গোলাপগঞ্জের ভাদেশ্বর ইউনিয়নে দ্বিতীয় কুড়া সেতুর নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে পাঁচ বছর আগে। অথচ এখনও তৈরি হয়নি সংযোগ সড়ক। ফলে এলাকাবাসীর তেমন কোনো কাজে আসছে না সেতুটি।

সেতুটি ব্যবহার করা গেলে গোলাপগঞ্জের প্রত্যন্ত অঞ্চল ছাড়াও সরাসরি সড়ক যোগাযোগের আওতায় আসত মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার তালিমপুর, ইসলামপুর, নুরপুর, কুলাউড়ার হাকালুকি হাওরপাড়ের ছয়টি গ্রাম, সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জের ঘিলাছড়া ও বিয়ানীবাজারের তিলপাড়া, লাউতা ও নিদনপূর ইউনিয়নের শতাধিক গ্রাম।

সেতুর এক প্রান্তের সরু রাস্তা গিয়ে মিলেছে ভাদেশ্বর-গোলাপগঞ্জ-সিলেট (ভাদেশ্বর-পুবভাগ) সড়কে। ওই দিক দিয়ে সেতুতে ওঠার মতো খানিকটা অবস্থা থাকলেও অন্য প্রান্তের পুরোটাই কৃষি ক্ষেত। সেখানে প্রায় এক কিলোমিটার দীর্ঘ নতুন সড়ক নির্মাণ করলে সেতুর সঙ্গে সংযোগ স্থাপিত হবে।

দ্বিতীয় কুড়া সেতু প্রকল্পে সিলেটের পূর্বাঞ্চলের তিন শতাধিক গ্রামকে সরাসরি সড়ক যোগাযোগের আওতায় আনতে ২১ বছর আগে ১৯৯৯ সালে গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজার (সিলেট-৬) আসনের তৎকালীন সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম নাহিদ সেতুর নির্মাণকাজ উদ্বোধন করেন। তিনটি ধাপে ১১১ দশমিক ১২ মিটার দীর্ঘ এ সেতুর ব্যয় ধরা হয়েছিল প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকা। প্রথম ধাপের কাজ শেষে ২০০১ সালে সরকারের পালাবদলে সেতুর নির্মাণকাজ বন্ধ হয়ে যায়। ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় ফের শুরু হয় কাজ। ২০১৮ সালের ১১ জুন সেতুর নির্মাণকাজ শেষ হয়।

স্থানীয় কিন্ডারগার্টেনের শিক্ষক অমল দাস জানান, সংযোগ সড়ক না থাকায় সেতুর উভয় পাশের গ্রামের মানুষ খেয়া দিয়েই বছর খানেক নদী পারাপার হয়। এরপর স্থানীয়দের উদ্যোগে সেতুর পূর্ব অংশে মাটি ভরাট করে চলাচল শুরু করে। বর্তমানে তারাপুর, মেহেরপুর, কাউয়াটিকি এলাকায় দু-একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে।

সড়ক ও জনপথ (সওজ) সিলেটের উপসহকারী প্রকৌশলী আতাউর রহমান বলেন, প্রকল্পের শুরুতেই ভূমি অধিগ্রহণ না করায় সংযোগ সড়ক নিয়ে জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে। তাছাড়া তারাপুর এবং কাউয়াটিকি গ্রামের জনগণ রাস্তা নেওয়াকে কেন্দ্র করে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়ায় ভূমি অধিগ্রহণ সম্ভব হচ্ছে না। বর্তমানে তা নিরসনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসনে এ ব্যাপারে আবেদনও করা হয়েছে। অধিগ্রহণ হলেই সংযোগ সড়ক নির্মাণকাজ শুরু হবে। কবে নাগাদ ভূমি অধিগ্রহণ হবে, আর সংযোগ সড়ক নির্মাণ শুরু হবে এ বিষয়ে নির্দিষ্ট করে কিছু বলতে পারেননি তিনি।