সড়কতো দূরে কথা কিছুই দেখা যাচ্ছে না। এক পর্যায়ে চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে যায়। কোন মতে নিজেকে রক্ষা করে পাড়ে উঠে আসি। বৃষ্টি আর ঝড়ের মধ্যে কাউকে দেখতে পাইনি। স্থানীয় কয়েকজন যুবক আমাদের রক্ষা করতে ছুটে আসে। তাদের সহযোগিতা না পেলে অনেকের বিপদ হতো। তিনি বলেন, আহতদের মধ্যে চারজনের অবস্থা আশংকাজনক এবং তিনিসহ আরও পাঁচ জনের অবস্থা গুরুতর ছিল। এছাড়া আরও ৬জন আঘাত পান। আমার শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে, শরীরের প্রচন্ড ব্যথা করছে। বিয়ানীবাজারে সাময়িক চিকিৎসা নিয়ে বিকালে সিলেট যাব।

ঢাকা থেকে বিয়ানীবাজার আসার পথে মৌলভীবাজার জেলার বাজনগর উপজেলার কদমহাটা এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যাত্রীবাহি শ্যামলী বাস খাদে পড়ে গেলে ১৫জনের বেশি যাত্রি আহত হন। আহতদের স্থানীয়রা উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। স্থানীয়দের সহযোগিতায় আহত যাত্রিদের নিরাপদে বিয়ানীবাজার ও বড়লেখায় প্রেরণ করা হয়েছে। যাত্রিদের মধ্যে একমাত্র হুমায়ুন কবির বিয়ানীবাজারের অন্যরা বড়লেখা উপজেলার অধিবাসী।

মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১১টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। স্থানীয় মিটুন ভৌমিকসহ অধিবাসীরা আহতদের দুর্ঘটনা কবলিত বাস থেকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে যাত্রিদের নিরাপদে বিয়ানীবাজারে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি না হলেও কমপক্ষে ২৫জন যাত্রি আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে বিয়ানীবাজার উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা ও ট্রাভেলস ওয়েস্টের পরিচালক হুমায়ুন কবিরও ছিলেন। তার বুকে চাপ পড়েছে এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে তিনি আঘাত পেয়েছেন। রাতে অন্যান্য আহতদের সাথে তিনিও নিরাপদে বাড়ি ফিরলেও আজ বুধবার শারিরীক পরীক্ষা জন্য সিলেট যাবেন।