গোলাপগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে বেশ কয়েক দিন ধরে চলছে স্মার্টকার্ড বিতরণী কার্যক্রম। এ স্মার্টকার্ড হাতে পেয়ে খুশি হওয়ার পরিবর্তে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন এলাকাবাসী। এর কারণ স্মার্টকার্ডগুলোর অনেকই ভুলে ভরা। কার্ডে কারও নামে ভুল, কারও গ্রামে ভুল, কারও বা ঠিকানায়।

জানা যায়, ১৩ থেকে ১৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত টানা চার দিন উপজেলার বুধবারীবাজার ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডের জনগণের হাতে স্মার্টকার্ড তুলে দেন উপজেলা নির্বাচন কমিশনের দায়িত্বশীলরা। কিন্তু এ ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডের প্রায় প্রতিটি স্মার্টকার্ডে রয়েছে ব্যাপক ভুল। কারও কারও নিজের নামে ভুল, কারও বাবার নামে ভুল। সবচেয়ে বেশি ভুল রয়েছে গ্রামের নাম নিয়ে। ভুল থেকে বাদ যায়নি পোস্ট অফিসের নাম কিংবা পোস্ট অফিসের নম্বর পর্যন্ত। একটি দেশের জাতীয় স্মার্টকার্ডে কীভাবে এত ভুল থাকতে পারে, তা নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী।

ইউনিয়নের মোট ১৬টি গ্রামের নামের বানান স্মার্টকার্ডে ভুলভাবে তুলে ধরা হয়েছে, যা নিয়ে পুরো ইউনিয়নবাসী পড়েছেন দুশ্চিন্তায়। যেমন কারও স্মার্টকার্ডে গ্রামের নাম ‘কালিডহর’-এর স্থলে লেখা হয়েছে ‘কালি দাহার’। আবার কারও নাম বাংলাতে সঠিক থাকলেও ভুল রয়েছে ইংরেজিতে।

কালিডহর গ্রামের শিপু ইসলাম নামের এক ব্যক্তি অভিযোগ করে বলেন, আমার আগের ন্যাশনাল আইডি কার্ডে সবকিছু সঠিক থাকলেও বর্তমানে দেওয়া স্মার্টকার্ডে গ্রামের নামের বানানে রয়েছে ‘কালি দাহার’।

একই ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের চন্দরপুর গ্রামের বাসিন্দা খাইরুল ইসলামসহ একাধিক ব্যক্তি জানান, তাদের পূর্ববর্তী জাতীয় পরিচয়পত্রে গ্রামের নাম সঠিক ছিল। কিন্তু জাতীয় পরিচয়পত্র স্মার্টকার্ডে গ্রামের নাম ‘চন্দরপুর’-এর স্থলে ‘চান্দরপুর’ লেখা হয়েছে, যা মারাত্মক ভুল। এ ভুলে ভরা স্মার্টকার্ড পরবর্তী সময়ে যে কোনো জরুরি কাজে ভোগান্তিতে ফেলবে সাধারণ জনগণকে। অনেকের ঠিকানায় পোস্ট অফিস কোড ৩১৬৫ হলেও স্মার্টকার্ডে দেওয়া হয়েছে ৩১৭৬। পুরো ইউনিয়নের প্রায় ৬০ শতাংশ নাগরিকের স্মার্টকার্ডে এমন ভিন্ন ভিন্ন ভুল রয়েছে, যা বিভিন্ন প্রয়োজনে ইউনিয়নবাসীকে মারাত্মক বিপাকে ফেলবে। এমন ভুল তথ্য-সংবলিত জাতীয় পরিচয়পত্র দিয়ে কোনোভাবেই নাগরিক সেবা পাওয়া সম্ভব নয় বলে অনেকেই মন্তব্য করেন। বিশেষ করে পাসপোর্ট তৈরি কিংবা ব্যাংকিং কার্যক্রমসহ অসংখ্য সেবা থেকে বঞ্চিত হবেন তারা।

বানীগাজী গ্রামের বাসিন্দা নাজিম উদ্দিন জানান, ইউনিয়নের প্রায় প্রত্যেক ওয়ার্ডের অসংখ্য মানুষের স্মার্টকার্ডে তথ্যগত ভুলের পাশাপাশি রয়েছে বানানগত ব্যাপক ভুল। যা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। পূর্ববর্তী জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য সঠিক থাকলেও স্মার্টকার্ডে তথ্যের বা বানানের ভুল কীভাবে আসে?

বুধবারীবাজার ইউপি চেয়ারম্যান মস্তাব উদ্দিন কামাল বলেন, আমার নিজের ঘরেই মারাত্মক ভুল প্রতীয়মান। বিষয়টি দ্রুত সুরাহা করার জন্য সংশ্নিষ্ট দপ্তরে জানাব।

গোলাপগঞ্জ উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা সাইদুর রহমান জানান, স্মার্টকার্ডে ভুল থাকলে তা সংশোধনের প্রক্রিয়া রয়েছে। যাদের কার্ডে ভুল রয়েছে, তাদের সংশোধনের আবেদন করার জন্য বলেন তিনি। কিন্তু এত সংখ্যক স্মার্টকার্ডের সংশোধন প্রক্রিয়ায় দীর্ঘ সময়ের ভোগান্তি লাঘবে বিশেষ কোনো উদ্যোগ নেওয়া হবে কিনা- এমন প্রশ্নের সদুত্তর দিতে পারেননি এ কর্মকর্তা।

এবিটিভির সর্বশেষ প্রতিবেদন-

বিয়ানীবাজারে সপ্তমবারের মতো আরএম ইন্সটিটিউট থেকে কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে পরীক্ষা সম্পন্