কানাইঘাট উপজেলার দক্ষিণ বাণীগ্রাম ইউনিয়নের ক্রাইম জুন খ্যাত ছত্রপুর গ্রামে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে আবারো এক পক্ষের লোকজনদের অতর্কিত হামলায় একই পরিবারের ৩ জন গুরুতর আহত হয়েছেন।

এ ঘটনাটি ঘটেছে শুক্রবার (৭ জুলাই) রাত সাড়ে ১১টার দিকে গাজী বোরহান উদ্দিন সড়কের ছত্রপুর গ্রামের ব্রীজের পাশে। হামলাকারীদের কবল থেকে স্থানীয় লোকজন আহতদের উদ্ধার করে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন।

জানা যায়, দীর্ঘদিন থেকে ছত্রপুর গ্রামে গোষ্ঠীগত দ্বন্দ্বের জের ধরে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে মৃত আবু ইউসুফ মোহাম্মদ ইয়াকুব গংদের গোষ্ঠীর সাথে মৃত আনফর আলীর পুত্র হারিছ আহমদ গংদের গোষ্ঠীর মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। এ নিয়ে পূর্বে কয়েকবার পাল্টাপাল্টি চোরাগুপ্ত হামলা ও দু’পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে একজন নিহত ও কয়েকজন পঙ্গুত্ব বরণ সহ উভয় গোষ্ঠীর শতাধিক লোকজন আহত হন। থানা পুলিশ, স্থানীয় প্রশাসন এবং এলাকার পঞ্চায়েত মুরব্বী সহ বিভিন্ন পরগনার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উভয় গোষ্ঠীর মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘাত নিষ্পত্তির জন্য বার বার উদ্যোগ নিয়েও ব্যর্থ হন। কয়েক মাস শান্ত থাকার পর আবারো এই দুই গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘাত শুরু হয়েছে।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, গত শুক্রবার রাত ১১টার দিকে স্থানীয় গাছবাড়ী বাজার থেকে অপর গোষ্ঠীর মৃত আনফর আলীর পুত্র সাবেক ইউপি সদস্য সালিক আহমদ ও তার ভাই বিলাল আহমদ, ফয়সল আহমদ রিক্সা যোগে নিজ বাড়িতে ফিরছিলেন। পথিমধ্যে রাত সাড়ে ১১টার দিকে তাদের রিক্সা ছত্রপুর গ্রামের ব্রিজের পাশে আসামাত্র মৃত আবু ইউসুফ মোহাম্মদ ইয়াকুব গোষ্ঠীর ২৫/৩০ জন হামলাকারী দেশীয় ধারালো অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হারিছ উদ্দিনের প্রবাসী ৩ ভাইয়ের উপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা তাদেরকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপিয়ে প্রাণে হত্যার চেষ্টা করলে তাদের আত্মচিৎকারে পথচারী লোকজন এগিয়ে এসে রক্তাক্ত অবস্থায় গুরুতর আহত সালিক আহমদ, বিলাল আহমদ ও ফয়সল আহমদ সহ রিক্সা চালককে উদ্ধার করেন। আশংকাজনক অবস্থায় তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসকগণ তাদেরকে সিওমেক হাসপাতাল প্রেরন করেন। আহত ৩ ভাই প্রবাসে থাকেন বলে জানা গেছে।

এ ঘটনায় উভয় গোষ্ঠীর লোকজনের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। পাল্টাপাল্টি হামলা ও গ্রেফতারের ভয়ে বেশির ভাগ লোকজন বাড়ি-ঘর ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছেন।

ঘটনার পরপরই থানার অফিসার ইনচার্জ গোলাম দস্তগীর আহমদের নেতৃত্বে একদল পুলিশ রাতে এবং গতকাল শনিবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

এ ব্যাপারে থানার ওসি গোলাম দস্তগীর আহমদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ঘটনার পর তাৎক্ষণিক এলাকায় গিয়েছি। পরিস্থিতি শান্ত থাকার জন্য এলাকায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। আহতদের পক্ষে এখন পর্যন্ত থানায় কোন অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। অভিযোগ পেলেই মামলা না নেওয়া হবে এবং হামলার সাথে জড়িতদের গ্রেফতার করা হবে।

বিজ্ঞাপন