প্রবাসী অধ্যুসিত বিয়ানীবাজারে দিন দিন ভয়ংকর রূপ ধারণ করছে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ। আক্রান্তদের পাশাপাশি বাড়ছে মৃতের সারি। উপজেলার সর্বত্র সংক্রমণভীতির বালাই নেই। আর এ কারণেই দিন যত গড়াচ্ছে সংক্রমিত রোগী শনাক্তের হারও কমে যাচ্ছে। কিন্তু স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বিষয়গুলো শিথিল হওয়ায় পরিস্থিতি পাল্টে যেতে দেখা যাচ্ছে। এ উপজেলায় আবার সংক্রমণ বাড়ছে।

গত ৭ দিনে এ উপজেলায় ১০ জনের শরীরের করোনা ভাইরাসের অস্ত্বিত্ব শনাক্ত হয়েছে। তবে এ সপ্তাহে নতুন করে আরও ৬জন সংক্রমিত রোগী সুস্থ হলেও প্রাণহানির তালিকায় যুক্ত হয়েছেন আরও এক বৃদ্ধ। বিয়ানীবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অফিসিয়াল ফেসবুক পেইজে এসব তথ্য সন্নিবেশন রয়েছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গত ৩০ অক্টোবর রাত থেকে ৬ নভেম্বর রাত পর্যন্ত বিয়ানীবাজারে করোনা সংক্রমিত রোগীর সংখ্যা দাড়িয়েছে ৪১২ জনে। এর মধ্যে মৃত্যুবরণ করেছেন ২৩জন, অন্যদিকে সুস্থ হয়ে উঠেছেন ৩৭২জন। উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের হিসাবে চলতি শীত মৌসুমে পুরো উপজেলাজুড়ে সংক্রমণ পুনরায় বাড়ছে।  তাই সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সতর্কতা অবলম্বন করার আহ্বান জানিয়েছেন দায়িত্বশীলরা।

করোনাভাইরাস শনাক্তে নমুনা পরীক্ষায় আগ্রহ হারিয়েছেন স্থানীয়রা। বিয়ানীবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প্রাঙ্গনের কোভিড-১৯ নমুনা সংগ্রহের বুথটি এখন ফাঁকাই পড়ে থাকে। অসামঞ্জস্য ফলাফল, সামাজিকভাবে হেনস্থা ও ফি নির্ধারনসহ সংক্রমণভীতি কমে যাবার কারণকেই দায়ি করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে, বিয়ানীবাজার পৌরশহরসহ উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে জীবনযাত্রা মহামারি শুরুর প্রায় আগের অবস্থায় চলে এসেছে। রাস্তায় মানুষের ঢল আর যানজট অনেকটা আগের মতো। খুব কম মানুষ মাস্ক পরে রাস্তায় বের হচ্ছেন। সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে চলার বিষয়টি গুরুত্ব হারিয়েছে। কাঁচাবাজার ও শপিংমল শুধু নয়, অফিস ও ব্যাংকগুলোতেও পুরোপুরি স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে দেখা যাচ্ছে না। মানুষ অনেকটা বেপরোয়া মনোভাব নিয়ে চলাফেরা–যাতায়াত করছে। করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে তেমন কোনো সরকারি উদ্যোগ মানুষ দেখতে পাচ্ছে না, মানুষের সামনে কোনো বিধিনিষেধ কার্যত নেই।