মুনাফালোভী শিক্ষকরা লুকিয়ে লুকিয়ে চালিয়ে যাচ্ছেন ব্যাচ করে প্রাইভেট-বাণিজ্য। মহামারি করোনাভাইরাস প্রতিরোধে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ কোচিং ও প্রাইভেট পড়ানো বন্ধের নির্দেশ থাকা সত্বেও তারা প্রশাসনের অগোচরে চালিয়ে যাচ্ছেন বাণিজ্য।

বিয়ানীবাজার পৌর এলাকাসহ উপজেলার আনাচে-কানাচে গত একমাস থেকে শুরু হয়েছে কিছু অর্থলোভী শিক্ষকদের প্রাইভেট-বাণিজ্য। প্রতিদিন সকাল হলে শুরু হয়ে যায় শিক্ষার্থীদের শিক্ষকদের কাছে পড়তে যাওয়া। পিটে বইয়ের ব্যাগ নিয়ে অভিরাম ছুটে চলা উদ্দেশ্য কোচিং সেন্টার বা শিক্ষকের বাসা। অনেক শিক্ষক দুই-একজন শিক্ষার্থীকে বাইরে দাঁড় করিয়ে রাখেন প্রশাসনের লোক আসছে কি না দেখার জন্য।

বিয়ানীবাজার সরকারি কলেজ, বিয়ানীবাজার আদর্শ মহিলা কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকেরা থাকেন পৌরশহর কিংবা শহরতলীর আশপাশ এলাকায়। আবার অনেকে চাকরির সুবাদে উপজেলার বিভিন্ন জায়গায় বাসা ভাড়া নিয়ে থাকেন। শিক্ষকতার জন্য আসতে হয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে। কিন্তু এখন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ। তবে কোচিং বাণিজ্যের জন্য প্রতিদিন কেউ বা মোটরসাইকেল নিয়ে আবার কেউ বা সিএনজি অটোরিকশা বা বাসযোগে আসছেন কোচিং করাতে।

রোববার সকাল পৌরশহরের কলেজ রোড ও পোস্ট অফিস রোডসহ বেশ কয়েকটি জায়গার বিভিন্ন মার্কেটে সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, প্রাইভেট শিক্ষকের অপেক্ষায় একটি দোকানের সামনে অপেক্ষা করছে ১৫-২০ জন শিক্ষার্থী। একটু পরেই ওই শিক্ষক এসে দোকানের তালা খোলে ভেতরে প্রবেশ করলে শিক্ষার্থীরাও ভেতরে প্রবেশ করে। একটু সামনে গিয়ে দেখা গেলো- এক সঙ্গে একেকটি কক্ষে ব্যাচ করে ১৫ থেকে ২০ জন শিক্ষার্থীকে গাদাগাদি করে বসিয়ে এ কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন। অনেকে নিজ বাসা বা ভাড়া বাসায় চালিয়ে যাচ্ছেন প্রাইভেট-বাণিজ্য।

এ ছাড়াও উপজেলার কিছু কিছু এলাকাতেও বিশেষ কৌশলে শুরু হয়েছে প্রাইভেট–বাণিজ্য। তবে তা সীমিত আকারে ও গোপনীয় পরিবেশের মধ্যে হচ্ছে। উপজেলার প্রায় সবকটি ইউনিয়নের বিভিন্ন মাধ্যমিক-উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনেও চলছে অবাধে কোচিং বা প্রাইভেট-বাণিজ্য।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রাইভেট–বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত শিক্ষকেরা বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা করেন। প্রাইভেট ও কোচিং নিষিদ্ধ করার পর বেশ কিছুদিন তাঁরা পড়ানো বন্ধ রেখেছিলেন। কিন্তু কয়েকদিন হলো, আবারও তাঁরা আগের মতোই প্রায় প্রকাশ্যে প্রাইভেট–বাণিজ্য শুরু করেছেন।

শহরের পোস্ট অফিস রোড, ইনার কলেজ রোড ও কলেজ রোডের কয়েকটি ভবনে রুমভাড়া করে প্রাইভেট পড়ান বিয়ানীবাজার সরকারি কলেজের কয়েকজন শিক্ষক। প্রতিবেদকের সাথে আলাপকালে এক শিক্ষক জানান, শিক্ষার্থীরা ও তাদের অভিভাবকরা প্রাইভেট পড়ানোর জন্য অনুরোধ করতেছেন। তাদের অনুরোধ রাখতে গিয়ে বাধ্য হয়ে প্রাইভেট পড়াতে হচ্ছে। আর আমি ব্যাচে অল্প কয়েকজন শিক্ষার্থী নিয়েছি। তাছাড়া স্বাস্থ্যবিধি মেনে পড়াই। সরকারি নিষেধাজ্ঞা কেন মানছেন এমন প্রশ্নের কোন সদুত্তর দিতে পারেননি তিনি।

প্রতিবেদকের সাথে কথা হয় উপজেলার মাথিউরা, দুবাগ, শেওলা ও কাকরদিয়া থেকে আসা ৪ জন শিক্ষার্থীর। তারা সকলেই বিয়ানীবাজার সরকারি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণীর শিক্ষার্থী। তাদের বাসা থেকে পড়ার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে। এজন্য তারা শিক্ষকের কাছে পড়তে আসছেন।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মৌলুদুর রহমান বলেন, সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক দেশের সকল কোচিং বা প্রাইভেট বন্ধ থাকার কথা। কিন্তু যে সকল শিক্ষকরা প্রশাসনের অগোচরে প্রাইভেট পরিচালনা করে যাচ্ছেন বিষয়টি অত্যান্ত দুঃখজনক। যারা আমাদের লোকিয়ে কোচিং বা প্রাইভেট পরিচালনা করছে তাদের চিহ্নিত করে প্রশাসনিকভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি।

এবিটিভির সর্বশেষ প্রতিবেদন-

ইউপি নির্বাচন নিয়ে 'এবি টিভি'র বিশেষ আয়োজন ‘ভোটের হাওয়া’।। ৪র্থ পর্বে তিলপারা ইউনিয়ন