করোনা সংক্রমণের ভয় কেটে যাচ্ছে বিয়ানীবাজারের মানুষের। জ্বর-সর্দি বা কাশি হলেই কোভিড-১৯ পরীক্ষার জন্য ছুটছে না কেউ। বিয়ানীবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প্রাঙ্গনে স্থাপিত কোভিড-১৯ নমুনা সংগ্রহের বুথটি এখন ফাঁকা পড়ে থাকে। তাছাড়া হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যাও কমে গেছে অনেক।

এদিকে করোনা রোগী কমার সঙ্গে সঙ্গে স্বাস্থ্যবিধি না মানার প্রবণতা বেড়েছে বিয়ানীবাজারের মানুষের। ঘরের বাইরে, জনবহুল স্থান এমনি কর্মস্থলেও মাস্ক পরছেন না বেশিরভাগ মানুষ। বাস, আটোরিকশা, সিএনজি, ইজিবাইকসহ সকল গণপরিবহনে মাস্ক ছাড়া গা ঘেঁষে যাতায়াত নিত্যনৈমিত্তিক বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। পৌরশহরের প্রতিটি শপিংমল বা মার্কেটগুলোতেও একই অবস্থা।

উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের এপ্রিলের মাঝামাঝি সময় থেকে করোনা পরীক্ষার জন্য করোনা পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ করে বিয়ানীবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। উপজেলায় প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয় গত ২৪ এপ্রিল। এখন পর্যন্ত এ উপজেলার ১ হাজার ৬’শ ৩৭ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এর মধ্যে পরীক্ষার ফলাফল এসেছে ১ হাজার ৬’শ ২৬ জনের, এখনো অপেক্ষমাণ রয়েছে ১১টি নমুনার ফলাফল। প্রাপ্ত ফলাফলে পজিটিভ শনাক্ত হয়েছেন ৩৯৭ জন। এর মধ্যে মারা গেছে ২১জন এবং সুস্থ হয়ে উঠেছেন ৩৩৪ জন সংক্রমিত রোগী। বর্তমানে উপজেলায় ৪২ জন করোনা রোগী বিভিন্ন এলাকায় নিজ নিজ বাড়িতে হোম আইসোলেশনে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, করোনা সংক্রমণভীতি কমার পাশাপাশি সুনির্দিষ্ট কয়েকটি কারণে পরীক্ষা কমে গেছে। এর মধ্যে রয়েছে ইতোপূর্বে দীর্ঘ লাইনে থেকেও পরীক্ষা করতে না পারা, ফল পেতে দেরি হওয়া, সামাজিকভাবে হেনস্থাসহ নানা রকম হয়রানি অন্যতম। এছাড়া করোনা পরীক্ষায় নির্ধারিত ফি দিতে অপারগ হচ্ছেন শ্রমজীবী ও নিম্ন আয়ের মানুষ।

এ ব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. আবু ইসহাক আজাদ বলেন, সুস্থতার হার বাড়ছে বলে করোনা পরীক্ষার হার কমে গেছে। তিনি আরও বলেন, করোনার ভয় কেটে যাওয়ার কারণে মানুষ আগের মতো নমুনা দিতে আসছেন না। এটা উদ্বেগের বিষয়। উপসর্গ দেখা দিলে পরীক্ষা করার জন্য সাধারণ মানুষকে আরও বেশি সচেতন হওয়া প্রয়োজন।

এবিটিভির সর্বশেষ প্রতিবেদন-