শাহ্ আব্দুল করিম এক কিংবদন্তির নাম। বাউল গানের জগতে যাকে সম্রাট হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। তার জীবনের গল্পে পাওয়া যায় কীভাবে এক রাখাল বালক অভাব অনটনের মধ্যে বেড়ে উঠেছে এবং গানে গানে দুনিয়া মাতিয়েছে। ভাটি অঞ্চলের মানুষ হিসেবে তিনি ছেলেবেলা থেকে গানের পরিবেশে থাকার সুযোগ পেয়েছেন, যা তার বাউল হয়ে ওঠার পেছনে অনেক অবদান রেখেছে। তার নিজের জীবন সংগ্রামের অভিজ্ঞতার সঙ্গে ভাটি অঞ্চলের প্রকৃতি ও গ্রামীণ মানুষের কথা বলে গেছেন তার লেখা বিভিন্ন গানে।

তিনি কথা বলেছেন সমাজের কুসংস্কারের বিরুদ্ধে ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার পক্ষে। শাহ্ আব্দুল করিমের একটি বিশেষত্ব যা তাকে বিখ্যাত বাউলদের থেকে আলাদা করে তা হলো তিনি তার লেখা প্রতিটি গান নিজেই সুর করেছেন, প্রতিটি গানের নিজস্বতা তাই তার গানগুলোকে আরো বিশেষ করে তুলেছে। অসংখ্য জনপ্রিয় বাউল গানের এ স্রষ্টার ১১তম প্রয়াণ দিবসে তাকে তারই গানে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করলো বিয়ানীবাজারের বাউল শিল্পীরা।

শাহ্ আব্দুল করিম সাংস্কৃতিক পরিষদ বিয়ানীবাজার উপজেলার শাখার উদ্যোগে শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাত ৯টায় বৈরাগীবাজারস্থ কার্যালয়ে এক স্মরণ সভা ও করিমগীতি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সংগঠনের সভাপতি এম এস মানিকের সভাপত্বিতে এবং জয়নুল ইসলামের পরিচালনায় প্রধান অতিথি ছিলেন বৈরাগীবাজার আদর্শ বিদ্যানিকেতনের প্রধান শিক্ষক এনামুল কবির৷

অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিয়ানীবাজার থানার এএসআই স্বপন দাস, বৈরাগীবাজার উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মাহবুব আহমদ, বাউল শিল্পী মুহিম সরকার ও মোহাম্মদ ইয়াহিয়া, মোহাম্মদ আলী, পারভেছ আহমদ, কামরুল ইসলাম, ইব্রাহীম আলী, আব্দুর রহমান নিশা, খালেদ আহমদ, গোপাল চন্দ্র দাস ইকবাল আহমদ।

সবশেষে করিমগীতি গানের অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশ করেন এম এস মানিক, বাউল শিল্পী মুহিম সরকার, স্বপন দাস, ইকবাল আহমদসহ অন্য শিল্পীরা৷

এবিটিভির সর্বশেষ প্রতিবেদন-

বিয়ানীবাজারে নিত্যপণ্যের দাম বাড়ছেই