চার বছরেরও বেশি সময় ধরে বিয়ানীবাজার-চন্দরপুর সড়কে দুর্ভোগ-ভোগান্তি শেষ হচ্ছে না। বিভাগীয় ও জেলা শহর সিলেটের সঙ্গে যোগাযোগের বিকল্প এ সড়কের সংস্কার কাজ নিয়ে কর্তৃপক্ষের অবহেলায় দুর্ভোগ পোহাচ্ছে তিন উপজেলার লাখো মানুষ।  সংস্কার কাজের ধীর গতি কারণে ভোগান্তি পড়েছেন স্থানীয় অধিবাসীরা। তার উপর করোনা ভাইরাসের অজুহাতে দীর্ঘদিন বিয়ানীবাজার-চন্দরপুর সড়কের কাজ বন্ধ রাখে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান।করোনার অজুহাতে সড়কের কাজ বন্ধ থাকায় পূর্ব সিলেটের প্রথম আইপি টিভি ‘এবি টিভি’ ও ‘বিয়ানীবাজার নিউজ২৪’সহ বেশ কয়েকটি গণমাধ্যমে গত আগস্টে প্রতিবেদন প্রচার ও প্রকাশিত হওয়ায় ঠনক নড়ে দায়িত্বশীলদের। এরপর গত স্পেটেম্বর থেকে ফের কাজ শুরু হয়েছে। এতে স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্থি দেখা দিলেও শংকা কাটছে না। স্থানীয়দের অভিযোগ, অল্প শ্রমিক ও ধীর গতিতে কাজ চলমান থাকায় নির্ধারিত সময়ের আগেই সড়ক কাজ শেষ হওয়ার কোন সম্ভবনাই নেই।

ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীলরা জানান, করোনা ভাইরাস ও বর্ষা মৌসুমে এ অঞ্চলে অতিবৃষ্টির কারণে বিয়ানীবাজার-চন্দরপুর সড়কের প্রথম চার কিলোমিটার অংশের কাজ বন্ধ ছিল। গত মার্চে বৈশ্বিক মহামারি করোনা ভাইরাসের কারণে কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে অবশিষ্ট কাজ শেষ করার লক্ষ্য নিয়ে বেশি লোকবল দিয়ে সড়কের সংস্কার কাজ পুনরায় শুরু হলেও নানা সীমাবদ্ধতার কারণেও নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করা সম্ভব হবে না। এজন্য আমরা এলজিইডির কাছে আরও মাস ছয়েক সময় চেয়ে আবেদন করেছি।

জানা গেছে, আগামী ডিসেম্বরে কাজের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও প্রায় এক বছরে ২০ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। ২০১৯ সালের জুলাই মাসে সোয়া ৪ কোটি টাকায় বিয়ানীবাজার-চন্দরপুর সড়কের প্রথম চার কিলোমিটার অংশ সংস্কারের জন্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় মেসার্স রাশিদুজ্জামান পিটার নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে নিয়োগ করে। ওই বছরের অক্টোবরে সড়ক সংস্কার কাজ শুরু হয়। সড়কের এক কিলোমিটার অংশের মেকাডম শেষ করতে সময় লেগেছে ছয় মাস। গত মার্চে করোনার প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ায় সংস্কার কাজ বন্ধ হয়ে যায়।

সংস্কার কাজ নির্ধারিত সময়ে শেষ করা নিয়ে সংশয়ে রয়েছে উপজেলা প্রকৌশল অফিস। উপজেলা প্রকৌশলী মো. হাসানুজ্জামান বলেন, কাজ যে গতিতে শুরু হয়েছিল তাতে নির্ধারিত সময়ে শেষ হওয়ার কথা। কিন্তু করোনা দুর্যোগের কারণে দীর্ঘদিন কাজ বন্ধ থাকায় নির্ধারিত সময়ের আগে ঠিকাদারি প্রষ্ঠিতান কাজ শেষ করতে পারবে বলে আমার মনে হয়না। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আগামী জুন মাস পর্যন্ত সড়কের সংস্কার কাজের সময় বেশি চেয়ে এলজিইডিতে আবেদন করেছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।

এবিটিভির সর্বশেষ প্রতিবেদন-