জকিগঞ্জ উপজেলার ৩নং কাজলসার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জুলকারনাইন লস্করের বিরুদ্ধে ভুয়া প্রকল্প দেখিয়ে ১০ লাখ ৭৪ হাজার টাকা আত্মসাৎ ও বিভিন্ন প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগে জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে এলাকাবাসী। এ নিয়ে ক্ষুব্ধ ইউনিয়নের লোকজন। বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দিয়ে কোনো প্রতিকার না পেয়ে সিলেটের জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেছেন ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের মানুষ। এর আগে টাকা আত্মসাতের পর গত মাসে এলাকার লোকজন চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে রতনগঞ্জ বাজারে মিছিল সমাবেশও করে। যে স্থানে দুটি প্রকল্প দেখিয়ে ইউপি চেয়ারম্যান টাকা আত্মসাৎ করেন সেই স্থানে আগেই স্থানীয় এমপি সেলিম উদ্দিন একটি প্রকল্প উদ্বোধন করেন। যা বাস্তবায়ন করে বিএডিসি।
বৃহস্পতিবার জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, ইউপি চেয়ারম্যান বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ না করিয়ে শ্রমিকদের টাকা আত্মসাৎ করেছেন। এরমধ্যে রয়েছে চারিগ্রাম-সাদিখাল পুনঃখনন (দেড় কিলোমিটার) প্রকল্প। ইউপি চেয়ারম্যান জুলকারনাইন গত ৮ জানুয়ারি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বরাদ্দপত্র পেয়ে ২২ জানুয়ারি পরিষদের সভা আহ্বান করেন। সভায় ২৪৪টি কার্ডের বিপরীতে প্রথম পর্যায়ে ৮টি ও ২য় পর্যায়ে ৭টি প্রকল্প গ্রহণ করে ২৬ জানুয়ারি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে প্রেরণ করেন। দ্বিতীয় পর্যায়ের বরাদ্দ আসার আগেই ২৯ মার্চ স্থানীয় এমপি সেলিম উদ্দিন বিএডিসির উদ্যোগে চারিগ্রাম-সাদিখাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করেন। পরে খালের তীরে রাস্তা ও একটি বাঁধও নির্মাণ করা হয়। অথচ ইউপি চেয়ারম্যান আগে দাখিলকৃত তালিকার দুটি প্রকল্প পরিবর্তন করে ১৮ এপ্রিল উপজেলা অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচির কমিটির সভায় বিএডিসি কর্তৃক বাস্তবায়িত প্রকল্পের ওপর দুটি ভুয়া প্রকল্প তৈরি করে অনুমোদন নেন। এগুলো হচ্ছে সাদিখাল রাস্তা মাটি দ্বারা উন্নয়ন ও রায়গ্রাম নজরুল মিয়ার বাড়ি থেকে সাদিখাল রাস্তা মাটি দ্বারা উন্নয়ন প্রকল্প। এ দুটি প্রকল্পে ১১৯ শ্রমিকের নাম ও ছবি ব্যবহার করে ভুয়া ব্যাংক হিসাব ও মাস্টাররোল তৈরি করে মাসখানেক আগে ১০ লাখ ৭৪ হাজার টাকা উত্তোলন করেন ইউপি চেয়ারম্যান। ওই প্রকল্পটি বিএডিসি আগেই বাস্তবায়ন করেছে। যাতে এমপি কর্তৃক উদ্বোধনের নামফলক এখনও বিদ্যমান। এছাড়া স্মারকলিপিতে ২০১৬-১৭ অর্থবছরের কাবিটা প্রথম ও দ্বিতীয় পর্যায়ে দরিদ্রদের জন্য বরাদ্দকৃত সোলার প্যানেল তালিকায় এলাকার বিত্তবান ব্যক্তির নামে বরাদ্দেরও অভিযোগ করা হয়। এরমধ্যে চারিগ্রামের আবদুল হান্নান, ছাবি্বর আহমদ, আহমদ আলী হাসানসহ কয়েক বিত্তবান ব্যক্তি রয়েছেন। স্মারকলিপিতে চারিগ্রামের গোলাম মোস্তফা, পলাশপুরের ফারুক আহমদ, মরিচা গ্রামের জামাল আহমদসহ ইউনিয়নের বিভিন্ন ব্যক্তি স্বাক্ষর করেন। স্মারকলিপিতে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা দিয়ে বিষয়টি তদন্ত করে আত্মসাৎকৃত টাকা উদ্ধার ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি করেন এলাকাবাসী। অভিযোগ প্রসঙ্গে ইউপি চেয়ারম্যান জুলকারনাইন লস্কর বলেন, তিনি কোনো টাকা আত্মসাৎ করেননি। ওই প্রকল্পে শ্রমিকরা কাজ করে টাকা পেয়েছে। তিনি জানান, এর আগেও তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে।