গোলাপগঞ্জের বাঘা ইউনিয়নের কালাকোনা গ্রামের গিরিধারী জিও মন্দিরে তরুনী ধর্ষণ চেষ্টার কোনো ঘটনাই ঘটেনি বলে দাবি করেছেন ভক্তরা। জায়গা সংক্রান্ত বিরোধী নিয়ে একটি মহল মিথ্যা ধর্ষণ চেষ্টার কাহিনী সাজিয়ে মামলা ও পুরোহিতকে গ্রেপ্তার করানো হয়েছে উল্লেখ করে তারা জানান, ঘটনার বিষয়ে গণমাধ্যমে কথিত ভিকটিমের পরিবারের দেওয়া বক্তব্য ও এজাহারে দেওয়া বক্তব্যের মধ্যে কোনো মিল নেই। দীর্ঘদিন ধরে একটি মহল মন্দিরের জায়গা দখলের চেষ্ঠা করছে। ব্যর্থ হয়ে তারা ধর্ষণ চেষ্টার নাটক করেছে।

শনিবার সিলেট জেলা প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মন্দিরের ভক্ত ও স্থানীয় বাসিন্দারা এসব অভিযোগ করেন। তারা ঘটনার সুষ্টু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহনের দাবি জানান।

লিখিত বক্তব্যে মন্দিরের ভক্ত স্থানীয় বাসিন্দা লিংকন দেব উল্লেখ করেন, মন্দিরের সেবায়েত প্রাণ গোবিন্দ দাস বাবাজি ও মন্দিরের ভূমি দাতার ছেলে দিপংকর দেবকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে আসামী করে মামলা করেছেন কালাকোনা গ্রামের এক ছাত্রী। মামলায় বাদিনী ১৩ এপ্রিল সন্ধ্যা ৭ টায় বাথরুম করার জন্য বের হলে তাকে ধর্ষণ চেষ্ঠা করা হয় বলে উল্লেখ করেন। অথচ তাদের পরিবারই আবার সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছিল ধর্মীয় শিক্ষা গ্রহনের জন্য সেবায়েতের কাছে গেলে তাকে ধর্ষণ চেষ্ঠা করা হয়।

লিংকন দেব জানান, কথিত ঘটনার দুইদিন পর ১৫ এপ্রিল বিকালে পুরোহিতকে সুনাপুর চৌমুহনী অধীরের দোকান নামক বাজার থেকে সবজি কেনার সময় পুলিশ গ্রেপ্তার করে। কেউ অপরাধ করার পর স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারে না। কিন্তু পুরোহিত বিষয়টি জানতেন না। তাই স্বাভাবিক নিয়মেই বাজার করতে গেছেন। তা ছাড়া মামলায় সাক্ষি রাখা হয়েছে অন্য এলাকার লোকদের। ঘটনাস্থলের আশপাশের কাউকে সাক্ষি রাখা হয়নি। এসব কারণে কি প্রমাণ হয়না তারা পরিকল্পিতভাবে মামলা করেছে?

লিংকন দেব আরও জানান, ২০১৯ সালের ২৩ আগষ্ট মন্দিরের নির্মাণকাজে বাধাসহ ২ লাখ টাকা চাদা দাবি করে ওই বাদিনীর পরিবার। একই বছরের ২২ ডিসেম্বর মন্দিরে ঢুকে সেবায়েতকে তারা লাঞ্চিত করে। চাঁদা দাবি ও লাঞ্চিতের ঘটনায় দায়েল করা মামলায় সিআইডি তদন্ত করে চার্জশিটও প্রদান করেছে। একটি প্রভাবশালী মহলের যোগসাজশে মন্দিরের জায়গা দখলের জন্য স্থানীয় কিছু লোক এসব ঘটনা সাজিয়েছে বলে দাবি করে লিংকন। তিনি ঘটনার মুল রহস্য খোঁজে বের করার দাবি জানান।

সংবাদ সম্মেলনে ভক্তদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, বিজিত কুমার দাস, বিধান দেব, ঝলক দেব, টিপু দেব, সত্য রঞ্জন বিশ্বাস, উজ্জল দেব, নীরেশ চন্দ্র নম, রাহুল কান্তি দে প্রমুখ।

এবিটিভির সর্বশেষ প্রতিবেদন-