সিলেটের চা বাগানের মালিক শিল্পপতি রাগীব আলী দ্বিতীয় দফায় কারাবন্দি থাকা অবস্থায় শনিবার (১৫ সেপ্টেম্বর) থেকে মালির কাজ করছেন। তার ছেলে আবদুল হাই কারাগারের লাইব্রেরিতে কাজ করছেন। প্রসঙ্গত, তারাপুর চা বাগানের হাজার কোটি টাকার সম্পত্তি আত্মসাৎ মামলায় কারাগারে আটক আছেন তিনি।

সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারের জেল সুপার আবু সায়েম এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, সশ্রম কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হওয়ায় রাগীব আলীকে কারাগারে মালির কাজ দেওয়া হয়েছে। তিনি কারাগারের বাগানে পানি দেন। এছাড়া তার ছেলে আবদুল হাই কারা অভ্যন্তরের লাইব্রেরিতে কাজ করেন।

কারাসূত্রে জানা যায়, কারাগারে রাগীব আলীর জন্য ডিভিশন চেয়ে এবং রাগীব আলী ও তার পুত্রের সুচিকিৎসার ব্যবস্থা চেয়ে আবেদন করেছেন তাদের আইনজীবী। তাদের আইনজীবীর আবেদন করা দুটি আবেদনপত্র কারা কর্তৃপক্ষ পেয়েছে এবং তা সংশ্লিষ্ট দফতরে প্রেরণ করেছে।

ওই দুটি আবেদনপত্রে কী উল্লেখ করা হয়েছে জানতে চাইলে সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারের জেল সুপার আবু সায়েম বলেন, ‘একটি আবেদনে রাগীব আলীর সামাজিক মর্যাদার বিষয় তুলে ধরে ডিভিশন-২ চাওয়া হয়েছে। অন্য আবেদনটি রাগীব আলী ও আবদুল হাইয়ের চিকিৎসা প্রসঙ্গে।’

এ ব্যাপারে রাগীব আলীর আইনজীবী অ্যাডভোকেট আবদুর রহমান আফজাল বলেন, ‘রাগীব আলী সমাজের সম্মানিত ব্যক্তি। তিনি বহু উন্নয়নমূলক কাজ করেছেন। এছাড়াও তিনি হাসপাতাল, বিশ্ববিদ্যালয়সহ বহু প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা। তার শারীরিক অসুস্থতাও রয়েছে। তাই আদালতে তাকে ডিভিশন-২ দেওয়ার আবেদন জানিয়েছি।’

তিনি আরও জানান, আরেকটি আবেদনে রাগীব আলী ও তার পুত্র আবদুল হাইয়ের চিকিৎসার ব্যবস্থা করার জন্য আবেদন করা হয়েছে। তারা দু’জনই গত বুধবার (১২ সেপ্টেম্বর) স্বেচ্ছায় আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। আদালত দুটি আবেদনই আমলে নিয়ে ওইদিনই কারা কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করেছেন। এখনও অনুমতি আসেনি। তবে আমরা অনুমোদন পাওয়ার বিষয়ে আশবাদী।

জানা যায়, জালিয়াতি করে তারাপুর চা বাগানের হাজার কোটি টাকার সম্পত্তি আত্মসাৎ মামলায় রাগীব আলী ও তার ছেলে আবদুল হাইকে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন সিলেট মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক মোহাম্মদ মোস্তাইন বিল্লাহ স্মারক। ১২ সেপ্টেম্বর এই আদেশের পর ১৪ সেপ্টেম্বর রাগীব আলীর শারীরিক অসুস্থতার কথা বিবেচনা করে তাকে বাগানে মালির কাজ করতে নির্দেশ দেয় কারা কর্তৃপক্ষ। এছাড়া তার ছেলে আবদুল হাইকে সশ্রম কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হিসেবে কারাগারের ভেতরে লাইব্রেরিতে কাজ দেওয়া হয়। ২০১৭ সালের ২ ফেব্রুয়ারি কারাগারে থাকাকালে তাদের ১৪ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন সিলেট মুখ্য আদালতের তৎকালীন বিচারক সাইফুজ্জামান হিরো। তখনও তারা কারাগারে একই কাজ করেছিলেন।

উল্লেখ্য, প্রতারণার মাধ্যমে দেবোত্তর সম্পত্তি তারাপুর চা বাগান লিজ নেন রাগিব আলী। লিজের শর্ত ভঙ্গ করে চা বাগান ধ্বংস করে গড়ে তোলেন হাউজিং প্রকল্প ও নানা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, নিজ ও স্ত্রীর নামে মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল গড়ে তোলেন। চা বাগান দখলের ঘটনায় ১৯৯৯ সালের ২৫ আগস্ট ভূমি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত তৎকালীন গঠিত সংসদীয় কমিটির প্রতিবেদন ও প্রতারণা মামলার এজাহারে তারাপুর চা বাগান নিয়ে রাগীব আলীর নানা জালিয়াতির চিত্র প্রকাশ পায়।