জকিগঞ্জ উপজেলা। জেলা সদর থেকে এ উপজেলার দূরত্ব প্রায় ৯১ কিলোমিটার। সীমান্তবর্তী এ উপজেলা সদরকে ১৯৯৯ সালের ১ সেপ্টেম্বর পৌরসভায় উন্নীত করা হয়। পৌর ভবন নির্মাণের জন্য মাইজকান্দি গ্রামের প্রয়াত আব্দুল মন্নান স্থানীয় সরকারের চাহিদামতো এক বিঘা জমি বিনা মূল্যে দান করেন। ২০০১ সালের ৩১ মে তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুস সামাদ আজাদ সেই জমিতে জকিগঞ্জ পৌর ভবনের ভিত্তিপ্রস্তরও স্থাপন করেন। কিন্তু ভিত্তি স্থাপনের ১৯ বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো সেখানে পৌর ভবন পূর্ণতা পায়নি।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, পৌর ভবনের এ ভিত্তিপ্রস্তর ‘ভিত্তিহীন’। নৌকা প্রতীক নিয়ে বিজয়ী বর্তমান মেয়র মো. খলিল উদ্দিন নির্বাচনের আগে মাইজকান্দির ওই স্থানে পৌর ভবন নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু এখন তাঁর ভাষ্য, ‘ভবন নির্মাণের জন্য ৫০ শতক জমি লাগে। ওইখানে আছে ২৮ শতক। ভবনের জন্য বরাদ্দ পাওয়ার পর পৌরবাসীর সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে সুবিধাজনক স্থানে পৌর ভবন নির্মাণের চেষ্টা করব।’

জকিগঞ্জ পৌর এলাকায় ৯টি ওয়ার্ডে লোকসংখ্যা প্রায় ২৫ হাজার। সাত দশমিক ২৮ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এ পৌরসভা প্রতিষ্ঠার প্রায় দুই দশক পরেও সেই গ্রাম্য কাঠামোর কোনো পরিবর্তন হয়নি। সরু একটি ভাঙাচোরা পিচঢালা রাস্তা, তার নাম ‘মেইন রোড’। যত্রতত্র রিকশা-অটোরিকশা-মিনিবাস দাঁড় করানো। পুরো শহরটিকেই বাসস্টেশন মনে হবে। এক খণ্ড ফাঁকা জায়গাকে শিশু পার্ক বলা হলেও সেটি ভরে আছে ময়লা-আবর্জনা আর ঝোপঝাড়ে। ফুটপাত দখল করে গড়ে উঠেছে অবৈধ দোকানপাট।

প্রতিষ্ঠাকালে একজন পৌর প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয় জকিগঞ্জ পৌরসভায়। উপজেলা কমপ্লেক্সের ভেতরের একটি ছোট্ট টিনশেড ঘর ভাড়া করে পৌরসভার পথচলা শুরু। এখনো সেখানেই চলছে পৌরসভার কার্যক্রম। ২০০৬ সালের ১৩ মার্চ পৌরসভার প্রথম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এরপর আরো তিনজন মেয়র নির্বাচিত হলেও এখন পর্যন্ত মাইজকান্দির ওই নির্দিষ্ট স্থানে পৌর ভবন নির্মাণের কোনো উদ্যোগ নেননি কেউ। একাধিক ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও পৌর প্রশাসনের কর্মকর্তা অভিযোগ করেন, পৌর ভবন নির্মিত না হওয়ায় সমস্যা ধীরে ধীরে মারাত্মক আকার ধারণ করছে। দিন দিন পৌরসভার কাজ ও পরিসর বাড়ছে। ফলে কক্ষ সংকটের কারণে জরুরি কাগজপত্র ও আসবাবপত্রও রাখা যাচ্ছে না। ‘গ’ শ্রেণির পৌরসভায় যে জনবল থাকার কথা, তা নেই জকিগঞ্জে। পৌরসভার দুটি রোলার ও একটি ট্রাক রাখার কোনো জায়গা না থাকায় খোলা আকাশের নিচেই এগুলো রাখতে হয়।

পৌরসভার ভিত্তিপ্রস্তর দেখতে গিয়ে দেখা যায়, ধানক্ষেতের এক পাশে আইলের মাঝে ভিত্তিপ্রস্তুরটি রয়েছে। বৃষ্টি আর রোদের কারণে সামাদ আজাদের নামফলকের লেখাগুলোও ঝাপসা হয়ে গেছে।

এক প্রশ্নের জবাবে পৌরসভা বাস্তবায়ন কমিটির তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মালেক বলেন, ‘মাইজকান্দির প্রয়াত আব্দুল মন্নান স্থানীয় সরকারের চাহিদামতো অতি মূল্যবান এক বিঘা জমি বিনা মূল্যে দান করেছেন। জমিদানের পর প্রায় ১০ বছর আব্দুল মন্নান জীবিত ছিলেন। সেই জমিতে পৌর ভবন নির্মিত না হওয়ার হতাশা নিয়েই তিনি মারা গেছেন।’

পৌরসভা বাস্তবায়ন কমিটির সহসভাপতি কাওছার রশিদ বাহার বলেন, ‘ক্ষুদ্র রাজনৈতিক বিবেচনায় ভবনটি হচ্ছে না। জনগণের বৃহত্তর স্বার্থেই দান করা জমির পাশে আরো প্রয়োজনীয় জমি কিনে পৌর ভবন করা উচিত।’

সিলেটের জেলা প্রশাসক রাহাত আনোয়ার বলেন, ‘সিলেটে আমি নতুন। সব বিষয় এখনো জানার সুযোগ হয়নি। কেন নির্দিষ্ট জায়গায় পৌর ভবন হচ্ছে না তার খোঁজখবর নেব।