টিকা নিতে গত ২১ জুলাই নিবন্ধন করেছেন গৃহবধূ তাহমিনা বেগম। এরপর ১১ দিন অপেক্ষা করেছেন এসএমএস’র জন্য। কিন্তু গত ২ আগস্ট পর্যন্ত এসএমএস না আসায় ৩ আগস্ট টিকা নিতে ছুটে আসেন বিয়ানীবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। সকাল ১০টা থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার পর যখন হাসপাতাল গেইটের বুথে নিবন্ধন কপিটা দেখালে তখন বুথ থেকে জানানো হয় ‘এসএমএস’ না আসলে টিকা দেয়া যাবে না, এসএমএস আসলে আসবেন।

এমন দৃশ্য এখন বিয়ানীবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নিত্যদিনকার। ‘এসএমএস আসেনি, কিন্তু টিকা নিতে চলে এসেছেন হাসপাতালে’- এ নিয়ে টিকা গ্রহীতা ও সমন্বয়কারীরা জড়িয়ে পড়ছেন তর্কে। কখনো কখনো উভয়ের মধ্যে শুরু হয় বাগবিতণ্ডা।

গত মঙ্গলবার বেলা ১২টার দিকে এই প্রতিবেদকের সাথে কথা হয় টিকা নিতে আসা কয়েকজন নারী-পুরুষ। তাদের সাথে আলাপকালে জানা গেছে, করোনাভাইরাস প্রতিরোধী টিকা নিতে নিবন্ধনের পর টিকা নেয়ার তারিখ জানিয়ে ফিরতি একটি এসএমএস পাঠানো হয় নিবন্ধনকারীর ফোনে। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ওই এসএমএস আসতে ক্ষেত্রে দীর্ঘ সময় লাগছে এমনকি দুই সপ্তাহও পর্যন্ত পেরিয়ে যাচ্ছে। এসএমএস ছাড়াই শুধু নিবন্ধন কপি নিয়ে গিয়ে টিকা পাওয়া যাবে এমন তথ্যে টিকা কেন্দ্রে এসে টিকা নিতে না পেরে হতাশ হচ্ছেন অনেকেই।

পরে প্রতিবেদকের কথা হয় বিয়ানীবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের টিকা রেজিস্ট্রেশন বুথের সমন্বয়কারী তপনজ্যোতি ভট্টাচার্যের সাথে। তিনি জানান, এসএমএস ছাড়া কাউকেই টিকা দেয়া হচ্ছেনা। প্রতিদিনই এমন অনেকেই টিকা নিতে আসছেন, তাদেরকে বুঝিয়ে বাড়ি পাঠানো হচ্ছে। অনেকেই না জেনে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে গিয়ে আমাদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করছেন। অনেকে অনুরোধ করছেন। কিন্তু এসএমএস ছাড়া টিকা দেয়ার কোনো নির্দেশনা থাকলে আমরা তো দিতাম। আমাদের তো কিছু করার নেই।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, গত ৩ আগস্ট পর্যন্ত বিয়ানীবাজার উপজেলায় টিকা গ্রহণের লক্ষ্যে নিবন্ধন করেছেন ৩০ হাজার ৬’শ ১০জন গ্রহীতা। এর মধ্যে প্রথম ডোজের টিকা গ্রহণ নিয়েছেন ১৫ হাজার ৫’শ ৪২জন, আর দ্বিতীয় ডোজ ৬ হাজার ৪’শ ২১জন। এছাড়া বিয়ানীবাজারে ইউনিয়ন পর্যায়ে গণটিকা প্রয়োগ কার্যক্রম আগামী শনিবার হচ্ছে। এদিন একযোগে দিনভর উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে তিনটি করে মোট ৩৩টি কেন্দ্রে প্রায় ৬ হাজারের বেশি মানুষকে টিকা প্রয়োগ করার পরিকল্পনা রয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগের দায়িত্বশীলদের।

এ বিষয়ে বিয়ানীবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোয়াজ্জেম আলী খান চৌধুরী বলেন, টিকা নিবন্ধনের বয়স কমিয়ে আনার পর থেকেই ব্যাপকহারে টিকার নিবন্ধন হচ্ছে। নিবন্ধনের তালিকা অনেক লম্বা হয়ে আসছে। আমাদের হাসপাতালে দৈনিক ৪’শ জনের টিকা দেয়ার সক্ষমতা থাকলেও নিবন্ধন হচ্ছে অনেক বেশি। সে ক্ষেত্রে এসএমএস আসতে একটু দেরি হচ্ছে। উদ্বিগ্ন না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, যারা নিবন্ধন করেছেন, তারা সবাই টিকা পাবেন। যথা সময়েই তাদের মোবাইলে টিকা গ্রহনের এসএমএস আসবে। এতে দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই।

এবিটিভির বিশেষ প্রতিবেদন

বিয়ানীবাজারে গণটিকার সূচি পরিবর্তন, যখন যেভাবে আর যারা পাবেন