বিয়ানীবাজারে গৃহকর্মী হত্যা মামলায় আটক লাউতা ইউনিয়নের ইউপি সদস্য মুমিনুল ইসলাম রুমনের জেলে হার্ট এ্যাটাক করেছেন জানিয়ে তার স্বজনদের কাছ থেকে একটি প্রতারক চক্র বিকাশের মাধ্যমে ৬০ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। এ ঘটনাটি গত ২৮ রমজান ঘটেছে।

রুমনের ভাই কানন জানান, একটি মোবাইল নম্বর থেকে তাদের সাথে যোগাযোগ করে রুমনের হার্ট এ্যাটাকের বিষয়টি জানানো হয়। তাকে ঢাকার এ্যাপোলো হাসপাতালে হেলিকপ্টারে করে নিতে হবে জানিয়ে ৬০ হাজার টাকা পাঠানোর কথা বলে বিকাশ নম্বর দেয়। ওই নম্বরগুলোতে ৬০ হাজার টাকা প্রেরণ করা হয়। এরপর যে নম্বর থেকে কল আসে সেই নম্বরে যোগাযোগ করলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। তখনি আমাদের ধারণা হয় কোন প্রতারক চক্রের গেড়াকলে পড়ে গেছি।

জানা যায়, বিয়ানীবাজার কালাইউরায় গৃহকর্মী রেশম বেগম হত্যাকান্ডের মামলায়  মুমিনুল ইসলাম রুমনের শ্বাশুড়িকে পুলিশ আটক করেছে। এ সংবাদ জেল থেকে রুমন হার্ট এ্যাটাক করেন। এরকম একটি আবেগী সংবাদ দিয়ে কৌশলে বিকাশের মাধ্যমে টাকা হাতিয়ে নেয় প্রতারক চক্র। মোবাইলে সিলেট কারাগার থেকে এস আই মামুন পরিচয়ে একটি ফোন কল আসে লাউতা ইউপি চেয়ারম্যান গৌছ উদ্দিনের কাছে এবং রুমনকে ঢাকা এ্যাপোলো নেয়া হয়েছে জানানো হয়। সেখানে হাসপাতালের ডা. কয়ছর হোসাইনের তত্ববধানে তাকে রাখা হয়েছে জানিয়ে ডাক্তারের মোবাইল নম্বরে যোগাযোগ করতে বলা হয়।

রুমনের পরিবার থেকে এবং আত্নীয়দের মাধ্যমে ডাঃ পরিচয়ধারী কয়ছরের সাথে কয়েকবার কথা বলেন। ডাক্তার তার অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ার কথা জানালে রাতেই তারা বিকাশের মাধ্যমে ৪০ হাজার প্রেরণ করেন।  বিয়ানীবাজারের কলেজ রোডের একটি বিকাশ এজেন্ট  থেকে এটাকা পাঠানো হয়।

কানন জানান, তারা বিয়ানীবাজার থানায় মোবাইল নম্বরসহ সবগুলো নম্বর উল্লেখ বিয়ানীবাজার থানায় একটি সাধারণ ডায়রী করবেন। বর্তমানে গৃহকর্মী হত্যা মামলা থাকায় তারা ঝামেলায় রয়েছেন। তার উপর প্রতারক চক্রে গেড়াকলে পড়ে সমস্যা হচ্ছে।

বিয়ানীবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) চন্দন কুমার চক্রবর্তী বলেন, এরকম কোন সংবাদ থানা পুলিশের কাছে নেই। রুমনের কোন সমস্যা হয়েছে কিনা পরিবার থেকে কেউ জানতে আমাদের কাছে আসেনি। আসলেও আমরা দ্রুত সময়ের মধ্যে জেনে তাদের জানিয়ে দিতাম। তিনি বলেন, কোন যাচাই ছাড়া এভাবে টাকা দেয়া উচিত হয়নি। প্রতারক চক্রের বিষয়ে কোন অভিযোগ পাননি, পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেবেন।

উল্লেখ্য, বড়লেখা উপজেলার সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান এমাদুল ইসলামের পরিবারের কাছ থেকে একই পন্থায় টাকা হাতিয়ে নেয় প্রতারক চক্র।