প্রায় সাড়ে ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে ৯ বছর আগে সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার ভাদেশ্বর ইউনিয়নের রাজাপুরে কুড়া নদীর ওপর দ্বিতীয় কুঁড়া সেতু নির্মাণ করা হয়। সেতুর কাজ শেষ হলেও সেতুটির এক পাশের সংযোগ সড়ক এখনো নির্মিত হয়নি। ফলে এত টাকা ব্যয়ে নির্মিত সেতুটি জনগণের কোনো কাজেই আসছে না। এ সেতুটি চালু হলে পূর্ব সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকাসহ সরাসরি সড়ক যোগাযোগের আওতায় আসবে মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার তালিমপুর, ইসলামপুর, নুরপুর, কুলাউড়ার হাকালুকি হাওর পারের ছয়টি গ্রাম, সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জের ঘিলাছড়া ও বিয়ানীবাজারের তিলপাড়া, লাউতা ও নিদনপুর ইউনিয়নের শতাধিক গ্রাম।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, কুড়া নদীর ওপর ১১১ দশমিক ১২ মিটার দৈর্ঘ্যরে ওই সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু হয় ১৯৯৯ সালে। এতে ব্যয় হয় প্রায় সাড়ে ৩ কোটি টাকা। গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজার (সিলেট-৬) আসনের তৎকালীন সাংসদ নুরুল ইসলান নাহিদ সেতুর নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন। প্রথম দফায় কাজ শেষে ২০০১ সালে সরকার পরিবর্তন হলে সেতুর নির্মাণ কাজ বন্ধ হয়ে যায়। ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতায় আসলে ফের সেতুর কাজ শুরু হয়। ২০১২ সালের জুন মাসে সেতুর নির্মাণ কাজ শেষ হয়। কিন্তু দীর্ঘ ৯ বছর পরেও সেতুর সংযোগ সড়ক স্থাপন না হওয়ায় জনগণের কোন কাজেই আসছেনা সেতুটি।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, সেতুর এক প্রান্ত ঢাকাদক্ষিণ-ভাদেশ্বর সড়কে গিয়ে মিলিত হলেও অপর প্রান্তে সংযোগ সড়ক নেই। সেখানে প্রায় আধা কিলোমিটার দীর্ঘ নতুন সড়ক নির্মাণ করলে সেতুর সঙ্গে সংযোগ স্থাপিত হবে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এলাকাবাসীর অনেক দিনের স্বপ্ন ছিলো এখানে কুড়া নদীর উপর রজাপুরে একটি সেতু নির্মাণ করা। সেতু নির্মাণের স্বপ্ন বাস্তবায়ন হলেও সংযোগ সড়কের কারণে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে তাদের।

স্থানীয় ছিলিমপুর গ্রামের বায়োবৃদ্ধ ছানু মিয়া জানান, সেতু নির্মাণ হলেও সরকারের এত টাকার সেতু কোনো কাজেই আসছেনা। সংযোগ সড়ক স্থাপন করা হলে পূর্ব সিলেটের কয়েক শতাধিক গ্রামের সাথে গোলাপগঞ্জের যোগাযোগ স্থাপন হবে।

নিহাদ আহমদ নামের এক কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থী জানান, যে সময় ছোট ছিলাম সে সময় দেখছি সেতুটি হয়েছে। কলেজ জীবন পার হয়ে যাচ্ছে, তবে সেতুর অপর পারের সড়ক হচ্ছে না।

সংযোগ সড়কের ব্যাপারে সড়ক ও জনপথ বিভাগ সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী রিতেশ বড়ুয়া বলেন, আমি যতটুকু শুনেছি প্রকল্পের শুরুতেই ভূমি অধিগ্রহণ করতে জটিলতা ছিল। এ জন্য তৎকালীন সময় সড়ক সংযোগ নির্মাণ করা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে এই সড়ক নির্মাণে কোন প্রকল্প বা বরাদ্দ আমাদের হাতে নেই।

এবিটিভির সর্বশেষ প্রতিবেদন-

বাদেপাশায় শীতার্তদের পাশে দাঁড়ালো আরিফুল আহাদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন