সিলেটের পর্যটন কেন্দ্র জাফলং-এ ফটোগ্রাফার উজ্জল (১৩) খুনের ঘটনার তিন ঘণ্টার মধ্যেই মূল অভিযুক্ত পর্যটকবেশী দুই ছিনতাইকারীসহ চার জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

গ্রেপ্তারকৃতরা হল, সুনামগঞ্জ জেলার দক্ষিণ সুনামগঞ্জ থানার ধরমপুর (শান্তিগঞ্জ) গ্রামের সৈয়দ নুর এর ছেলে এহসান (১৯), একই গ্রামের সুরুজ মিয়ার ছেলে খসরু মিয়া (১৯)। ঘটনার সহায়তাকারী হিসেবে দুই জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা হল, বিয়ানীবাজার থানার নোয়াবাড়ি গ্রামের নুর মিয়ার ছেলে রায়হান আহমদ (২২) এবং একই থানার খসির সড়ক ভাংনী এলাকার আলী নুরের ছেলে অলিউর রহমান (১৯)।

জানা যায়, রোববার (০৬ ডিসেম্বর) দুপুর ২টায় জাফলং জিরো পয়েন্ট থেকে গ্রেপ্তারকৃত এহসান ও সুরুজ ছবি তুলার চুক্তি করে ফটোগ্রাফার উজ্জলকে পার্শ্ববর্তী মায়াবী ঝরনা নামক স্থানে নিয়ে যায়। পরে আনুমানিক দুপুর আড়াই টার দিকে সুযোগ বুঝে উজ্জ্বলকে এলোপাতারী ছুরিকাঘাত করে। তার ডিএসএলআর ক্যামেরা ও মোবাইল ফোন ছিনতাই করে পালিয়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় উজ্জ্বলকে উদ্ধার করে জৈন্তাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ফটোগ্রাফার খুনের খবর পেয়ে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন পিপিএম জড়িত আসাসিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেন। এরপর গোয়াইনঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল আহাদের নেতৃত্বে গোয়াইনঘাট থানা পুলিশের একাধিক টিম জাফলং এলাকায় আসামি গ্রেপ্তারে অভিযান পরিচালনা করে।

এরই ধারাবাহিকতায় সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় জাফলং-তামাবিল সড়কের গুচ্ছ গ্রাম এলাকা থেকে ট্রাকে করে পালানো অবস্থায় আসামি এহসান ও সুরুজ মিয়াকে গ্রেপ্তার করে গোয়াইনঘাট থানা পুলিশ। পাশাপাশি ঘটনার সহায়তাকারী হিসেবে ট্রাক চালক ও হেলপার রায়হান এবং অলিউরকে গ্রেপ্তার করা হয়। এসময় আসামিদের হেফাজত থেকে ভিকটিমের ডিএসএলআর ক্যামেরাসহ মোবাইল ফোন উদ্ধার করেছে পুলিশ।

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন পিপিএম এর বরাত দিয়ে সিলেট জেলা পুলিশের সহকারি মিডিয়া অফিসার সাইফুল আলম জানান, জাফলংয়ে একজন ফটোগ্রাফারকে নৃশংসভাবে খুন করার অভিযোগে ঘটনার অল্প সময়ের মধ্যেই প্রধান অভিযুক্ত দুইজনসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলার সুষ্ট তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এবিটিভির সর্বশেষ প্রতিবেদন-

ইউপি নির্বাচন নিয়ে 'এবি টিভি'র বিশেষ আয়োজন ‘ভোটের হাওয়া’।। ৫ম পর্বে মাথিউরা ইউনিয়ন