মৌলভীবাজারের জুড়ীতে ভরাটকৃত একটি সরকারি খাল উদ্ধার করে কৃষি জমির জলাবদ্ধতা নিরসন করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আল ইমরান রুহুল ইসলাম।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, শনিবার (৩১ অক্টোবর) জুড়ী উপজেলার পশ্চিম জুড়ী ইউনিয়নের বাছিরপুর গ্রামের একটি সরকারি খাস রেকর্ডভুক্ত খাল বেদখল করে দীর্ঘদিন থেকে বাড়িঘর বানিয়ে বসবাস করছিল কিছু লোক। পশ্চিম বাছিরপুর ফসলি জমি থেকে জুড়ী নদী পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল খালটি। ধীরে ধীরে পলি জমে খাল ভরাট হয়ে যাওয়ায় কয়েকজন গৃহহীন মানুষ খালের উপর বাড়িঘর তৈরি করে ফেলায় ওপাশের ফসলি জমি থেকে পানি নিষ্কাশনের পথ একেবারে বন্ধ হয়ে যায়। ফলে স্থানীয় কৃষকদের প্রায় ১৫০ একর জমিতে ব্যাপক জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। এতে এসব জমিতে ফসল উৎপাদন হুমকির মুখে পড়ে।

স্থানীয় লোকজন ও জনপ্রতিনিধিরা খালের উপর থেকে তাদের ঘরবাড়ি সরাতে ব্যর্থ হয়ে জুড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে শনিবার এক গণশুনানিতে উভয়পক্ষের সাথে আলোচনা করে খালের জমি থেকে অবৈধ বসবাসকারীদের স্বেচ্ছায় সরে যেতে রাজি করা হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার উপস্থিতিতে খালটি উদ্ধার করে স্বেচ্ছাশ্রমে স্থানীয় কৃষক ও এলাকাবাসী খালটি পুনঃখনন কার্যক্রম শুরু করেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আল ইমরান রুহুল ইসলাম বলেন, খাল খনন সম্পূর্ণ হলে দেড় শতাধিক একর কৃষি জমির জলাবদ্ধতা নিরসন হবে এবং উন্নত ফসল চাষের উপযোগী হবে। তাছাড়া স্হানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের মাধ্যমে মানুষের চলাচলের সুবিধার জন্য খালে একটি কালভার্ট নির্মাণ করে দেয়া হবে। এ ছাড়া দখলদার লোকজন ভূমিহীন ও গৃহহীন দরিদ্র লোক হওয়ায় উপজেলা প্রশাসন তাদেরকে অন্যত্র পুনর্বাসন করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে। লোকজনের কৃষি জমির দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা নিরসন হওয়ায় হবে বলে ও মতামত ব্যক্ত করেন তিনি।

এ সময় পশ্চিম জুড়ী ইউপি চেয়ারম্যান শ্রীকান্ত দাস,স্থানীয় মুরব্বী কাইয়ূম ভূইয়া সহ এলাকার অনেকে উপস্থিত ছিলেন।