অনুমোদনের জন্য সিলেট জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের খসড়া পূর্ণাঙ্গ কমিটি কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের নির্দেশে সম্প্রতি এই কমিটি কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ। যাছাই-বাচাইয়ের পর শীঘ্রই পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

গত বছরের ৫ ডিসেম্বর সম্মেলনে সিলেট জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী ছিলেন ৩২ জন। এর মধ্যে জেলায় সভাপতি পদে ৭ জন ও সাধারণ সম্পাদক পদে ৯ জন, মহানগরে সভাপতি পদে ৪ জন ও সাধারণ সম্পাদক পদে ১২ জন প্রার্থী ছিলেন। প্রার্থীদের মধ্যে সমঝোতা না হওয়ায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ কেন্দ্রীয় নেতারা দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনার সঙ্গে পরামর্শ করে নতুন কমিটি ঘোষণা করেন। তিনি জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে অ্যাডভোকেট মো. লুৎফর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক পদে অ্যাডভোকেট নাসির উদ্দিন খান, মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে মুক্তিযোদ্ধা মাসুক উদ্দিন আহমদ ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে অধ্যাপক জাকির হোসেনের নাম ঘোষণা করেন।

এরপর থেকে এই চার নেতাকে কেন্দ্র করেই চলছে জেলা ও মহানগর আওযামী লীগের কার্যক্রম। প্রায় ১০ মাস হলেও তারা পূর্ণাঙ্গ কমিটির খসড়া কেন্দ্রে পাঠাতে পারেননি। এতে দলের পদ-প্রত্যাশীদের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ বাড়ে। গত ২ সেপ্টেম্বর আওয়ামী লীগের সম্পাদকমন্ডলীর যৌথসভায় দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সম্মেলন হওয়া সকল কমিটির খসড়া পূর্ণাঙ্গ কমিটি ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে কেন্দ্রে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন। সেই নির্দেশনার আলোকে জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের নেতারা সম্প্রতি পূর্ণাঙ্গ কমিটি কেন্দ্রে জমা দিয়েছেন।

আওয়ামী লীগ সূত্রে জানা যায়, জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ দুই কমিটিতে ৭৫ জন করে স্থান পাবেন। জেলার সবশেষ পূর্ণাঙ্গ কমিটির বেশিরভাগ সদস্যই নতুন কমিটিতে থাকবেন। তবে মহানগর কমিটিতে আসবে নতুন মুখ।

সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সবশেষ পূর্ণাঙ্গ কমিটির সম্পাদককীয় পদে দায়িত্ব পালন করা এক নেতা বলেন, ‘মহানগরের পূর্ণাঙ্গ কমিটির বিষয়ে কাউকে কিছু জানানো হচ্ছে না। শুধু সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকই জানেন কারা পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে স্থান পাবেন। ৩৫ বছর ধরে দল করি অথচ কমিটি গঠনে আমাদের মতামত নেওয়া হয়নি।’

জেলা আওয়ামী লীগের এক নেতা নেতা বলেন, ‘জেলা কমিটিতে নতুন মুখ কম আসবে। যুগ্ম সম্পাদক পদে আগের কমিটির কয়েকজনকে পদোন্নতি দেওয়া হবে। সবার আগ্রহের ১ নম্বর সহ-সভাপতি পদে বর্তমান একজন সাংসদ স্থান পাবেন।’

আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা বলছেন, যোগ্যদের দিয়ে দ্রুত পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা উচিত। কমিটিতে সাবেক ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাদের স্থান দেওয়ার দাবি তাদের।

সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নাসির উদ্দিন খান বলেন, ‘কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অনুযায়ী ৭৫ সদস্যের জেলা আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি কেন্দ্রে জমা দিয়েছি আমরা।’

এ বিষয়ে সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি মাসুক উদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাঁর মোবাইল নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়। আর সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক জাকির হোসেন বলেন, ‘এসব বিষয়ে পরে জানানো হবে।’

সার্বিক বিষয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ এমপি বলেন, ‘সিলেট জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি আমাদের কাছে জমা হয়েছে। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী কমিটি হবে। যোগ্য ও ত্যাগীরা কমিটিতে স্থান পাবে।’ কতদিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এ ব্যাপারে ওয়ার্কিং কমিটি (কার্যকরী কমিটি) সিদ্ধান্ত নেবে। তবে আশা করছি শীঘ্রই হবে।’

তথ্যসূত্র- সিলেট মিরর।

এবিটিভির সর্বশেষ প্রতিবেদন-

সময় বাঁচাবে আর উৎপাদন ব্যয় কমাবে কৃষি যান্ত্রিকীকরণ