সিলেটের জকিগঞ্জে শুভ্রা রানী দাস নামের এক গৃহবধূর মৃত্যু নিয়ে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। শ্বশুরবাড়ির লোকজন স্বাভাবিক মৃত্যু বললেও ওই গৃহবধূ্র পরিবারের অভিযোগ, যৌতুক দিতে না পারা এবং এক আত্মীয়ার সাথে স্বামীর প্রেমের সম্পর্কের কারণে শুভ্রাকে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা করা হয়েছে। স্বাভাবিক মৃত্যু বলে রাতারাতি শুভ্রাকে দাহ করা হয়।

গত ৩ জুন মধ্যরাতে উপজেলার কসকনপুর ইউনিয়নের পূর্ব কসকনপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পরে এ ঘটনায় গত ৯ জুন শুভ্রা রানী দাসের মৃত্যুর রহস্য উদঘাটন এবং জড়িতদের বিচারের দাবি জানিয়ে জকিগঞ্জ থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন ওই গৃহবধূর বড়ভাই সুমিত কুমার দাস।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি জকিগঞ্জ উপজেলার কসকনপুর ইউনিয়নের পূর্ব কসকনপুর গ্রামের গোপাল চন্দ্র দাসের সঙ্গে বিয়ে হয় বিয়ানীবাজার উপজেলার লাউতা ইউনিয়নের জলঢুপ কিসমত গ্রামের মৃত সুনিল কুমার দাসের মেয়ে শুভ্রা রানী দাসের। গোপাল চন্দ্র দাস পেশায় টাইলস মিস্ত্রী। বিয়ের পর থেকেই শুভ্রা বুঝতে পারে তার স্বামী একজন চরিত্রহীন পুরুষ। একাধিক নারীর সাথে অনৈতিক সম্পর্কও রয়েছে তার। এনিয়ে বিয়ের দুই মাস পর থেকে স্বামীর সাথে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। রাত করে বাড়ি ফিরে শুভ্রাকে শারিরীক নির্যাতন শুরু করে গোপাল চন্দ্র দাস। সময়ে সাথে সাথে উঠে আসে তালতো বোনের সাথে গোপাল চন্দ্র দাসের দীর্ঘদিনর প্রেমের সম্পর্কে কথা। এর মধ্যে করোনা প্রাদুর্ভাবের কারণে কাজ না থাকায় গোপাল চন্দ্র দাস তার ভাই ও বৌদির প্ররোচনায় পিত্রালয় থেকে যৌতুকের টাকা আনতে শুভ্রাকে চাপ দিতে থাকে। শুভ্রা রাজি না হলে নির্যাতন করে গোপাল চন্দ্র দাস। এক পর্যায়ে নির্যাতন সইতে না পেরে ভাইয়ের কাছে টাকার আবদার করে সে।

অভিযোগ সূত্রে আরও জানা গেছে, যৌতুকের ব্যাপারটি নিয়ে শুভ্রা তার ভাইদের সাথে আলাপ করলেও তারা করোনা দুর্যোগ কেটে গেলেই টাকার ব্যবস্থা করে দেবে বলে জানায়। পরে গত ৩ জুন রাত সাড়ে ১০টার দিকে গোপালের বড়ভাই রাখাল চন্দ্র দাস হঠাৎ মুঠোফোনে কল দিয়ে শুভ্রার ভাই সুপ্রিয় দাসকে জানান যে তার বোন অসুস্থ হয়ে পড়েছে। মিনিট ত্রিশেক যেতে না যেতেই আবারো সুপ্রিয়কে কল দিয়ে শুভ্রার মৃত্যুর খবর জানান তিনি। বোনের মৃত্যুর খবর শুনেই পরিবার-পরিজন নিয়ে এদিন রাতে জকিগঞ্জে ছুটে যান সুপ্রিয়। তখন শুভ্রা স্বামীর পরিবারের লোকজন তাদের মাধ্যমে শুভ্রার গোসল করতে বাঁধা দেন। শশ্বান ঘাটে নেয়ার পূর্বে শুভ্রার গলার নিচে একটি আঘাতের চিহ্ন দেখতে পান সুমিত-সুপ্রিয় ও তাদের পরিবার। এসময় তার বোনের স্বামীর বাড়ির লোকজনের মরদেহ দাহ করতে তাড়াহুড়ো, বাচনভঙ্গি ও কার্যকলাপে তাদের সন্দেহজনক হওয়ায় তারা আইনগত প্রতিকার চেয়ে জকিগঞ্জ থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে জকিগঞ্জ থানার ওসি মীর মো. আব্দুন নাসের বলেন, গৃহবধূর মৃত্যুর খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে পরিদর্শন করি। মরদেহের সুরতহাল রিপোর্ট শেষে এটা স্বাভাবিক মৃত্যুই মনে হয়েছে। মরদেহের শরীরের কোন আঘাতের চিহ্ন নেই। তবুও ওই গৃহবধূর স্বামী এবং পিত্রালয়ের স্বজনদের সাথে আলাপ ও সমঝোতার মাধ্যমেই ময়নাদতন্ত ছাড়াই মরদেহ দাহ করা হয়। তিনি বলেন, মৃত্যুর ৫ দিন পর গৃহবধূর স্বজনরা থানা এসে একটি অভিযোগ দিয়েছেন। আমরা সেই অভিযোগের ভিত্তিত্বে তদন্ত করেও এখানে অন্য কিছুই পাইনি। তিনি আরও বলেন, তবে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যার যদি কোন তথ্য-প্রমাণ আমরা পাই, তাহলে সেক্ষেত্রেও আমরা প্রয়োজনীয় আইনী পদক্ষেপ গ্রহণ করবো।

এবিটিভির সর্বশেষ প্রতিবেদন-

দুঃসময়ে অসহায়দের সেবা দিচ্ছে বিয়ানীবাজার ক্যান্সার এন্ড জেনারেল হাসপাতাল