কুশিয়ারার ভাঙনে বিলীন হচ্ছে ব্রিটিশ আমলের গোলাপগঞ্জ উপজেলার উত্তর বাদেপাশা ইউনিয়নের নোয়াইরঘাটের জাহাজের জেটি। ব্রিটিশ আমল থেকে নোয়াইরঘাট জাহাজের জেটি সুপরিচিতি। তৎকালীন সিলেটের পূর্বাঞ্চলের ব্যবসার প্রাণকেন্দ্র ছিল কুশিয়ারা নদীর এ নোয়াইরঘাট।

ভারতীয় বিশাল পণ্যবাহী জাহাজ এখানে এসে নোঙর করত। এর ফলে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বণিকদের পদচারণায় মুখর থাকত এ অঞ্চল। শত শত ব্যবসায়ীর মিলন মেলা ছিল এই নোয়াইরঘাট। দূরদূরান্ত থেকে আসা ব্যবসায়ীরা কুশিয়ারা নদীর দুই পাড়ে সারিবদ্ধভাবে সাজিয়ে রাখতেন তাদের ডিঙি। জাহাজে করে ভারত থেকে চাল, ডাল, পিঁয়াজ, রসুন, কাপড়, লৌহ সামগ্রী এখানে আসত। তারপর নোয়াইরঘাট থেকে পণ্যবাহী নৌকা ঢাকা দক্ষিণের কাকেশ্বর নদী হয়ে ঢাকা দক্ষিণ বাজার পৌঁছত। এখান থেকে ব্যবসায়ীরা গাড়ি দিয়ে পণ্য নিয়ে যেতেন। তখনকার সময়ে নদীপথ ছিল যোগাযোগের সহজ মাধ্যম।

তাছাড়া নোয়াইরঘাটে চামড়ার বিশাল গুদাম ছিল। ভারতের শত শত চামড়া ব্যবসায়ী নোয়াইরঘাট থেকে চামড়া নিয়ে ভারতে যেতেন। স্থলপথে যোগাযোগ ব্যবস্থার কিছুটা উন্নতি হলে ধীরে ধীরে নোয়াইরঘাটে ভারত থেকে পণ্যবাহী জাহাজ আসা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এখানকার বাণিজ্য অচল হয়ে পড়ে। বন্ধ হয়ে যায় বিশাল পণ্যবাহী জাহাজের আগমন।

ব্যবসা-বাণিজ্য থেমে গেলেও এ জনপদের মানুষ আজও ভুলে যেতে পারেনি নোয়াইরঘাটের চামড়ার গুদাম, পণ্যবাহী বিশাল জাহাজ, নোয়াইরঘাটের জাহাজের জেটি, মরহুম চিকিৎসক ইয়াকুব আলীর চিকিৎসার কথা। প্রায় সাত দশক ধরে কুশিয়ারা নদীর বিরামহীন ভাঙনে নোয়াইরঘাটের চামড়া গুদামসহ এর আশপাশের জনপদ ভেঙে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। নিশ্চিহ্ন হয়ে পড়েছে নোয়াইরঘাটের অতীত ঐতিহ্য।

বাদেপাশা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মুস্তাক আহমদ বলেন, নোয়াইরঘাটের অতীত ঐতিহ্য ধরে রাখতে এবং কুশিয়ারা নদীর ভাঙন রোধ করতে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য সংশ্নিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানিয়েছি; কিন্তু কোনো ফল পাচ্ছি না। এ এলাকার সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে নদী ভাঙন।