গোলাপগঞ্জে মারাত্বক হারে বেড়ে চলেছে বর্ডার-ক্রস মোটর সাইকেল বেচাকেনা। চোরাই পথে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে আসা এসব মোটর সাইকেল নিয়ে চলছে রমরমা ব্যবসায়। ফলে সরকার হারাচ্ছে লক্ষ লক্ষ টাকার রাজস্ব।

‘হপারি’ ‘ক্রসিং’ ‘কালা’সহ বিভিন্ন নামে চোরাই পথে আসা মোটর সাইকেলের নামকরণ করে ক্রেতা-বিক্রেতারা। হাত বদল হয়ে এসব গাড়ি এক সময় ধাপিয়ে চলাচল করে। বিভিন্ন অপকর্মেও ব্যবহার করা হয় সীমান্ত পার হয়ে চোরাই পথে আসা এসব মোটরসাইকেলগুলো।

পাচারকারীর হাত ধরে সীমান্ত পার হয়ে আসা এসব মোটর সাইকেল কেনাবেচা ও ভায়া হিসাবে কাজ করছে উপজেলার বিভিন্ন মোটর সাইকেল ওয়ার্কসপের ইঞ্জিনিয়াররা। তাদের মাধ্যমেই সাধারণ মানুষ অতি সহজেই পেয়ে যান পছন্দের বাইক। চোরাই পথে আসা এসব মোটরসাইকেল বেশির ভাগই ব্যবহার হচ্ছে বেআইনি কাজে। ছিনতাইসহ অন্যান্য কাজে এসব অল্প মুল্যের দামি গাড়িই বেঁচে নেয় অপরাধীরা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পাশর্^বর্তী দেশ ভারতের সাথে পূর্ব সিলেটের জকিগঞ্জ-বড়লেখা, বিয়ানীবাজার ও কানাইঘাট সীমানা ঘেষা থাকার সুবাদে বেশ কয়েকটি চক্র দীর্ঘ দিন থেকে চোরাই পথে মোটর সাইকেল আনতে সক্রিয় রয়েছে। এ চক্রের সাথে সীমান্তে পাহারত বিজিবি’র অসাধু সদস্যরা জড়িত রয়েছে।ছ

গোলাপগঞ্জের সাথে যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো থাকায় অতি সহজেই এসব গাড়ি পাড়ি জমাচ্ছে গোলাপগঞ্জে। বাংলাদেশের একটি ইন্ডিয়ান পালসার কিনতে হলে ২ লক্ষ টাকা গুনতে হয়। অথচ চোরাই পথে আসা একই মানের পালসার মাত্র ৫০ থেকে ৬০ হাজারের মধ্যে পাওয়া যায়।

চোরাই পথে মোটর সাইকেল আসা বন্ধ ও দেশের চুরি অভ্যন্তরে মোটর সাইকেল রোধ করতে পুলিশ প্রশাসনকে আরও কঠোর নজরদারির দাবি জানিয়েছেন উপজেলার সচেতন মানুষ। তাদের ধারণা চুরি যাওয়া মোটর সাইকেল উদ্ধার ও চোরাই মোটর সাইকেল বিরোধী অভিযান হলে অল্প সময়ে এসব মোটর সাইকেল চলাচল রোধ করা সম্ভব হবে। একই সাথে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটবে।

এদিকে শুধু গোলাপগঞ্জ পৌর এলাকায় ভারত থেকে অবৈধ পথে আনা প্রায় শতাধিক মোটর সাইকেল রয়েছে। বিশেষ করে পৌর এলাকার ঘোষঁগাও, স্বরসতী, দাড়িপাতন, রণকেলী, এয়াড়া ঢাকাদক্ষিণ, বুধবারী বাজার ইউনিয়নের সুনামপুর-চন্দরপুর, গোলাপগঞ্জ সদর ইউনিয়নের রাণাপিং, কারখানা বাজার ও ফুলবাড়ী এলাকায় ধাপিয়ে বেড়াচ্ছে এসব অবৈধ মোটর সাইকেল। তবে এখন পর্যন্ত তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয় নি পুলিশ প্রশাসন। সুশীল সমাজের দাবী, গোলাপগঞ্জে বিভিন্ন মোটর সাইকেল ওয়ার্কসপের ইঞ্জিনিয়ারদের নজরদারী বা তদারকি থাকলে এসব বাইক আনা কমে আসবে। এছাড়া যারা এসব অবৈধ মোটর সাইকেল ব্যবহার করছেন তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।

এ ব্যাপারে গোলাপগঞ্জ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ একেএম ফজলুল হক শিবলী জানান, যারা অবৈধ মোটর সাাইকেল কেনাবেচা করছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। এছাড়া ব্যবহারকারীদেরও ছাড় দেয়া হবে না।