বিয়ানীবাজার উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে সহকারি অফিসারসহ ১৮টি পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। এতে ওই অফিসের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জনগণ দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে। ২১জন লোকবলের জায়গায় এ অফিসে লোকবল রয়েছে মাত্র ৩জন। ফলে অফিসের কার্যক্রম চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে কর্মরতদের।

উপজেলা সমাজসেবা অফিস থেকে মুক্তিযোদ্ধা ভাতা, বয়স্কভাতা, বিধবা ভাতা, প্রতিবন্ধীভাতা, কম্পিউটার প্রশিক্ষণ ও ক্ষুদ্র ঋণ বিতরণ কার্যক্রমসহ বেশ কয়েকটি কার্যক্রম সম্পাদন করতে হয়। এ অফিসে উপজেলা সহকারি সমাজসেবা অফিসার, কম্পিউটার প্রশিক্ষক ও অফিস সহকারি- এই তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পদ শূন্য রয়েছে গত কয়েক বছর ধরে। এ ছাড়াও পদ শূন্য রয়েছে ফিল্ড সুপারভাইজার একজন, ইউনিয়ন সমাজকর্মী ৫জন, কারিগরি প্রশিক্ষক ৩জন, উচ্চমান সহকারি একজন, যুক্ত হিসাবরক্ষক একজন, ফিল্ড সুপারভাইজার একজন, ডাটা এন্টি অপারেটর একজন, নৈশ্য প্রহরী একজন, অফিস সহায়ক একজন, বার্তা বাহক একজন ও আউটসোর্সিং একজন। দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ এ পদগুলো শূন্য থাকায় অফিসের কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

জনবল সংকটের কারণে সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী কার্যক্রম যথাসময়ে বাস্তবায়ন করতে ব্যর্থ হচ্ছে উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়। বয়স্ক, বিধবা, মুক্তিযোদ্ধা ও প্রতিবন্ধী ভাতা, শিক্ষা উপবৃত্তি, ক্ষুদ্র ঋণ কার্যক্রমসহ সরকারের নানা সেবা সময় মতো পাচ্ছেন না লোকজন। সমাজসেবা অফিসে কর্মরত ইউনিয়ন সমাজকর্মী কৃষ্ণ বৈদ্য দাস বলেন, লোকবল সংকটের কারণে বয়স্ক ও বিধবা ভাতার কার্ড যথাসময়ে প্রস্তুত করা সম্ভব হয় না। ফলে গ্রাহকরাও দুর্ভোগের শিকার হয়।

বিয়ানীবাজার উপজেলা সমাজসেবা অফিসার অনুজ চক্রবর্তী বলেন, জনবল সংকট থাকার কারণে সমাজসেবা অফিসের কার্যক্রম অনেকটা ধীরগতিতে চলছে। এতে যথাসময়ে গ্রাহকদের সেবা দেওয়া অনেক সময় সম্ভব হয় না। তিনি বলেন, শূন্য পদ পূরণে কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। এলাকাবাসী যাতে দ্রুত সেবা পান, সে ব্যাপারে কর্মরতরা অতিরিক্ত কাজ করে যাচ্ছেন।