মৌলভীবাজার-চান্দগ্রাম (বড়লেখা) আঞ্চলিক মহাসড়কে সংস্কার কাজের ধীরগতির কারণে সড়ক দিয়ে চলাচলকারী মানুষের ভোগান্তি বাড়ছে। সংস্কার কাজ শুরুর পর রাস্তার বড়লেখা পৌর শহর অংশে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বড় পাথর ও বালুর মিশ্রণে প্রাথমিক কারপেটিং করে (মেকাডাম লেয়ার) রাখায় বৃষ্টির সময় কাদা ও অন্য সময় ধুলায় আচ্ছন্ন হয়ে যায় শহর। ফলে সড়ক দিয়ে চলাচলকারী লোকজনের ভোগান্তি দীর্ঘায়িত হয়েছে। ছোট-বড় যানবাহনগুলো ঝুঁকি নিয়ে এই সড়ক দিয়ে চলছে। তা ছাড়া, পৌর শহরের বাজার অংশে বালুর পরিবর্তে মাটি ও নিম্নমানের পাথর ব্যবহারের অভিযোগ করছে স্থানীয় ভুক্তভোগী লোকজন।

অপর দিকে, এ সড়কের চান্দগ্রাম থেকে জুড়ী কুইয়াছড়ি ব্রিজ পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে ক্ষতিগ্রস্ত সড়কের সংস্কার কাজ শুরুই করেনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। শুধুমাত্র বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলোয় মাটি ও পাথর দিয়ে উঁচু করা ছাড়া দৃশ্যমান কোনো কাজ হয়নি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মৌলভীবাজার-চান্দগ্রাম (বড়লেখা) আঞ্চলিক মহাসড়ক দিয়ে প্রতিদিন কয়েক হাজার মানুষ চলাচল করেন। চান্দগ্রাম থেকে জুড়ী কুইয়াছড়ি ব্রিজ পর্যন্ত দৈর্ঘ্য প্রায় ২৫ কিলোমিটার। গত বছরে কয়েক দফা বন্যার পানি এই সড়কের সফরপুর, হাতলিঘাট, কুয়াইয়াছড়ি এলাকায় ওঠে সড়কটি বিধ্বস্ত হয়ে পড়ে। সড়কের বড়লেখা পৌর শহরের বাজার এলাকা ও চান্দগ্রাম-থেকে কুইয়াছড়ি ব্রিজ পর্যন্ত বিভিন্ন অংশে রাস্তা ভেঙেচুরে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সড়কটির রাজনগর উপজেলার চৌমুহনী থেকে বড়লেখা চান্দগ্রাম পর্যন্ত (শহর অংশ) প্রায় ১৪ দশমিক ৪ কিলোমিটার সড়ক ও একটি ব্রিজের নির্মাণকাজ যৌথভাবে পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তমা কন্সট্রাকশন, মো. বাশী ও জামিল ইকবাল। এই প্রকল্পে বড়লেখা পৌর শহরের বাজার এলাকাসহ প্রায় ১ দশমিক ৫ কিলোমিটার কাজ পেয়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জামিল ইকবাল।

অপরদিকে, গত মে মাসে বড়লেখায় মৌলভীবাজার-চান্দগ্রাম (বড়লেখা) আঞ্চলিক মহাসড়কের রাজনগর থেকে চান্দগ্রাম পর্যন্ত ওভারলে, সংস্কারকরণ ও পৌর শহরের ড্রেনেজ নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করা হয়। সড়ক বিভাগের বাস্তবায়নে তিনটি প্যাকেজের এ কাজে সরকারের ব্যয় হবে প্রায় ৭১ কোটি টাকা। বিভিন্ন গ্রুপে ঠিকাদাররা এ কাজ পেয়েছেন। কিন্তু উদ্বোধনের প্রায় ৫ মাস অতিবাহিত হলেও সংস্কার কাজ চলছে ধীর গতিতে।

সরেজমিনে গত সোমবার দেখা গেছে, মৌলভীবাজার-চান্দগ্রাম (বড়লেখা) আঞ্চলিক মহাসড়কের চান্দগ্রাম থেকে জুড়ী কুইয়াছড়ি ব্রিজ পর্যন্ত প্রায় ২৫ কিলোমিটার সড়কের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলো উঁচু করার কাজ চলছে। এ ছাড়া, পৌর শহরের বাজার অংশে বালু ও পাথর মিশ্রণে মেকাডাম লেয়ারের কাজ করে রাখা আছে। অন্য স্থানগুলো আগের অবস্থায় রয়েছে। কয়েকটি স্থানে নতুন করে পিচ উঠে মাটি বেরিয়ে গেছে।

সড়ক দিয়ে প্রতিদিন মোটরসাইকেলে আসা-যাওয়া করেন কাঁঠালতলী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক লুত্ফুর রহমান। তিনি বলেন, ‘সড়কে সংস্কার কাজ শুরু হলেও তা খুব ধীরগতিতে হচ্ছে। দ্রুত সংস্কার কাজ শেষ হলে মানুষজন এ দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পাবে। তা-না হলে জনদুর্ভোগ বাড়বে।’

সিলেট লিডিং ইউনিভার্সিটির প্রাক্তন শিক্ষার্থী ইফতে খায়রুল বাশার বাবলু বলেন, ‘প্রায় দেড় বছরের বেশি সময় থেকে রাস্তাটি ভাঙা। আগে সিলেট যেতে দুই ঘণ্টা লাগত, এখন তিন থেকে চার ঘণ্টা লাগে।’

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জামিল ইকবালের স্বত্বাধিকারী সামাদ আহমদ বলেন, ‘বৃষ্টির জন্য কাজ বিলম্বিত হয়েছে। কাজ হস্তান্তরের মেয়াদ এখনো এক বছরের উপর আছে। তারপরও আগামী জুনের আগেই রাস্তা ও ব্রিজের কাজ হস্তান্তর করা হবে।’

সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ মৌলভীবাজার কার্যালয়ের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. রাশেদুল হক বলেন, ‘আবহাওয়া পরিস্থিতর কারণে কাজ বিলম্ব হচ্ছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মালামাল নিয়ে প্রস্তুত। মাস দেড়েকের মধ্যে বড়লেখা শহর অংশের কাজ শেষ করার চেষ্টা করা হবে। এছাড়া অন্য অংশগুলোও দ্রুত কাজ শেষ করা হবে।’

সুত্র-দৈনিক ইত্তেফাক।