সিলেট জেলার অন্যতম জনগুরুত্বপূর্ণ এবং প্রবাসী অধ্যুষিত হিসেবে পরিচিত গোলাপগঞ্জ উপজেলায় রয়েছে পর্যটনের অপার সম্ভাবনা। এ উপজেলার ঢাকাদক্ষিণ মিশ্রপাড়া গ্রামে ভারতীয় উপমহাদেশের বৈষ্ণব ধর্মের প্রবর্তক শ্রীকৃষ্ণ চৈতন্য গৌরাঙ্গ মহাপ্রভুর পৈতৃক নিবাস। তাকে ঘিরেই এখানে গড়ে উঠেছে মন্দির, যা হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের কাছে একটি ঐতিহাসিক তীর্থস্থান হিসেবে খ্যাতি লাভ করে। স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় এখানকার হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা ভারতে চলে গেলে মন্দিরটি অযত্ন-অবহেলায় পড়ে থাকে। দেশ স্বাধীনের পর আবার হিন্দুরা সংগঠিত হয়ে মন্দির রক্ষায় এগিয়ে এলে কিছুটা প্রাণ ফিরে পায়। এরপরও নানা জটিলতার মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে মন্দিরটির ধর্মীয় কার্যক্রম চলছে। এতদঞ্চলের সনাতন ধর্মাবলম্বীরা মনে করেন, সরকার যদি মন্দিরটির সংস্কার করে পর্যটন ক্ষেত্র হিসেবে গড়ে তোলে, তাহলে দেশ-বিদেশের অনেক পর্যটক এখানে আসবে এবং প্রচুর রাজস্ব আয় হবে। এটি হতে পারে ভ্রমণপিপাসু মানুষদের কাছে এক আকর্ষণীয় স্থান। কিন্তু সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও পর্যটন বিকাশে সরকার বা স্থানীয় প্রশাসনের দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেই।

প্রতিবছর চৈত্র মাসে মন্দির প্রাঙ্গণে মাসব্যাপী বসা বারুণী মেলায় দেশ-বিদেশের হাজারো পুণ্যার্থীর ঢল নামে এবং চৈত্র মাসের প্রতি রোববার ঢাকাদক্ষিণ মন্দিরে নানা ধরনের ধর্মীয় অনুষ্ঠান হয়। অষ্টাদশ শতকের মধ্যভাগে তৎকালীন সিলেটের দেওয়ান গোলাব রায়ের উদ্যোগে এখানে শ্রীকৃষ্ণ চৈতন্য গৌরাঙ্গ মহাপ্রভুর মন্দির নির্মিত হয়। পরে এ মন্দিরটি হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের কাছে একটি ঐতিহাসিক তীর্থস্থান হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। মন্দিরটি নতুনভাবে সংস্কারের পর পুরনো মন্দিরের স্থাপনাগুলো সংরক্ষণের অভাবে বিলীনের পথে। প্রতিবছর এ তীর্থস্থান পরিদর্শনে দেশ-বিদেশের অসংখ্য পর্যটক আসেন। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে লাখ লাখ ভক্ত সমাগমে মুখরিত হয়ে ওঠে মন্দির প্রাঙ্গণ। এককালে বর্তমানের চেয়ে বহুগুণ লোক সমাগম হতো। এখন আর সেটা লক্ষ্য না করা গেলেও সনাতন ধর্মাবলম্বীরা সাধ্যমতো চেষ্টা করে চলেছে। নানা প্রতিকূলতার কারণে মন্দিরের নিরাপত্তা এখন হুমকির মুখে। অনেক ঐতিহাসিক স্থাপনা যথাযথ সংরক্ষণের অভাবে বিলীন হওয়ার পথে।

গোলাপগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি ও কিন্ডারগার্টেন অ্যাসোসিয়েশন সভাপতি অজামিল চন্দ্র নাথ বলেন, পর্যটন খাতে গোলাপগঞ্জের সব ধরনের সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও পিছিয়ে থাকা দুঃখজনক। উপজেলার পর্যটনের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে প্রশাসনের পাশাপাশি বিত্তবান ও প্রবাসীদের এগিয়ে আসতে হবে।

শ্রী চৈতন্য মন্দিরে ঘুরতে আসা চট্টগ্রামের বাসিন্দা কাঞ্চন মজুমদার জানান, এখানে ঘুরতে এসে একটি জিনিসেরই অভাব বোধ করছি, সেটা হলো এখানে থাকার জন্য কোনো হোটেল মোটেল নেই।

গোলাপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুমন্ত ব্যানার্জি (ভারপ্রাপ্ত) বলেন, গোলাপগঞ্জ একটি প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর ঐতিহ্যবাহী উপজেলা। এ উপজেলায় পর্যটন শিল্পের প্রসারে ও পর্যটকদের সুবিধায় যা যা প্রয়োজন, তার বাস্তবায়ন করা হবে। এ ব্যাপারে আমাদের পরিকল্পনা রয়েছে। এর পরও যদি বড় ধরনের কোনো কাজ প্রয়োজন হয়, তাহলে উপজেলা পরিষদ থেকে অথবা আমাদের বার্ষিক উন্নয়ন প্রকল্প থেকে ধাপে ধাপে করা হবে।