শনিবার (৩০ জানুয়ারি) অনুষ্ঠিত গোলাপগঞ্জ ও জকিগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনে জামানত হারালেন আওয়ামী লীগের দুই মেয়র প্রার্থী। শনিবার পৌর নির্বাচনে পর্যাপ্ত ভোট না পাওয়ায় তাদের জামানত বাজেয়াপ্ত হচ্ছে। গোলাপগঞ্জে মেয়র নির্বাচিত হন পৌরসভার বর্তমান মেয়র আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী আমিনুল ইসলাম রাবেল। আর জকিগঞ্জে মেয়র নির্বাচিত হন উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক (বহিষ্কৃত) আব্দুল আহাদ।

এরমধ্যে গোলাপগঞ্জে নৌকা প্রতীকে নিয়ে নির্বাচন করা মোহাম্মদ রুহেল আহমদ পেয়েছেন ১ হাজার ১৭৫ ভোট । আর জকিগঞ্জে নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করা মো. খলিল উদ্দিন পেয়েছেন ৬৬৯ ভোট।

নির্বাচন কমিশনের (ইসি) নির্দেশনা অনুযায়ী প্রদত্ত মোট ভোটের আট ভাগের মধ্যে এক ভাগ ভোট না পাওয়ায় তাদের জামানত বাজেয়াপ্ত হবে।

নির্বাচনে গোলাপগঞ্জ পৌরসভার ২২ হাজার ৯১৬ জন ভোটারের মধ্যে ১৫ হাজার ৭৯৬ জন ভোটার তাদের ভোট প্রদান করেছেন। ভোটের হার ৭০ দশমিক ৫ শতাংশ। গোলাপগঞ্জ পৌরসভায় ৫ হাজার ৮৫১ ভোট পেয়েছে জয়ী হয়েছেন জগ প্রতীকে নিয়ে নির্বাচন করা মো. আমিনুল ইসলাম রাবেল।

এছাড়া মোবাইলফোন প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করা জাকারিয়া আহমদ পাপলু পেয়েছেন ৪৫৪৮ ভোট, ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করা গোলাম কিবরিয়া চৌধুরী পেয়েছেন ৪ হাজার ২২২ ভোট আর নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করা মো. রুহেল আহমদ পেয়েছেন মাত্র ১ হাজার ১৭৫ ভোট। ভোটের হিসেবে চার মেয়র প্রার্থীর মধ্যে চতুর্থ অবস্থান তাঁর।

নির্বাচন কমিশনের (ইসি) নির্দেশনা অনুযায়ী প্রদত্ত মোট ভোটের আট ভাগের মধ্যে এক ভাগ ভোট কোনো প্রার্থী না পেলে তার জামানত বাজেয়াপ্ত হবে। সেই হিসেবে জামানত ঠিকিয়ে রাখতে হলে প্রয়োজন ২০০৭ ভোট। কিন্তু মো. রুহেল আহমদ পেয়েছেন মাত্র ১ হাজার ১৭৫ ভোট। এ হিসেবে তার জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।

একই অবস্থা সিলেটের জকিগঞ্জেও। নৌকা প্রতীকের এই প্রার্থী কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতাই গড়ে তুলতে পারেননি দলের দুই বিদ্রোহীর সাথে। এই পৌরসভায় আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মেয়র প্রার্থী জামানত হারিয়েছেন। পৌরসভায় ১২ হাজার ৩৩৮ জন ভোটারের মধ্যে ৯ হাজার ৭৪০ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন।

এ পৌরসভায় ভোট প্রদানের হার ৭৮ দশমিক ৯৪ শতাংশ। এখানে প্রদত্ত মোট ভোটের আট ভাগের মধ্যে এক ভাগ ভোট হলো ১২১৮ টি। তবে এ পৌরসভায় ৮ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও ৫ জনই জামানত হারিয়েছেন। এরমধ্যে রয়েছেন নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করা মো. খলিল উদ্দিনও। তিনি পেয়েছেন মাত্র ৬৬৯ ভোট।

এর বাইরে লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করা আব্দুল মালেক ফারুক পেয়েছেন ৭৫৯ ভোট, আব্দুল্লাহ আল মামুন হিরা চামচ প্রতীকে পেয়েছেন ১৮৫ ভোট, ইকবাল আহমদ তাপাদার ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ৬০৭ ভোট এবং মো. জাফরুল ইসলাম হ্যাঙ্গার প্রতীকে পেয়েছেন ১১৫৬ ভোট। জামানত টিকিয়ে রাখার জন্য পর্যাপ্ত ভোট না পাওয়ায় এ চার মেয়র প্রার্থীরও জামানত বাজেয়াপ্ত হচ্ছে।

জকিগঞ্জ পৌরসভায় বিজয়ী হয়েছেন উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক (বহিষ্কৃত) মো. আব্দুল আহাদ। তিনি নারিকেল গাছ প্রতীকে পেয়েছেন ২০৮৩ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীও আওয়ামী লীগের আরেক বিদ্রোহী উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক (বহিষ্কৃত) ফারুক আহমদ। জগ প্রতীকে স্বতন্ত্র প্রার্থী ফারুক পেয়েছেন ২ হাজার ৮১ ভোট। অন্যদিকে মোবাইল ফোন প্রতীকে ১৯৮৫ ভোট পেয়েছেন মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান।

এবিটিভির সর্বশেষ প্রতিবেদন-

বিয়ানীবাজারে অবৈধ অটোবাইক ও স্ট্যান্ড কারণে বাড়ছে যানজট