দীর্ঘ ৩০ বছরের ইমামতি শেষে রাজকীয়ভাবে ইমামকে বিদায় দিয়েছেন মুসল্লীরা। ইমামকে ফুল সুসজ্জিত প্রাইভেট গাড়িতে বসিয়ে মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা সহকারে রাজকীয় সম্মানে পৌঁছে দেওয়া হয় বাড়িতে।

শুক্রবার (২২ মার্চ) জুমার নামাজ শেষে সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার পৌর এলাকার ফুলবাড়ি বড়মোকাম জামে মসজিদে এ আয়োজন করা হয়। শতশত মুসল্লীরা ইমামকে বিদায় বেলা ফুলেল শুভেচ্ছা জানান।

এছাড়াও বিদায় বেলা তার হাতে বিভিন্ন উপহার সামগ্রী তুলে দেওয়া হয়। এরপর ফুল সুসজ্জিত ছাদ খোলা প্রাইভেট গাড়িতে বসিয়ে মোটরসাইকেল বহর নিয়ে রাজকীয় সম্মানে ইমামকে বাড়ি পৌঁছে দেন এলাকাবাসী।

বিদায়ী ইমাম আলহাজ্ব মাও. আব্দুল হালিম (৫৮) সদর ইউনিয়নের গীর্দ্দ গ্রামের মরহুম মতছির আলীর ২য় ছেলে।

বিদায় বেলা আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন আলহাজ্ব মাও. আব্দুল হালিম। এসময় তিনি বলেন, ‘জীবনের দীর্ঘ সময় ইমামতি করেছি, এমন আয়োজনে খুবই মুগ্ধ হয়েছি। আমি আপনাদের কাছ থেকে কেবল নিয়েছি দিতে পারি নাই। আমার দ্বায়িত্বরত সময়ে চেষ্টা করেছি ইসলামকে সমুউন্নত রাখতে কতটুকু পেরেছি জানি না। এ জন্য সবার কাছে দোয়া চাচ্ছি। আমিও দোয়া করবো সবাইকে মহান আল্লাহপাক ভালো রাখুন।’

জানা যায়, আলহাজ্ব মাও. আবদুল হালিম ফুলবাড়ি পূর্বপাড়া বড় মোকাম জামে মসজিদে ইমামতি করেন টানা ৩০ বছর। এর আগে এলাকার তিনটি মসজিদে ১০ বছর ইমামতি করেছেন তিনি। দীর্ঘদিন ইমামতিতে থাকা অবস্থায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে কিছুদিন পূর্বে হার্টে রিং স্থাপন করা হয়। এ কারণে অবসর নিয়েছেন তিনি। অবসরে যাওয়ায় এলাকাবাসী ও মসজিদের মুসল্লীরা বিশেষ সম্মান জানিয়ে রাজকীয় বিদায় দিলেন তাকে।

ফুলবাড়ি পুর্বপাড়া বড় মোকাম জামে মসজিদের সভাপতি মুহিউন্নাহ চৌধুরী বলেন, ‘আজকের দিনটি আমাদের জন্য বেদনার। কেননা আমরা আমাদের আত্মার আত্মীয়কে বিদায় দিচ্ছি, যিনি দীর্ঘ ৩০ বছর দ্বীনি শিক্ষায় আমাদের আলোকিত করেছেন। তার বিদায়ে আমরা ব্যাতিত।’