এবার সমালোচনার মুখে নিজেই সিসিকের সামনে দৃষ্টিনন্দন স্থাপনাশৈলীতে নির্মিত চত্বরকে ‘কামরান চত্বর’ নামকরণের প্রস্তাব দিলেন মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। নগর চত্বর হিসেবে এ চত্বরকে নামকরণ করার পর পর সিলেটের ছাত্রলীগ-যুবলীগের পক্ষ থেকে শুরু হয় বিক্ষোভ। দাবি উঠে এ চত্বরকে কামরান চত্বর হিসেবে ঘোষণা করার। তাদের দাবির সাথে একাত্মতা প্রকাশ করেন সিলেটের মানুষ। পরে অনেকটা বাধ্য হয়েই নগর ভবনের সামনে নির্মিত নতুন এ চত্বরকে ‘কামরান চত্বর’ হিসেবে নামকরণের জন্য প্রস্তাব দেন সিলে সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী।

মঙ্গলবার ( ২৮ জুলাই) বিকালে নগর ভবনে এক প্রেস ব্রিফিং এর মাধ্যমে এ নামকরণের প্রস্থাব দেন আরিফুল হক চৌধুরী।

তিনি বলেন, ৯ মাস আগে থেকে আমাদের কাছে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির নামের প্রস্তাব এসেছে এই পয়েন্টে নামকরণের জন্য। তখন আমাদের সাবেক মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরান বেঁচে ছিলেন। কামরান ভাইয়ের মৃত্যুর পর উনার ছেলে শিপলু আমাকে বলেছিলো, আঙ্কেল আমার বাবার নামে কোনো প্রতিষ্ঠানের নামকরণ করলে ভালো হয়। এদিকে এই চত্বর নির্মাণে অর্থায়ন করেছে একটি বেসরকারি ব্যাংক। তাদের সুবিধার্থে তাড়াহুড়ো করে চত্বরটি উদ্বোধন করা হয়েছে। তবে নামকরণ করা হয়নি। সিটি পয়েন্টকেই বাংলায় নগর চত্বর বলে অভিহিত করা হয়েছে। চলমান অবস্থার প্রেক্ষিতে আমরা মঙ্গলবার সকল কাউন্সিলরদের নিয়ে সাধারণ সভা করেছি। এ সভায় আমি এই চত্বরের নাম ‘কামরান চত্বর’ হিসেবে প্রস্তাব করেছি। আমাদের সকল কাউন্সিলর এতে সম্মতি প্রদান করেছেন। নামকরণের জন্য একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছে। কমিটির সিদ্ধান্তের পর মন্ত্রণালয়ে নামের প্রস্তাব পাঠানো হবে। বলেও জানান তিনি।

এর আগে গত ২৬ জুলাই রোববার রাতে নগরভবনের সামনে নবনির্মিত চত্বরকে ‘নগর চত্বর’ হিসেবে নামফলক লাগিয়ে উদ্বোধন করেন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। এর পর থেকেই তা নিয়ে শুরু হয় সমালোচনা। পরে সোমবার দুপুরে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য প্রয়াত বদর উদ্দিন আহমদ কামরানের নামে নগরভবনের সামনে নবনির্মিত চত্বর নামকরণে দাবিতে সিলেটে বিক্ষোভ করে যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবকলীগ। বিক্ষোভে বন্দরবাজারস্থ নবনির্মিত চত্বরকে ‘কামরান চত্বর’ হিসেবে নামকরণ করার জোর দাবি তুলেন।

এদিকে ১৫ জুন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সিলেট সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য বদর উদ্দিন আহমদ কামরান মারা যান। তাঁর মৃত্যুর পর থেকেই তাঁর স্মৃতিরক্ষার্থে সিলেট নগরীর একটি চত্বর কিংবা সড়ক কামরানের নামকরণের দাবি জানিয়ে আসছিলেন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। এরই ধারাবাহিকতায় সিলেট সিটি কর্পোরেশন ও হাসান মার্কেটের সামনের চত্বরকে ‘কামরান চত্বর’ নামকরণের প্রস্তাবও করা হয়। এমনকি মেয়র নিজেই সম্মতি দিয়েছিলেন সদ্যপ্রয়াত বদর উদ্দিন আহমদ কামরানের স্মৃতিরক্ষার্থে কিছু একটি করবেন। তখন থেকেই বন্দরবাজার পয়েন্টে নির্মিত নতুন চত্বরটি বদর উদ্দিন আহমদ কামরানের নামে নামকরণ হবে এমন প্রত্যাশা করেছিলেন সিলেটের মানুষ। কিন্তু শেষমেশ রাতের আঁধারে ঝলমলে বাতি জালিয়ে ‘নগর চত্বর’ হিসেবে নামকরণের পর থেকে আওয়ামী লীগ পরিবারে শুরু হয় ক্ষোভ যার প্রমাণ মিলে আন্দোলনে আর সচেতন মহলে শুরু হয় সমালোচনা।

তথ্যসূত্র- সিলেট ভয়েজ।

এবিটিভির সর্বশেষ প্রতিবেদন-

গোলাপগঞ্জে সরকারি কাজে অনিয়ম, এলাকাবাসীর বাধার মুখে কাজ বন্ধ