প্রার্থীদের গণসংযোগ আর প্রচার-প্রচারণায় জমে উঠছে সিলেটের জকিগঞ্জ পৌরসভার নির্বাচন। প্রতিশ্রুতির ফুলঝুরি নিয়ে প্রার্থীরা ছুটছেন ভোটারের দ্বারে দ্বারে। প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন পরিছন্ন আধুনিক পৌরসভা গড়ার। প্রত্যেকেই নির্বাচনে জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদি। প্রার্থীরা প্রতিশ্রুতির ফুলঝুরির বিপরীতে ভোটাররা বলছেন, জনদরদী সৎ ও যোগ্য প্রার্থীকেই মেয়রপদে বেছে নেবেন তারা। প্রতীকে নয় প্রার্থীর উপর আস্থা রাখতে চান সাধারণ মানুষ।

শহরের রাস্তাঘাট, অলিগলি ও পাড়া-মহল্লা এখন স্লোগানমুখর। প্রচার-প্রচারণায় জমে উঠেছে ভোটযুদ্ধ। ব্যানার-ফেস্টুনে ছেয়ে গেছে পুরো শহরসহ ওয়ার্ডগুলো। চায়ের দোকান থেকে শুরু করে বসতবাড়িতেও এখন আলোচনার বিষয় শুধু নির্বাচন। প্রার্থীরা ভোট চেয়ে চষে বেড়াচ্ছেন নির্বাচনী এলাকায়।

নির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টিসহ মোট ৮জন প্রার্থী অংশ নিয়েছেন। আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়রপ্রার্থী ও বর্তমান মেয়র বীরমুক্তিযোদ্ধা হাজী খলিল উদ্দিন ব্যাপক গণসংযোগ করে বেড়াচ্ছেন। তিনি জানান, আবারও মেয়র নির্বাচিত হলে অসমাপ্ত কাজকে সমাপ্ত করবেন।

সমানভাবে প্রতিটি এলাকায় গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন বিএনপি মনোনীত মেয়রপ্রার্থী সাবেক মেয়র ইকবাল আহমদ তাপাদার ও জাতীয় পার্টির মেয়রপ্রার্থী সাবেক মেয়র আব্দুল মালেক ফারুক। দুজনই নির্বাচনের ব্যাপারে আশাবাদী হয়ে বলেন, নির্বাচিত হলে তাদের অতীতের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে পৌরসভার উন্নয়ন করবেন। রেখে যাওয়া অসমাপ্ত কাজগুলো সমাধান করতে চান।

দলীয় মেয়রপ্রার্থীদের সাথে পাল্লা দিয়ে সমানতালে মাঠে চষে বেড়াচ্ছেন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ফারুক আহমদ, আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী আব্দুল আহাদ, বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী এডভোকেট আব্দুল্লাহ আল মামুন হীরা, স্বতন্ত্র প্রার্থী হিফজুর রহমান, স্বতন্ত্র প্রার্থী জাফরুল ইসলাম। ভোটের হিসেব-নিকেশে আওয়ামী লীগ বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীরা বড় প্রভাব ফেলার সম্ভাবনা রয়েছে। বিদ্রোহীদের নিয়ে আলোচনা সর্বত্র চলছে। স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও তাদের মত করে প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন। ভোটারদেরকে নানা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন তারাও। নির্বাচিত হলে পৌরবাসীর ভাগ্য উন্নয়নে কাজ করার অঙ্গীকার দিচ্ছেন।

একইভাবে নিজ নিজ প্রতীকে ভোট প্রার্থনা করে পাড়া-মহল্লা চষে বেড়াচ্ছেন কাউন্সিলর প্রার্থীরাও। ৯টি ওয়ার্ডে পুরুষ কাউন্সিলর পদে ৩৩ জন ও সংরক্ষিত পদে ৯ জন রয়েছেন। সবাই নিজ নিজ প্রতীকে ভোট দিতে ভোটারদের কাছে অনুরোধ জানাচ্ছেন। পিছিয়ে নেই মহিলা প্রার্থীরা। তারাও ঘরে ঘরে গিয়ে ভোট প্রার্থনা করছেন। আগামী ৩০ জানুয়ারী সিলেটের সীমান্তবর্তী জকিগঞ্জ পৌরসভায় ভোট গ্রহণ হবে। এবার মোট ভোটার ১২ হাজার ৩৪৫ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৬হাজার ৩ জন এবং মহিলা ৬ হাজার ৩৪২ জন।

সহকারী রির্টানিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা সাদমান সাকীব বলেন, নির্বাচনে এখন পর্যন্ত উৎসবমুখর পরিবেশ রয়েছে। সকল প্রার্থীই নির্বাচনের আচরণবিধি মেনে প্রচার-প্রচারণা করছেন। ভোটের আমেজ বজায় রাখতে সব প্রার্থীই আন্তরিক।

এবিটিভির সর্বশেষ প্রতিবেদন-

গোলাপগঞ্জে মাথা গোজার ঠাঁই পাচ্ছে ২০০ ভূমিহীন পরিবার