গোলাপগঞ্জে গত কয়েকদিনের দিনের বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল ও কুশিয়ারা পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় আবারও উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে গেছে। দুই মাস আগের বন্যার ক্ষত কাটিয়ে ওঠতে না ওঠতেই আবারও উপজেলার নিম্নাঞ্চল গুলোতে ভয়াবহ বন্যা দেখা দিয়েছে।

জানা যায়, ঈদের দু দিন আগ থেকে প্রবল বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে কুশিয়ারা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নদীর ডাইকের উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হতে শুরু করে। নদীর তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল ও হায়র বিল পরিবেষ্টিত শরীফগঞ্জ, বুধবারীবাজার, শরিফগঞ্জ, উত্তর বাদেপাশা ও ভাদেশ্বর ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি গ্রাম পানিতে তলিয়ে গেছে।

আমুড়া ইউনিয়নের ঘাগুয়া, শিকপুর, বুধবারীবাজারের কটলিপাড়া, আওই, বাণিগ্রাম, বহরগ্রাম, ছত্রিশ, কালিজুরী বাগিরঘাটসহ প্রায় ১৬টি গ্রাম প্লাবিত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। অনেকে ঘর-বাড়ি ফেলে আশ্রয় কেন্দ্রে যাওয়ার প্রস্তুতি গ্রহণ করেছেন। ঢাকাদক্ষিণ ইউনিয়নের ইসলামপুর, সুনামপুর, নোয়াইঘাট, ভাদেশ্বর ইউনিয়নের কুলিয়া, মাশুরা, শেখপুর, ফতেহপুর গোয়াসপুরসহ ৮/১০টি গ্রামের মানুষ বন্যায় আক্রান্ত বলে জানা গেছে। উত্তর বাদেপাশা ইউনিয়নের আমকোনা, মুল্লাকোনা, ছয়ঘরী, বাগলা, গোলাপনগর, সুপাটেক, শান্তিবাজারসহ অনেক গ্রাম বন্যায় আক্রান্ত। শরীফগঞ্জ ইউনিয়নের খাটকাই, কাদিপুর, নুরজাহানপুর, ইসলামপুর, কালিকৃষ্ণপুর, রাংজিয়লসহ আরো অনেক গ্রাম বন্যায় আক্রান্ত হয়েছে।এসব এলাকার রাস্তা-ঘাট পানিতে তলিয়ে যাওয়ার কারণে শত শত মানুষ পড়েছে মহা দুর্ভোগে।

নদীপাড়ের বাসিন্দারা নিরাপদ স্থানে সরে যেতে শুরু করেছেন। গেলো বন্যার ক্ষতি কাটিয়ে উঠার আগেই আবারো এ বন্যায় চরম ভোগান্তি আর হতাশা দেখা দিয়েছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। শুক্রবার শরীফগঞ্জ ও উত্তর বাদেপাশা ইউনিয়ন পরিদর্শন করেন সিলেট জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) শহিদুল ইসলাম চৌধুরী। তিনি উত্তর বাদেপাশা ইউনিয়নের বন্যা আক্রান্ত ক্ষতিগ্রস্থ জনসাধারনের মাঝে নগদ অর্থ বিতরণ করেন । এসময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আলতাফ হোসেন, শরিফগঞ্জ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এম এ মুহিত হিরা উপস্থিত ছিলেন।

জানা যায়, উপজেলার ক্ষতিগ্রস্ত অন্যান্য ইউনিয়নেও পর্যায়ক্রমে ত্রাণ ও অর্থ বিতরণ করা হবে।