গোলাপগঞ্জের বাঘা ইউনিয়নের রুস্তমপুর কানাইঘাট সড়কে মাত্র ৫০ ফুট সড়ক সংস্কারের অভাবে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন বাঘা ইউনিয়নের কয়েক হাজার ও কানাইঘাট উপজেলার কয়েক লাখ মানুষ।

রাস্তাটির ভাঙ্গাচোরা অবস্থা এমন হয়েছে যে হাঁটাও পর্যন্ত দায়। ঝুঁকি নিয়ে কোনরকম যানবাহন চলাচল করছে। এলাকাবাসীর ভাষ্যমতে এ রাস্তা দিয়ে যাতায়াতের সময় প্রচন্ড ঝাঁকুনির কারণে রিকশা-অটোরিকশায় মোটরসাইকেলে স্থির হয়ে বসে থাকা যায় না। ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হয়। নামে মাত্র রাস্তা বাস্তবে যেন ক্ষেতের জমিতে পরিণত হয়েছে।

জরাজীর্ণ ও ভাঙা এ রাস্তা দিয়ে মারাত্মক ঝুঁকি নিয়ে চলাফেরা করছেন স্কুল, কলেজ, মসজিদ, মাদ্ররাসায় পড়ুয়া শত শত শিক্ষার্থীরা।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, বাঘা ইউনিয়নের রুস্তমপুর জামে মসজিদের সামনে সিলেট-কানাইঘাট সড়কে প্রায় ৫০ ফুট সড়কের অবস্থা করুন। রাস্তা ভেঙ্গে অসংখ্য গর্তের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, রাস্তার এমন বেহাল অবস্থা অনেক আগে থেকেই। বেশ কিছু দিন আগে স্থানীয়রা রাস্তায় মাটি ও ভাঙ্গা ইট ফেলে কোনরকম চলাচলের উপযোগী করলেও সেই মাটি ও ইট আবার দেবে গিয়ে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে, ফলে প্রায়ই ঘটছে ছোট বড় দুর্ঘটনা।

গুরুত্বপূর্ণ এই রাস্তাটির এমন বেহাল দশায় চিন্তিত সাধারণ জনগন। বিশেষ করে ছাত্র-ছাত্রীদের রাস্তা দিয়ে যাতায়াতের সময় প্রচন্ড ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হয়। আবার ইমার্জেন্সি রোগীদের নিয়েও বিপাকে পড়তে হয় স্বজনদের। অল্প বৃষ্টি হলেতো আর কথাই নেই। শুরু হয়ে যায় গাড়ী ডান্স। চালকদেরও পড়তে হয় নানা বিড়ম্বনায়।

গাড়ি চালক আলাল উদ্দিন জানান, এ সড়ক দিয়ে গাড়ি চালাতে অনেক কষ্ট আর ভোগান্তিতে পড়তে হয়। অনেক সময় বড় গর্তে গাড়ি আটকে গেলে যাত্রীরা গাড়ি থেকে নেমে ধাক্কা দিয়ে গর্ত থেকে গাড়ি তুলতে হয়।

হুমায়ুন কবির নামের এক শিক্ষার্থী জানান, আমরা লেখা পড়ার সুবাদে সিলেট সদরে যেতে হয়। সড়ক পথে সিলেট যাওয়ার একমাত্র রাস্তা ভেঙ্গে যাওয়ার কারণে খুব কষ্ট হয় স্কুলে যেতে। আমাদের কষ্টের কথা কে বুঝবে? কে শুনবে? আমরা আর কতো ভোগান্তির শিকার হলে কর্তৃপক্ষের টনক নড়বে?

ইউপি সদস্য সজমুল আহমদ খান বলেন, কিছু দিন আগে আমরা স্থানীয়রা রাস্তায় মাটি ও ভাঙ্গা ইট ফেলে কোনরকম চলাচলের উপযোগী করলেও সেই মাটি ও ইট আবার দেবে গিয়ে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে।

বাঘা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সানা মিয়া জানান, রাস্তাটি সংস্কারের জন্য গোলাপগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলীর সাথে কথা হয়েছে। তিনি বলেছেন, রাস্তাটি সরেজমিন এসে দেখবেন। বর্তমানে কোন বরাদ্দ নেই। বরাদ্দ আসলে সংস্কারের ব্যবস্থা করা হবে।