জকিগঞ্জের কসকনকপুর ইউনিয়নের হাফিজ মজুমদার বিদ্যানিকেতনের কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে বুধবার দু’পক্ষ মুখোমুখি অবস্থান নিয়েছে। বুধবার সকালে বিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে উভয়পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়েছে। এ সময় দু’জন শিক্ষকও লাঞ্ছিত হয়েছেন। ঘটনার প্রতিবাদে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জন করে সিলেট-জকিগঞ্জ সড়কে বিক্ষোভ করেছে।

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মাজহারুল হক জানান, আবদুল মুকিত চৌধুরী, নজরুল ইসলাম, শিক্ষক মামুনুর রশিদ ও প্রধান শিক্ষক মাজহারুল হকের সমন্বয়ে সিলেট মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড কর্তৃপক্ষ ১৯ আগস্ট বিদ্যালয়ের অ্যাডহক কমিটি গঠন করে দেয়। সেই কমিটির প্রথম সভা ছিল বুধবার সকাল ১১টায়। বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সাবেক সভাপতি আফজল হোসেন একই দিনে একই সময়ে বিদ্যালয়ে অভিভাবক সমাবেশ আহ্বান করে এলাকায় মাইকিং করেন। এ নিয়ে উত্তেজনা দেখা দেয়। বিষয়টি অ্যাডহক কমিটি মঙ্গলবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে লিখিতভাবে অবহিত করে। অ্যাডহক কমিটির সভা শুরুর আগেই সাবেক কমিটির সভাপতি আফজল হোসেনের নেতৃত্বে শামসুল হক, নজরুল ইসলাম, কেএম বদরুল হাসান, এনাম উদ্দিন বিদ্যালয়ে প্রবেশ করেন। তারা ছুটির ঘণ্টা বাজিয়ে শিক্ষার্থীদের ক্লাস থেকে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষ ত্যাগ না করার কথা বলার এক পর্যায়ে সাবেক কমিটির সদস্যদের হাতে বিদ্যালয়ের দুই শিক্ষক লাঞ্ছিত হন। শিক্ষক লাঞ্ছিত হওয়ার প্রতিবাদে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ক্লাস ছেড়ে বিক্ষোভ করেছে।

খবর পেয়ে জকিগঞ্জের ইউএনও বিজন কুমার সিংহ, জকিগঞ্জ থানার ওসি হাবিবুর রহমান হাওলাদার ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

সাবেক কমিটির সদস্য কেএম বদরুল হাসান জানান, ৩০ জুন বিদ্যালয়ের ১১ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। সেই কমিটিকে পাশ কাটিয়ে শিক্ষা বোর্ড যে অ্যাডহক কমিটি দিয়েছে এলাকাবাসী ও অভিভাবকরা সে কমিটি না মানায় বুধবার অভিভাবক সমাবেশ করা হয়েছে। বিদ্যালয়ের ছুটির ঘণ্টা বাজানো কিংবা শিক্ষক লাঞ্ছিত করার কথা তিনি অস্বীকার করেন।