সাধারণ মানুষের মুখোরতায় বিজিবি ৫২ ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তর বিয়ানীবাজারের ক্যাফে-৫২ হয়ে উঠেছে যেন একটি মিনি পর্যটন কেন্দ্র। এ ব্যাটালিয়নের সিপাহি ও তাদের পরিবারের বিনোদনের জন্য গড়ে তোলা ক্যাফে-৫২’তে প্রতিদিন শত শত মানুষের আনাগোনায় মুখোর থাকছে। তবে বছরের প্রধান দুটি মুসলমানদের ধর্মীয় উৎসব ঈদসহ বিভিন্ন উৎসবে পর্যটকদের সমাগম একটু বৃদ্ধি পায়। এতে মুখোরিত হয়ে উঠে মিনি এ পর্যটন কেন্দ্রটি।

কৃত্রিম লেক, লেকের দুই পাড়ে যাতায়াতের জন্য কাঠের সেতু, সেতুর ওপর গোলঘর। লেকে দৃষ্টিনন্দন ফোয়ারা, বিভিন্ন রঙের মাছের ছড়াছড়ি। লেকের ধারে রয়েছে ছাতাঘেরা অনেকগুলো গোলটেবিল। সারাবছর বিকেল হলেই এমনিতেই মানুষ সমাগমের কারণে লোকারণ্য হয়ে ওঠে ক্যাফেটি। ছোট্ট পরিসরে এ ক্যাফেটিতে এখন একসঙ্গে শতাধিক মানুষকে বসার সুযোগ রয়েছে। এখানে বেড়ানোর পাশাপাশি হালকা খাবারের স্বাদ নেওয়া ও কেনাকাটারও সুযোগ পাচ্ছেন দর্শনার্থীরা।

এবারও ঈদুল ফিতরের ছুটিতে স্থানীয় ও আশপাশের কয়েকটা এলাকার পর্যটকদের ঢল নেমেছে মিনি পর্যটন কেন্দ্র খ্যাত ক্যাফে ৫২’তে। বন্ধু-বান্ধব, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, পরিবার-পরিজন, সহকর্মী ও সামাজিক সংগঠনের সদস্যরা প্রতিদিনই দল বেধে বেড়াতে আসছে এখানে। আগতদের অনেকেই আড্ডা-মাস্তিতে ব্যস্ত, অন্যদিকে সাথে আসা ছোট শিশুরাও করছেন হইচই। কেউ কেউ আবার প্রিয়জনদের ছবি ফ্রেমবন্ধি করছেন স্মার্টফোনে কিংবা ক্যামেরায়।

ক্যাফে ৫২’র পশ্চিম প্বার্শে আড্ডারত কয়েকজন বন্ধুর সাথে এ প্রতিবেদকের সাথে দেখা হয়। কথা হয় আসুক আহমদ নামের একজনের সাথে। তিনি বলেন, এখানে এসে দীর্ঘক্ষন আড্ডা দিতে অনেক ভালো লাগে। তাছাড়াও এখানকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও পরিবেশ অনেক ভালো। তিনি বলেন, আমাদের দেশে পর্যটন খাতটা অনেক লাভজনক। বিয়ানীবাজার উপজেলার অনেক ঐতিহাসিক স্থাপনা ও দর্শনীয় স্থান রয়েছে, উদ্যোগ নিলেই যেগুলোকে চাইলে পর্যটন কেন্দ্রে রূপ দেয়া যেতো। কিন্তু প্রবাসী অধ্যূষিত আমাদের এখানকার কেউই এ লাভজনক খাতে আগ্রহী নন বলে এ খাতে আগ্রহের ঘাটতি রয়েছে বলে আমার ধারণা। সেক্ষেত্রে স্থানীয় সরকার সুদৃষ্টি দিলে রাষ্ট্রের পর্যটন খাতের একটি অংশ হতে পারতো এ অঞ্চলটি।

ক্যাফে ৫২ মিনি পর্যটন কেন্দ্রে ঘুরে দেখা যায়, এখানে আগতদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে সিসি ক্যামেরা ও আনুষঙ্গিক নিরাপত্তাবলয় তৈরি করা হয়েছে। ক্যাফের প্রবেশপথের বাম পাশে বিশাল এলাকা নিয়ে গাড়ি পার্কিং ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, উপজেলার বিয়ানীবাজার-চন্দরপুর আঞ্চলিক সড়কের মাথিউরা লাসাইতলা এলাকায় ৩৫ একর জায়গা নিয়ে বিজিবি ৫২ ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তর স্থাপন করা হয়। গত ২০১৩ সালে্র ৬ জুন সদর দপ্তরটি আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে। তবে মিনি পর্যটন স্পট খ্যাত ক্যাফে-৫২ যাত্রা শুরু করে ২০১৫ সালে।

৫২ ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তর সূত্রে জানা যায়, ক্যাফের উত্তর পাশে খোলা জায়গায় শিশু পার্ক, শিশু পার্কের পাশে একটি দৃষ্টিনন্দন লেক স্থাপনের কাজ চলছে। তবে শিশু পার্কটি তৈরি করতে আরও সময়ের প্রয়োজন।

ক্যাফেটির নিরাপত্তাবলয়ের দায়িত্বরত একজন বিজিবি সদস্য জানান, ‘ঈদের ছুটিতে স্থানীয়দের পাশাপাশি আশপাশের কয়েকটি উপজেলা থেকে পর্যটকরা এখানে বেড়াতে আসছেন। প্রতিদিন পর্যটকের সংখ্যা বাড়ছে। আমরা সবসময় নজর রাখছি, যাতে পর্যটকদের কোনো সমস্যা না হয়।’