গোলাপগঞ্জে সরকারী খাস ভূমি নিজে মালিকানা দাবী করে প্রতারণামূলক ভাবে অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় উপজেলার বুধবারীবাজার ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান শরীফ উদ্দিন উরফে শরফ উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করেছে সিলেট ডিবি পুলিশ। রোববার (২৬ জুলাই) বিকেল ৩টায় নগরীর উপশরস্থ তার নিজ বাসস্থান থেকে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে ডিবি পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃত শরফ উদ্দিন বুধবারীবাজার ইউনিয়নের চন্দরপুর গ্রামের মৃত মোঃ ফরমান আলীর পুত্র।

এর আগে সরকারী ভূমি প্রতারণা করে অর্থ আত্মসাতের ঘটনার মামলায় শরীফ উদ্দিনের উপর গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে আদালত। আদালতের জারিকৃত গ্রেপ্তারি পরোয়ানার প্রেক্ষিতে রবিবার ডিবি পুলিশের সিলেট দক্ষিণ জোনের অফিসার ইনচার্জ আশিষ কুমার মৈত্র’র নেতৃত্বে তাকে আটক করা হয়। শরফ উদ্দিনকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ডিবির সাব ইন্সপেক্টর কল্লোল গোস্বামী। তিনি জানান গ্রেপ্তারের পর তাকে গোলাপগঞ্জ মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

জানা যায়, ২০১৯ সালে গোলাপগঞ্জের বুধবারীবাজার ইউনিয়নের চন্দরপুর গ্রামের মৃত হাজী ছুনু মিয়ার ছেলে মোঃ সালেহ আহমদ
সাবেক চেয়ারম্যান শরীফ উদ্দিনকে প্রধান আসামী করে এবং মৃত হাজী মোঃ চান্দ আলীর পুত্র মোঃ আব্দুছ সালাম বাবুলকে ২নং আসামী করে সিলেটের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ৩য় আদালতে একটি প্রতারণার মামলা দায়ের করেন। মামলা নং- গোলাপগঞ্জ সি,আর-২৪৮/২০১৯ইং।

মামলার এজাহার সূত্রে আরো জানা যায়, ২০১৫ইং সালে কুশিয়ারা নদীর ভাঙনে চন্দরপুর গ্রামের মৃত ইনচান আলীর পুত্র মন্টু মিয়া, সেলিম উদ্দিন, মরহুম সরাফত আলী ও শামীম আহমদের (মোট ৪টি) পরিবারের বসত বাড়ী নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যায়। এই পরিবার ৪টি মাথা গোজার ঠাঁই হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছিলেন।

তাদের এমন পরিস্থিতি দেখে তাদের সাহায্যে এগিয়ে আসেন মামলার বাদী মোঃ সালেহ আহমদ ও তার ভাই মোস্তফা মিয়া সহ এলাকার প্রবাসী ও ব্যক্তিবর্গ । তারা তাদেরকে ভিটে মাটির ব্যবস্থা করে দিতে জায়গা খুঁজতে থাকেন। এসময় সাবেক চেয়ারম্যান শরীফ উদ্দিন জায়গা বিক্রি করার কথা বললে বাদী সালেহ আহমদ ও তার ভাই মোস্তফা মিয়া নগদ অর্থের বিনিময়ে তা কিনেন।

২০১৫ সালের ২৩ অক্টোবর বাদী সালেহ আহমদ ও তার ভাই মোস্তফা মিয়ার সাথে অঙ্গীকারনামার মাধ্যমে ১নং আসামী শরীফ উদ্দিন তার নিজ মালিকানাধীন উল্লেখ করে এস,এ, দাগ নং ৭০১ ও ১০০১-এর ০.৪৮ একর ভূমি ৩ লক্ষ ৯০ হাজার টাকা নগদ সাব্যস্ত করে বিক্রি করতে চুক্তিপত্র স্বাক্ষর করেন।

এই চুক্তিপত্রে ৯০ দিনের মধ্যে জায়গা রেজিষ্ট্রেশন করে দেওয়া হবে বলে উল্লেখ করা হয়। এই শর্তে জায়গার জন্য ৩লক্ষ ৯০ হাজার টাকা শরফ উদ্দিন নেন। পরবর্তীতে জায়গা রেজিস্ট্রেশন করে দেয়ার কথা বললে তিনি বিভিন্ন ভাবে টালবাহানা করতে থাকেন শরফ উদ্দিন। এভাবে দীর্ঘ ৩ বছরে সাবেক চেয়ারম্যান শরফ উদ্দিন বাদীর চুক্তিপত্র অনুযায়ী রেজিস্ট্রেশন সম্পাদিত না করায় অর্থ ফেরত চাইলে তিনি তা অস্বীকার করেন।

এমতাবস্থায় বাদীগণের মনে সন্দেহ হলে (এস,এ দাগ নং ৭০১ ও ১০০১) ক্রয়কৃত জায়গার মালিকানা অনুসন্ধান করে দেখেন এই জায়গার মালিক শরীফ উদ্দিন নয়। এ দাগের সম্পত্তি সরকারী খাস খতিয়ানের ভূমি। আর এই প্রতারণায় শরফ উদ্দিনকে সাহায্য করেন শরীফ উদ্দিনের ফুফাতো ভাই ২নং আসামী আব্দুছ সালাম বাবুল। এ ঘটনায় প্রতারণার শিকার সালেহ আহমদ আদালতে একটি মামলা করেন।

এই মামলার দীর্ঘ তদন্তে ঘটনার সত্যতা বেরিয়ে আসলে আদালত আসামী শরফ উদ্দিনের উপর গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি করেন। গ্রেফতারী পরোয়ানার প্রেক্ষিতেই রবিবার বিকেল ৩টায় ডিবি পুলিশের অভিযানে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

গোলাপগঞ্জ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ হারুনুর রশীদ চৌধুরী শরফ উদ্দিনকে গোলাপগঞ্জ মডেল থানায় হস্তান্তরের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, সোমবার সকালে তাকে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়।

এবিটিভির সর্বশেষ প্রতিবেদন-

বিয়ানীবাজারের দুবাগে ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ