আর মাত্র দুইদিন পর সিলেট জেলা পরিষদ নির্বাচন। এ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন খান বিজয়ী হওয়ায় নির্বাচনে মূল লড়াই সদস্যপদ প্রার্থীদের মধ্যে। ৮নং ওয়ার্ড বিয়ানীবাজারে ৯জন সদস্য পদ প্রার্থীদের সবাই ব্যস্ত সময় পার করছেন। শেষ মুহূর্তে ভোটার ও প্রার্থীদের মধ্যে অনেক গোপন আলাপ নিয়েও চলছে গুঞ্জন। মাত্র দুইদিন আগে ৯ প্রার্থীদের ৫জনই লড়াই থেকে ছিটকে গেছেন বলে ভোটারদের অনেকেই আভাস দিয়েছেন।

কোন চার প্রার্থী মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এখনো টিকে আছেন সেটি তাদের প্রচারণা, ভোটারদের কাছে ধর্ণা দেয়া কিংবা বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করা দেখে অনুমান করছেন বলে এমন দুই ইউপি চেয়ারম্যান ও কয়েকজন সদস্য মন্তব্য করেছেন। এ নির্বাচনে টাকার খেলা ফ্যাক্টর হবে বলেও ধারণা দিয়েছেন জনপ্রতিনিধিদের (ভোটার) অনেকেই। টাকা যতই ফ্যাক্টর হোক না কেন শেষ পর্যন্ত প্রার্থীর ইমেজ, যোগ্যতা এবং সর্বমহলে গ্রহণ যোগ্যতাকে প্রাধান্য দিচ্ছেন ভোটাররা।

বিয়ানীবাজারের ৮নং ওয়ার্ডের ভোটার ১৪৬জন হলেও মোল্লাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান যুক্তরাজ্যে রয়েছেন। এছাড়া উপজেলার উত্তরের এক ইউনিয়নের সদস্য এর উপর মামলা থাকায় তিনি ভোট কেন্দ্রে আসবেন বলে মনে হচ্ছে না। ফলে ভোট এসে দাড়িয়েছে ১৪৪টিতে। শেষ পর্যন্ত যে প্রার্থী ৩০ থেকে ৩৫টি ভোট পাবেন তিনিই শেষ হাসি হাসবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

৮নং ওয়ার্ড বিয়ানীবাজারে নির্বাচনে ৯ প্রার্থীরা হলেন, চারখাই ইউনিয়নের সাবেক দুইবারের চেয়ারম্যান মাহম’দ আলী (হাতী প্রতিক), বিয়ানীবাজার উপজে’লা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার আব্দুল কাদির (ক্রিকেট ব্যাট), পৌর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী খসরুল হক (উট পাখি), মাথিউরা ইউনিয়নের সাবেক দুইবারের চেয়ারম্যান ও আওয়ামীলীগ নেতা সিহাব উদ্দিন (অটোরিক্সা), বিয়ানীবাজার সরকারি কলেজের খণ্ডকালিন প্রভাষক উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য আরবাব হোসেন খান (তালা), বঙ্গবন্ধু কিশোর মেলা কেন্দ্রীয় নেতা ময়েজ উদ্দিন (টিফিন), উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সদস্য নজরুল হোসেন (ফ্যান প্রতিক), সাবেক ছাত্রনেতা ফ্রান্সপ্রবাসী আলিম উদ্দিন সুমন (ঘুড়ি) ও আলী আহমদ (টিউবওয়েল)।

আলীনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আহবাবুর রহমান খান শিশু বলেন, আমরা একজন যোগ্য ব্যক্তিকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবো। ভোটের মাঠে অবস্থান যত সময় যাচ্ছে পরিবর্তন হচ্ছে। শেষ দিকে এসে পছন্দের প্রার্থীদের মধ্যে যার অবস্থান ভাল তাকেই ভোট দেব। তিনি বলেন, সবাই (৯জনই) যোগাযোগ করছেন। তাদের সমর্থকরা যোগাযোগ করছেন। সবাইকে তো ভোট দেয়া সম্ভবনা। সেজন্য শেষ সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করে সিদ্ধান্ত নেব। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আপাতত দৃষ্টিতে ৯জনের মধ্যে ৪জনকে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় টিকে আছেন। আগামী দুইদিনের অবস্থানের উপর জয় পরাজয় নির্ভর করবে।

পাঁচজনকে মূল লড়াইয়ে রেখেছেন লাউতা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন। তিনি বলেন, নির্বাচন যত ঘনিয়ে এসেছে মাঠে চিত্র বদলে যাচ্ছে। এক সময় যাকে অপ্রতিদ্বন্দ্বি মনে হয়েছিলো এখন তার অবস্থান নীচে নেমে এসেছে। আবার কম সময়ের মধ্যে দুএকপ্রার্থীর অবস্থান শক্ত হয়েছে। এ অবস্থায় শেষ হাসি কে হাসবেন সেটি আগে থেকে নির্ধারণ করা খুবই কঠিন।

সদস পদ প্রার্থী আলিম উদ্দিন সুমন নিজের জয়ের বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, এখন পর্যন্ত নির্বাচনের খুবই সুন্দর। আশা করি ফলাফল ঘোষণার পূর্ব পর্যন্ত একই পরিবেশ বজায় থাকবে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নির্বাচনে অনেকেই কালো টাকার প্রভাবের খবর ছড়াচ্ছেন কিন্তু আমি একজন প্রার্থী হিসাবে এরকম কোন কিছু অস্থিত্ব খোজে পাইনি। কে জিততে পারেন এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, যেহেতু সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এড. নাসির উদ্দিন খান বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি বিয়ানীবাজারের সন্তান। তাই ধরে নেয়া যায় উন্নয়নের স্বার্থে বিয়ানীবাজারের ভোটাররা আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত যেকোন একজনকে বেছে নেবেন।

সদস্য পদ প্রার্থী আলী আহমদ বলেন, নির্বাচনে এক প্রার্থী ও তার অনুসারিরা আমাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। তারা বিভিন্নভাবে ভোটারদের বিভ্রান্ত করা চেষ্টা করছে। ভোটাররা আমাকে বিষয়টি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, আমার বিজয় নিশ্চিত জেনে ওই প্রার্থী যে অপকৌশল অবলম্বন করছেন তার জবাব ভোটাররা ভ্যালটের মাধ্যমে দেবেন। তিনি সুষ্ঠু ও সুন্দর পরিবেশে ভোট গ্রহণ সম্পন্ন হবে বলে আশাবাদাী।

‌মসজিদের শহর বিয়ানীবাজার।। পর্ব#৫৪।। এ পর্বে রয়েছে খশির বন্দ হাতিটিলা জামে মসজিদ