বিয়ানীবাজারের এক দালালসহ চারজন দালালের মাধ্যমে ইমন দুবাই হয়ে লিবিয়া যান। সেখানে দীর্ঘ তিনমাস অপেক্ষার পর গত ১৭ জুন লিবিয়া থেকে ইটালী যাওয়ার পথে ভূ-মধ্য সাগরে তাকে বহনকারি নৌকা ডুবে যাওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে ইমনসহ সত্তর জন বাংলাদেশী যুবক সাগরে ডুবে যান। তাদের মধ্যে ৪০জনকে লিবিয়া কোস্টগার্ড উদ্ধার করেছে।

বিয়ানীবাজার পৌরসভার ফতেহপুর এলাকার ক্বারী আব্দুল খালিকের পুত্র হুমায়ুন রশিদ ইমন লিবিয়া থেকে ইটালী যাওয়ার পথে নৌকা ডুবিতে মারা গেছে খবর প্রকাশিত হয়েছে। যদিও তার পরিবার মারা যাওয়ার বিষয়টি উড়িয়ে দিয়েছে। পরিবারের সদস্যরা বলছেন ইমন নিখোঁজ রয়েছে।

ইমনের পরিবার, তার স্বজন ও একাধিক সূত্রে জানা যায়ম ইমন লিবিয়া যাওয়ার পেছনের চারজন দালাল কাজ করেছেন। এদের মধ্যে বিয়ানীবাজারের মিন্টু নামের এক দালাল রয়েছেন। তার মাধ্যমে ঢাকার সোহাগ এবং লিবিয়ার আফজল ও দুলাল নামের দালাল সম্পৃক্ত। ইমনকে লিবিয়া হয়ে ইটালী কিংবা স্পেন পাঠাতে দালালদের সাথে পরিবারের সদস্যরা ৭ লাখ টাকার চুক্তি করেন। এ টাকাও দালালদের দিয়ে দেয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

গত ১৭ জুন পরিবারের সাথে শেষ কথা বলে ইমন। সে ওই রাতে নৌকায় করে ইটালীর উদ্দেশ্যে লিবিয়া থেকে যাত্রা করে। ভূমধ্য সাগরে তাদের নৌকা ডুবে গেলে ইমনসহ ৭০ বাংলাদেশী নিখোঁজ হন। এদের মধ্যে ৪০জনকে উদ্ধার করেছে লিবিয়ার কোস্টগার্ড।

ইমনের ছোট ভাই হাসানুর রশিদ স্বপন বলেন, নয়দিন থেকে আমাদের সাথে যোগাযোগ হয়নি। শুনেছি লিবিয়া প্রবেশের পর ভাইয়ের পার্সপোট পরিবর্তন করা হয়েছে। নতুন পাসর্পোটে জাহাঙ্গীর নাম। আমরা চেষ্টা করছি সেখানকার অধিবাসীদের সাথে যোগাযোগ করে ভাইয়ের খোঁজ নেয়ার। তিনি জানান, আফজল নামের একজন লিবিয়া থেকে গত কিছু দিন আমাদের সাথে যোগাযোগ করেছেন। গতকাল সোমবার থেকে তার সাথে আর যোগাযোগ করা সম্ভব হচ্ছে না। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ভাই লিবিয়ার যাওয়ার পর থেকে আফজল নামের ব্যক্তির তত্ত্বাবধানে ছিলেন। তার সাথে যোগাযোগ হয় স্থানীয় মিন্টু ও ঢাকার সোহাগের মাধ্যমে।