আগামীকাল শুক্রবার (২রা আগস্ট) বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক, মুক্তিযোদ্ধা-সাংবাদিক আকাদ্দস সিরাজুল ইসলামের ১৯তম মৃত্যু বার্ষিকী। বিয়ানীবাজার উপজেলার মাথিউরা গ্রামের জাফর মঞ্জিলে পারিবারিকভাবে বিভিন্ন অনুষথানাদির মধ্য দিয়ে দিনটি পালন করা হবে।

এদিন গ্রামের বাড়িতে কবর জেয়ারত, কোরানখানি ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। এ সকল অনুষ্ঠানে শরিক হওয়ায় জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে মরহুম আকাদ্দস সিরাজুল ইসলামের সহকর্মী, বন্ধু বান্ধব ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

ষাট দশকের বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক আকাদ্দস সিরাজুল ইসলামের জীবদ্দশায় ‘নয়া দুনিয়া’ (উপন্যাস, প্রকাশ কাল – ১৯৫৩), ‘নীরব নদী’ (বড় গল্প, প্রকাশ কাল – ১৯৬৫), ‘ পঞ্চবিংশতি’, (ছোট গল্প, প্রকাশ কাল- ১৯৬৭), ‘ মাটির চেরাগ’,(নাটক, প্রকাশ কাল- ১৯৬৯) ‘ সাবুর দুনিয়া'( কিশোর উপন্যাস, প্রকাশ কাল- ১৯৮৪), ‘ বন্দী জীবনের কিছু কথা’, (স্মৃতিচারণ, প্রকাশ কাল- ১৯৮৭)’ কারাগার থেকে বেরিয়ে,( স্মৃতিচারণ, প্রকাশ কাল- ১৯৮৯) ‘,’চালচিত্র’ ( গল্প, প্রকাশ কাল- ১৯৮৯) এবং ‘ রাক্ষুসে বন্যা এবং’ ( যুগল উপন্যাস, প্রকাশ কাল- ১৯৯৭)এ ৯টি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়। মুক্তিযুদ্ধ কালীন আসামের করিমগঞ্জ থেকে প্রকাশিত সংবাদপত্র সাপ্তাহিক ‘মুক্তবাংলা’র ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ছিলেন তিনি । মৃত্যুর পর তাঁর রচনা সমগ্র ২ খণ্ডে প্রকাশিত হয়। এছাড়া একটি স্মারক গ্রন্থও বেরিয়েছে।

আকাদ্দস সিরাজুল ইসলাম ১৯২২ সালের ২২ নভেম্বর বিয়ানীবাজার উপজেলার মাথিউরা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ২০০০ সালের ২ আগস্ট ভোরে গ্রামের বাড়িতে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

উল্লেখ্য, রাজনৈতিক কারণে ১৯৭৫ পরবর্তীতে তিনি দু’বার কারাবরণ করেন। আকাদ্দস সিরাজুল ইসলাম বিয়ানীবাজার উপজেলা আওয়ামী লীগের একটানা ২২ বছর (১৯৬৮-৯০) সাধারণ সম্পাদক এবং ৬ বছর (১৯৯০-৯৬) সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সুবর্ণজয়ন্তীতে (১৯৯৯ সালে) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁকে ‘ত্যাগী নেতা’র স্বীকৃতি হিসেবে ক্রেস্ট প্রদান করেন।