সাফিয়া ও হালিমা। দুইজন দুইটি উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম ও নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী। দুইজনের কোমল হাত ঢাকা পড়েছে মেহেদির লাল রঙে। পৃথক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হলেও তাদের ভাগ্যে এক দিনেই বাল্য বিবাহের কথা লেখা ছিল। কিন্তু বাল্য বিয়ের সেই অভিশাপ তাদেরকে ছুঁয়ে যেতে পারেনি। উপজেলা নির্বাহী (ইউএনও) কর্মকর্তা অসীম চন্দ্র বণিক বাল্য বিয়ের অভিশাপ থেকে তাদের রক্ষা করেন।

জুড়ী উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা অসিম চন্দ্র বণিক লোক মাধ্যমে খবর পান আজ শুক্রবার বিকালে পশ্চিম জুড়ী ইউনিয়নের পৃথক দুই গ্রামের দুইটি বাল্য বিয়ে হচ্ছে। তিনি পুলিশ নিয়ে  বিকাল সাড়ে ৩টায় অভিযান পরিচালনা করেন। প্রশাসনের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যায় বরপক্ষ। রক্ষা পায় দুই স্কুল ছাত্রী সাফিয়া ও হালিমা।

জুড়ীর উপজেলার পশ্চিম জুড়ী ইউনিয়নের বুরহান মিয়া মধ্যপ্রাচ্য প্রবাসী বর পেয়ে নবম শ্রেণিতে পড়ুয়া কন্যা হালিমা আক্তারকে বিয়ের আয়োজন করেন। আজ শুক্রবার রাতে পারিবারিকভাবে হালিমার বিয়ে হওয়ার কথা ছিল। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার হালিমার পিতা বুরহান মিয়া ও মাতা জরিনা বেগম বিয়ের বিষয়ে অস্বীকার করলেও মেহেদির লাল রঙে হাত সাজিয়ে তোলা হালিমা তার বিয়ের বিষয়টি স্বীকার করে। ইউএও অসীম চন্দ্র বণিকের নির্দেশে জুড়ী থানার ওসি জালাল উদ্দিন ও পুলিশ পরিদর্শক (ওসি তদন্ত) সাধন বিয়ের সকল আয়োজন বন্ধ করে দেন। ভেঙ্গে ফেলা হয় প্যান্ডেল। পরে স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে হালিমার অভিভাবকরা লিখিত মুচলেখা দিয়ে রক্ষা পান। হালিমা মুক্তাদির বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণিতে পড়ে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অসীম চন্দ্র বণিকের হস্তক্ষেপে বাল্য বিয়ে থেকে রক্ষা পেয়ে নিরুদবিহারী উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী সাফিয়া আক্তার। সে পশ্চিম জুড়ী ইউনিয়নের বাদুরপুর এলাকার মৃত হুসেন আলীর কন্যা। প্রশাসনের অভিযানের বিষয়টি টের পেয়ে বর পালিয়ে যায়। সাফিয়ার মা বিয়ের বিষয়টি অস্বীকার করলেও সাফিয়া জানায় আজ তার বিয়ে।

স্থানীয়দের সহযোগিতায় সাফিয়ার মা লিখিত মুচলেখা দেন। সাফিয়ার বিয়ের উপযুক্ত হওয়ার আগ পর্যন্ত তিনি মেয়েকে বিয়ে দেবেন না।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অসীম চন্দ্র বণিক বলেন, সামাজিকভাবে সচেতনতা বৃদ্ধি না হলে বাল্য বন্ধ করা প্রশাসনের েএকার পক্ষে সম্ভব নয়। তবে আমরা এ বিষয়ে খুব আন্তরিক। যেকোন মূল্যে উপজেলায় বাল্য বিয়ে বন্ধ করতে সব ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হবে। একই সাথে বাল্য বিয়ের রেজিস্টার করার কাজি ও আকদ পড়ানো ঈমামদেরও আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।