মায়ের প্রচন্ড গলাব্যাথা। কোথায় মায়ের চিকিৎসা করাবেন এ নিয়ে চিন্তায় পড়েন যান বিয়ানীবাজার উপজেলার লাউতা ইউনিয়নের বাহাদুরপুর গ্রামের রেজাউল করিম রাজু। বিভিন্ন মাধ্যমে বড়লেখা উপজেলার হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক সঞ্জয় কান্তি শীল সঞ্জুর নামডাক শুনে তার কাছে যান। হোমিও চিকিৎসক সঞ্জু তাৎক্ষণিক রোগীকে দেখে জানান ‘ক্যান্সার’ হয়েছে। তিনি তা ভালো করতে পারবেন।

ঘটনাটি গত বছরের ২ ডিসেম্বর। এরপর কয়েক দফায় ‘ক্যান্সার’ ভালো করার নামে ওই নারীর ছেলের থেকে ওষুধ দিয়ে ৪০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেন। কিন্তু ভালো হওয়া তো দূরের কথা দিন দিন রোগীর অবস্থা অবনতির দিকে। বিষয়টি নিয়ে ওই হোমিও চিকিৎসকের কাছে কথা বলতে গিয়ে দুর্ব্যবহারের শিকার হন বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী রেজাউল করিম রাজুর।

এ অবস্থায় প্রতিকার চেয়ে গত ৩১ জানুয়ারি বড়লেখা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রত্নদীপ বিশ্বাসের কাছে লিখিতভাবে অভিযোগি দেন রোগীর ছেলে রেজাউল করিম রাজু। গত বুধবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রত্মদীপ বিশ্বাসের গঠিত তদন্তদল অভিযোগটির তদন্ত করছেন।

জানা গেছে, উপজেলার পানিধার এলাকায় নিজ বাড়িতে ঝর্নাময়ী হোমিও হল নামক ফার্মেসিতে চেম্বার খুলে দীর্ঘদিন বিভিন্ন অসুখের চিকিৎসা করছেন সঞ্জয় কান্তি শীল সঞ্জু। নামের সাথে হোমিওপ্যাথির নানা ডিগ্রি সংযুক্ত থাকলেও ব্যবস্থাপত্রে তিনি হোমিও ছাড়াও অ্যালোপ্যাথির উচ্চমাত্রার অ্যান্টিবায়োটিক, আয়ুর্বেদিক, কবিরাজিসহ সবধরনের ওষুধ লেখেন। ক্যান্সারসহ কঠিন অসুখ ভালো করার নানা ধরনের প্রচারপত্র বিলি করে তিনি সাধারণ মানুষের দৃষ্টি আকৃষ্ট করে চিকিৎসার নামে রোগীদের সাথে প্রতারণা করছেন বলে মানুষের অভিযোগ দীর্ঘদিনের।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, বিভিন্ন মাধ্যমে হোমিও চিকিৎসক সঞ্জয় কান্তি শীল সঞ্জুর নামডাক শুনে পার্শ্ববর্তী বিয়ানীবাজার উপজেলার বাহাদুরপুর গ্রামের রেজাউল করিম রাজু গত ২ ডিসেম্বর গলাব্যথায় আক্রান্ত অসুস্থ মা ছায়ারুন নেছাকে তার নিকট নিয়ে যান। সঞ্জু পরীক্ষা করে জানায়, ক্যান্সার হয়েছে এবং সে চিকিৎসা দিয়ে ভালো করতে পারবে। কয়েক দফা ওষুধ দিয়ে ৪০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়। তার ওষুধে ওই নারীর শারীরিক অবস্থার ক্রমশ অবনতি ঘটতে থাকে। গত ২৬ জানুয়ারি রেজাউল করিম রেজা চিকিৎসকের চেম্বারে মায়ের শারীরিক অবস্থা জানাতে গেলে তিনি অকথ্য ভাষায় গালাগালা করে চেম্বার থেকে বের করে দেয়।

রেজাউল করিম রেজা জানান, বিভিন্ন জনের মাধ্যমে তার সুনাম শুনে অসুস্থ মাকে চিকিৎসা করতে নিয়ে যান। ক্যান্সার হয়েছে জানিয়ে চিকিৎসার নামে সে ৪০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়। তার ওষুধে মায়ের ক্রমশ অবনতি ঘটে। সর্বশেষ জানাতে গেলে মারাত্মক দুর্ব্যবহার করে চেম্বার থেকে বের করে দেয়। তার প্রতারণা ও অপচিকিৎসায় আমার মা এখন মৃত্যুমুখে। এখন বুঝতে পারছি তার চিকিৎসার সুনাম করা লোকগুলো তারই নিয়োজিত দালাল। অবশেষে তার অপচিকিৎসার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার নিকট লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।

হোমিও চিকিৎসক সঞ্জয় কান্তি শীল সঞ্জু জানান, ওই রোগীর ছেলের সাথে ওষুধ কেনা নিয়ে একটু ঝামেলা হয়েছে। তিনি কোনো দুর্ব্যবহার করেননি।

‘‘তবে ক্যান্সার রোগীর চিকিৎসা করানোর বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বক্তব্য না দিয়ে বিষয়টি এড়িয়ে যান।’’

বড়লেখা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রত্নদীপ বিশ্বাস বৃহস্পতিবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে বলেন, ‘অভিযোগটি তদন্তের জন্য হাসপাতালের জুনিয়র কনসালটেন্ট ডা. রামেন্দ্র সিংহকে প্রধান করে ৩ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে দিয়েছিলাম। বুধবার সকালে কমিটি তদন্ত সম্পন্ন করেছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।’

তথ্যসূত্র-সিলেটটুডে২৪।

এবিটিভির সর্বশেষ প্রতিবেদন-

বিয়ানীবাজারে টমটমসহ দুই চোর আটক, কারাগারে প্রেরণ