আলোচিত ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিন এবং তার স্বামী প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মোহাম্মদ রাসেলকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। বৃহস্পতিবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বাসায় অভিযান চালিয়ে দুজনকে গ্রেফতার করা হয়। বিশাল ডিসকাউন্টের সুবিধা পেয়ে ইভ্যালীতে কয়েক লক্ষ টাকা বিনোয়োগ করেছেন বিয়ানীবাজারের সহস্রাধিক গ্রাহক। মূল্য পরিশোধ করেও পন্য না পাওয়ায় আগে থেকেই দু:চিন্তায় ছিলেন তারা। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় প্রতিষ্ঠানের সিইও এবং চেয়ারম্যান গ্রেফতারের খবরে সেই দুঃচিন্তা আরো বেড়েছে বলে জানিয়েছেন গ্রাহকরা। তাদের দাবী বিনিযোগকৃত মূল্য গ্রাহকরা ফেরত পেতে যেন সরকারের পক্ষ থেকে কার্যকরী পদক্ষেপ যেন গ্রহণ করা হয়।

নাম প্রকাশ না করতে এ প্রতিবেদকের সাথে বেশ কয়েকজন গ্রাহক যোগাযোগ করেন তাদের দুঃশ্চিতার কথা জানান। তারা ইলেক্ট্রনিক্স পণ্য, মোটর সাইকেলসহ বিভিন্ন পণ্য অর্ডার ও টাকা পে করেন। কিন্তু গত ছয় মাসেও পণ্য না পাওয়ায় তারা বার বার ইভ্যালির কাস্টমার কেয়ারে যোগাযোগ করেও পণ্য সরবরাহ পাননি। এ অবস্থায় ইভ্যালির দুই শীর্ষ দায়িত্বশীলের গ্রেপ্তারে তারা পণ্য পাওয়া নিয়ে শংকায় রয়েছেন।

তাদের একজন মোটর সাইকেল, ফ্রিজসহ কিছু পণ্যের জন্য প্রায় ৩ লাখ টাকা নগদে প্রেরণ করেন। অপরজন গ্রোসারি ও মুদি দোকানের জন্য খাবার তেল, চা, গুড়ো দুধসহ কেশ কিছু পণ্যের জন্য লাখ টাকা নগদ ও বিকাশে পাঠান। কিন্তু তারা পণ্যতো পাননি, টাকা ফেরৎ চেয়েও প্রত্যাখিত হয়েছেন।

বুধবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাতে ইভ্যালির চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিন ও এমডি রাসেলের স্ত্রী বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে গুলশান থানায় মামলা হয়।

আরিফ বাকের নামে ইভ্যালির একজন গ্রাহকের করা ওই মামলার অভিযোগে বলা হয়, ইভ্যালির চমকপ্রদ বিজ্ঞাপনে আকৃষ্ট হয়ে বাদী আরিফ বাকের ও তার বন্ধুরা চলতি বছরের মে ও জুন মাসে কিছু পণ্য অর্ডার করেন। পণ্যের অর্ডার বাবদ মূল্য বিকাশ, নগদ ও সিটি ব্যাংকের কার্ডের মাধ্যমে সম্পূর্ণ পরিশোধ করেন তারা। পণ্যগুলো ৭ থেকে ৪৫ কার্যদিবসের মধ্যে ডেলিভারি ও নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে সরবরাহে ব্যর্থ হলে প্রতিষ্ঠানটি সমপরিমাণ টাকা ফেরত দিতে অঙ্গীকারাবদ্ধ ছিল। কিন্তু ওই সময়সীমার মধ্যে পণ্যগুলো ডেলিভারি না পাওয়ায় বহুবার ইভ্যালির কাস্টমার কেয়ার প্রতিনিধিকে ফোন করা হয়। সর্বশেষ গত ৫ সেপ্টেম্বর যোগাযোগ করে অর্ডার করা পণ্যগুলো পাওয়ার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন বাদী ও তার বন্ধুরা।

এক পর্যায়ে পণ্য প্রদান ও টাকা প্রদানে ব্যর্থ হওয়ার পর ৯ সেপ্টেম্বর ইভ্যালির ধানমন্ডির অফিসে যান বাদী। ইভ্যালির এমডি মোহাম্মদ রাসেলের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে সেখানকার কর্মীরা উত্তেজিত হয়ে চিৎকার-চেঁচামেচি করেন। একপর্যায়ে অফিসের অভ্যন্তরে থাকা ইভ্যালির এমডি রাসেল উত্তেজিত হয়ে তার রুম থেকে বেরিয়ে এসে বাদীকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন এবং তাদের অর্ডারের পণ্য অথবা টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানান। তাকে ভয়ভীতি ও হুমকিসহ দুর্ব্যবহার করেন, ফলে তিনি চরম আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে দিনযাপন করছেন এবং পণ্যগুলো বুঝে না পাওয়ায় আর্থিক ও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

এবিটিভির বিশেষ প্রতিবেদন

বিয়ানীবাজারের শহীদ টিলা-বড়দেশ-মনটেকা রাস্তার বেহাল দশা