শিক্ষক শব্দটির সাথে আমরা সবাই কম-বেশি পরিচিত। শব্দটি শুনেননি এমন লোক হয়ত খুঁজে পাওয়া দুষ্কর হবে। সহজ ভাষায় যিনি শিক্ষাদানের মত মহান পেশায় ব্রত থাকেন তাঁকেই শিক্ষক নামে অভিহিত করা হয়।

তাঁরা প্রাথমিক থেকে শুরু করে উচ্চশিক্ষা, গ্রাম্য মক্তব থেকে মাদরাসা শিক্ষা তথা সকল ধর্মীয় মৌলিক শিক্ষা প্রদানে নিয়োজিত থেকে পার্থিব বিকাশ ও নৈতিক মূল্যবোধ সম্পন্ন মানুষ গড়তে প্রতিনিয়ত নিজের শ্রম ও মেধা বিলিয়ে দেন। অঞ্চলভেদে তথা মানুষের প্রকাশ ভঙ্গির ভিন্নতার দরুন কখনও শিক্ষক শব্দটি গুরু, উস্তাদ, মাস্টার প্রভৃতি নামেও পরিচিতি পায়।

বৈচিত্র্যময় এ পৃথিবীতে কতই না দিবস পালন করা হয়। আমরা অত্যন্ত আনন্দিত যে, এ বছর জাতীয়ভাবে শিক্ষক দিবস-২০২২ আজ ২৭ শে অক্টোবর সারা দেশে বিভিন্ন কর্মসূচীর মাধ্যমে পালিত হচ্ছে। যদিও ১৯৯৪ সাল থেকে জাতিসংঘের অঙ্গসংস্থা ইউনেস্কো তার সহযোগী দেশ সমূহে ৫ অক্টোবর বিশ্ব শিক্ষক দিবস পালনের উদ্যোগ গ্রহণ করে। একুশ শতকের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় জ্ঞান, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে দক্ষ, সৎ, কর্মঠ, দেশপ্রেমিক ও মানবিক মূল্যবোধ সম্পন্ন আধুনিক ডিজিটাল বাংলাদেশের উপযোগী যোগ্য আগামী প্রজন্ম গড়ে তোলার ক্ষেত্রে শিক্ষকদের অমূল্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে সরকার জাতীয়ভাবে এ দিবসটি পালনের উদ্যোগ গ্রহণ করে শিক্ষক সমাজকে সম্মানীত করেছেন। যা অবশ্যই সরকারের ইতিবাচক উদ্যোগ।

এবারের বিশ্ব শিক্ষক দিবসের মূল প্রতিপাদ্য ‘The transformation of education begins with teachers.’ অর্থাৎ শিক্ষকদের হাত ধরেই শিক্ষা ব্যবস্থার রূপান্তর শুরু। প্রতিপাদ্যটি খুবই যুগোপযোগী কারণ এর মাধ্যমে গোটা বিশ্ববাসীকে এই বার্তাই দেয়া হচ্ছে যে, শিক্ষার যেকোন পরিবর্তন, পরিবর্ধন বা রূপান্তর শিক্ষকদের মাধ্যমেই হতে হবে। অর্থাৎ শিক্ষকদের পরিবর্তন মানে শিক্ষার্থীদের পরিবর্তন তথা শিক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকায়ন। কেননা শিক্ষক হচ্ছেন সমাজের রোল মডেল যাকে নিঃসংকোচে অনুসরণ করা যায়।

শিক্ষা ব্যবস্থায় পরিবর্তনের হাওয়া বহমান আছে। যুগের চাহিদার সাথে মিল রেখে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে ২০৪১ সালে একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণের লক্ষ্যে ২০২৩ সালে আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায় নতুন শিক্ষাক্রম চালু হতে যাচ্ছে। যা আধুনিক বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে ডিজিটাল প্রযুক্তি নির্ভর নাগরিক ও ভার্চুয়াল নেটাগরিক তৈরিতে সহায়ক হবে বলে আশা রাখতে পারি।

পরিশেষে শিক্ষাব্যবস্থার মূল নিয়ামক হিসেবে শিক্ষকদের মানবীয় সম্মান, আর্থিক সঙ্গতি ও প্রগতিশীল বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার প্রয়োজনীয় সুবিধাদি নিশ্চিত করা সময়ের দাবি। সমৃদ্ধ হউক দেশ ও জাতি, সফল হউক সকল শিক্ষকের শিখন প্রীতি। এটাই হউক এ বছরের জাতীয় শিক্ষক দিবসের মূলনীতি।

লেখক: শিক্ষক, পঞ্চখণ্ড হরগোবিন্দ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, বিয়ানীবাজার, সিলেট।

‌মোল্লাপুর ফ্রেন্ডস্ সোসাইটির ব্যবস্থাপনা ও ইউকে ট্রাষ্টের সদস্য ফরিজ উদ্দিনের অর্থায়নে খৎনা প্রদান