সারাদেশে করোনা সংক্রমণ বাড়তে শুরু করলেও সিলেটের সীমান্ত উপজেলা জকিগঞ্জে স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষিত হচ্ছে। প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপের পরও সাধারণ মানুষের মধ্যে মাস্ক পরা ও সামাজিক দূরত্ব রক্ষাসহ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে বেশি অনীহা দেখা যাচ্ছে।

বৃহস্পতিবার জকিগঞ্জ পৌর শহরসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে উপেক্ষার এমন চিত্র দেখা যায়। তবে উপজেলা প্রশাসন কঠোর অবস্থানে ছিলো। বিকেলের দিকে পুলিশ-বিজিবি সদস্যদের নিয়ে মাঠে নামেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পল্লব হোম দাস। তিনি প্রথমে সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মানার আহবান জানালেও লোকজন তাতে সাড়া না দেয়ায় পরে বিভিন্ন ব্যক্তি ও ব্যবসা প্রতিষ্টানকে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে পৃথক ৯টি মামলা দিয়ে মোট ১৩ হাজার ৯শ টাকা জরিমানা আদায় করেন। এ সময় শহর থেকে লোকজনকে বাড়ি মুখি করতে প্রায় ৪/৫ ঘন্টা পুরোটি শহরে অভিযান চালান।

জকিগঞ্জ শহরসহ আশপাশের হাটবাজার ঘুরে দেখা গেছে, মাস্ক ছাড়াই বাজারে ঘোরা-ফেরা করছেন অনেকে। বিক্রেতাদের মধ্যেও রয়েছে মাস্ক না পরার প্রবণতা। শহরের মাছ বাজার, সবজি বাজার, নিত্যপন্যর দোকান, ফুটপাতে ফল বিক্রির দোকানে ভিড় ছিলো মারাত্মক। তাছাড়াও অযথাই ঘুরতে দেখা গেছে বেশিরভাগ লোকজনকে। স্বাস্থ্যবিধি মানার বিষয়ে তেমন কোনও ভ্রুক্ষেপ নেই তাদের মাঝে। অনুরোধ করেও প্রশাসন তাদেরকে বাড়ি মুখি করাটা ছিলো অনেকটা কষ্টসাধ্য।

কাঁচাবাজারের মাছ বিক্রেতা ময়নুল মিয়া বলেন, যতটুকু সম্ভব স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলি। কিন্তু তার মুখেই ছিল না মাস্ক। মাস্ক কোথায় প্রশ্ন করলে তিনি পেছন থেকে একটি মাস্ক বের করে বলেন, এই যে আছে। একটু আগে খুলে রেখেছিলাম। সবজি বিক্রেতা সবুজ- তারও মুখে মাস্ক ছিল না। মাস্ক খোলা অবস্থাতেই দোকানে ক্রেতার ভিড় বাড়াতে হাঁকডাক করছিলেন তিনি। মাস্কের কথা জিজ্ঞেস করতেই তিনি বলেন, মাস্ক আছে। মাস্ক পরে লোকজনের সাথে কথা বলা যায় না। কথা বললে কেউ বুঝে না। সেজন্যই মাস্ক খুলে রেখেছিলাম।

বাজার করতে আসা রিপন আহমদ বলেন, ‘যে হারে করোনার সংক্রমণ বাড়ছে, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা-ফেরা করতে হবে আমাদের। কিন্তু অনেকেই মাস্ক পরছেন না। স্বাস্থবিধি না মেনেই ঘোরা-ফেরা করছেন। এসব দেখে নিজের কাছেই অনেকটা খারাপ লাগে। তবে আমাদের আরও সচেতন হওয়া প্রয়োজন।

এদিকে, শহরসহ হাট বাজারে প্রশাসনের কঠোর তৎপরতার কারণে পাড়া-মহল্লায়ও দেখা গেছে নানা বয়সী মানুষের আড্ডা। বেশির ভাগ মানুষের মুখে নেই মাস্ক। পাড়া-মহল্লার দোকানী, ফেরিওয়ালাসহ বেশির ভাগ ক্রেতা বিক্রেতা স্বাস্থ্যবিধি না মানতে দেখা গেছে।

অভিযান শেষে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পল্লব হোম দাস জানান, দেশের অবস্থা মারাত্মক খারাপ হওয়ার পরও সাধারণ লোকজন যে এতটা অসচেতন তা দেখে ভয় লাগে। এভাবে চলাফেরা করলে অবস্থা খুবই ভয়াবহ হবার আশঙ্কা আছে। প্রশাসন অতীতের চাইতে এখন আরও বেশি কঠোর অবস্থানে থাকবে। বৃহস্পতিবার বিভিন্নজন ও ব্যবসা প্রতিষ্টানে স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষিত হওয়ার দায়ে জরিমানা করা হয়েছে।

তিনি বলেন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাচলসহ সরকারের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী ব্যবসা করার জন্য জকিগঞ্জের লোকজনকে বার বার অনুরোধের পরও তাতে সাড়া পাওয়া যায়না। আমরা চাইনা প্রান্তিক লোকজনকে জরিমানা করতে কিন্তু যখন কোনভাবেই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়না তখন বাধ্য হয়ে শাস্তি দিতে হয়।

এবিটিভির বিশেষ প্রতিবেদন

নিখোঁজের ২৫ বছর পর বাড়ি ফিরলেন বিয়ানীবাজারের আব্দুর রাজ্জাক