কানাইঘাটের আলোচিত সিএনজি চালক আলমগীর হোসেন হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত খুনীদের দ্রুত গ্রেফতার করা না হলে আগামী রবিবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) থেকে কানাইঘাটে লাগাতার পরিবহন ধর্মঘটের ডাক দিয়েছেন উপজেলা যৌথ পরিবহন সংগ্রাম পরিষদ এর নেতৃবৃন্দ।

সোমবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৪টায় কানাইঘাট প্রেসক্লাব কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন পরিবহন শ্রমিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

উপজেলা যৌথ পরিবহন সংগ্রাম পরিষদের পক্ষে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠকালে যুগ্ম আহ্বায়ক শ্রমিক নেতা জুনেদ হাসান জীবান বলেন, গত ৭ ফেব্রুয়ারি রাত সাড়ে ৬টার দিকে কানাইঘাট গাছবাড়ী বাজার পল্লীবিদ্যুৎ মোড়ে মোটরসাইকেলের সাথে সিএনজি গাড়ীর ধাক্কা লাগাকে কেন্দ্র করে সিএনজি চালক স্থানীয় তিনচটি নারাইনপুর গ্রামের আলমগীর হোসেনকে অত্যন্ত নির্মম ভাবে পৈশাচিক কায়দায় এলোপাতাড়ি ভাবে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ঘটনাস্থলেই হত্যা করা হয়। এ হত্যাকান্ডের নেতৃত্ব দেয় নিজ দলইকান্দি আকুনি গ্রামের মৃত শাহাব উদ্দিনের পুত্র গাছবাড়ী এলাকার কুখ্যাত সন্ত্রাসী বিভিন্ন মামলার আসামী ও অপরাধমূলক কর্মকান্ডের হুতা সাদিক আহমদ উরফে বাবলু ও তার ভাই কয়েছ আহমদ তাদের চাচাতো ভাই সুলতান ও সহযোগী মাহফুজ আহমদ আরো কয়েকজন সহযোগী। মামলার আসামী খুনীদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবিতে পরিবহন শ্রমিক ও গাছবাড়ী এলাকার সর্বস্তরের জনসাধারণ ধারাবাহিক ভাবে মানববন্ধন, সভা-সমাবেশ করে আসলেও হত্যাকান্ডের ১৩দিন পেরিয়ে গেলেও অদ্যবধি পর্যন্ত এ হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত সরাসরি জড়িত কুখ্যাত সন্ত্রাসী সাদিক, কয়েছ, মাহফুজ সহ তাদের সহযোগীদের রহস্যজনক কারনে গ্রেফতার করতে পারেনি কানাইঘাট থানা পুলিশ ও অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। যার কারনে সর্বস্তরের পরিবহন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, শ্রমিক এবং এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র উত্তেজনা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।

সংবাদ সম্মেলনে জুনেদ হাসান জীবন আরো বলেন, আগামী ২৪ ফেব্রুয়ারি শনিবার এর মধ্যে পুলিশ প্রশাসন সিএনজি চালক আলমগীর হোসেনের হত্যাকারীদের গ্রেফতারে ব্যর্থ হলে ২৫ ফেব্রুয়ারি রবিবার থেকে কানাইঘাট উপজেলা যৌথ পরিবহন সংগ্রাম পরিষদ অনির্দিষ্টকালের জন্য কানাইঘাট উপজেলায় পরিবহন ধর্মঘটের ডাক দিবে বলে সংবাদ সম্মেলনে হুশিয়ার উচ্ছারন করা হয় এবং থানা থেকে এ হত্যা মামলার তদন্ত ভার পরিবর্তন করা হলে পরিবহন শ্রমিকদের পক্ষ থেকে কঠোর কর্মসূচীর ডাক দেয়া হবে।

সংবাদ সম্মেলনে আরো বলা হয়, সিএনজি চালক আলমগীর হোসেনের হত্যাকারী সাদিক ও তার ভাই কয়েছ এর নেতৃত্বে দীর্ঘদিন থেকে গাছবাড়ী সহ কানাইঘাটের বিভিন্ন এলাকায় সন্ত্রাসী ও অপরাধ চক্র গড়ে তুলে রাস্তা-ঘাটে পরিবহন থেকে মালামাল লুটপাট, লোকজনদের তুলে নিয়ে মারধর করে মুক্তিপণ আদায়, মহিলাদের দিয়ে অশ্লীল ভিডিও বানিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তিদের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা আদায় টর্চার সেল গঠন করে, লোকজনদের তুলে নিয়ে মারধর করে টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দেয়া সহ মদ, ইয়াবা অন্যান্য নেশাজাত দ্রব্য বিক্রি সহ পুলিশের উপর হামলা এবং গাছবাড়ী এলাকায় জনমনে ভীতির সৃষ্টি করে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম সহ পূর্বে আরো কয়েকজনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করার মতো ঘটনার সাথে জড়িত থাকলেও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী তাদের বিরুদ্ধে কোন ধরনের ব্যবস্থা না নেওয়ার কারনে বেপরোয়া হয়ে তারা। সিএনজি চালক আলমগীর হত্যাকান্ডের ধারাবারিক সংবাদ গণমাধ্যমে তুলে ধরায় কানাইঘাট প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় কর্মরত গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন শ্রমিক নেতৃবৃন্দ।

সর্বশেষ এই চক্রটি সিএনজি চালক আলমগীর হোসেনকে নির্মম ভাবে হত্যা করার মতো সাহস পেয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার শ্রমিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দের উপস্থিত ছিলেন- উপজেলা যৌথ পরিবহন সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক শ্রমিকনেতা আতাউর রহমান, গাছবাড়ী উপ-পরিষদ ৭০৭ এর সাবেক সভাপতি জামাল আহমদ, শ্রমিকনেতা খসরুজ্জামান, কয়ছর আহমদ, আনোয়ার হোসেন, আফতাব উদ্দিন, জয়নাল আবেদীন, আলমাছ উদ্দিন, সালেহ আহম, বদরুল ইসলাম, নাজিম উদ্দিন সহ অর্ধশতাধিক শ্রমিক নেতৃবৃন্দ।

এছাড়া সংবাদ সম্মেলনে সিএনজি চালক আলমগীর হোসেন হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবিতে শ্রমিক সংগঠনের সাথে একাত্মতা পোষন করে উপস্থিত ছিলেন, সাংবাদিক এহসানুল হক জসীম, যুক্তরাজ্য প্রবাসী আবুল মনসুর চৌধুরী সাজু।