ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন আগামী বছরের মার্চ থেকে শুরু হতে পারে। সারা দেশে কয়েকটি ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন আয়োজন করবে নির্বাচন কমিশন। যদিও এখনো ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিষয়ে নির্বাচন কমিশন থেকে কোন নির্দেশনা দেয়া হয়নি। কমিশনের নির্দেশনা না আসলেও আগামী বছর চলতি মেয়াদ শেষ হওয়ায় এখনি নির্বাচন নিয়ে বিয়ানীবাজার উপজেলার বিভিন্ন পাড়া মহল্লাসহ রাজনৈতিক অঙ্গনে তোড়জোড় শুরু হয়েছে। উঠান বৈঠক থেকে সভা সমাবেশও হচ্ছে। বসে নেই ক্ষমতাশীন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। দলের মনোনয়ন দৌড়ে সম্ভাব্য প্রার্থীরা দায়িত্বশীলদের মনোযোগ পেতে কসরতে ব্যস্ত। প্রত্যেক ইউনিয়নে দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার দৌড়ে প্রার্থীর সংখ্যা একাধিক। বেশ কয়েকটি ইউনিয়নে এ সংখ্যা ৭/৮ জনে উন্নীত হয়েছে।

দলের মনোনয়ন পেতে ব্যর্থ হলেও অনেকেই বিদ্রোহী প্রার্থী হিসাবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন এমনটি আভাস পাওয়া গেছে। একই সাথে উপজেলা আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক অঙ্গনের প্রভাবশালীরা প্রত্যেক ইউনিয়নে নিজের পছন্দের লোককে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে প্রস্তুত রেখেছেন। দুয়েকজন নেতা নিজেদের রাজনৈতিক প্রভাবও বিস্তারের লক্ষ্যে এরই মধ্যে নিজের ঘরনার প্রার্থী নির্ধারণ করে নেতাকর্মীদের কাজ করার জন্য নির্দেশনা দিয়েছেন। ফলে অনেক ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী নৌকা নিয়ে ত্রিমূখী প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখোমুখি হতে পারেন।

নৌকার প্রার্থীর দৌড়ে লাউতা, মুড়িয়া, মোল্লাপুর, তিলপাড়া, মাথিউরায় প্রার্থীর সংখ্যা বেশি থাকলেও শেওলা, দুবাগ ও চারখাই ইউনিয়নেও একাধিক প্রার্থী রয়েছেন। বিয়ানীবাজার উপজেলার ১০ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের মধ্যে চারখাই, দুবাগ, শেওলা ও মাথিউরা ইউনিয়নের চেয়ারম্যানরা নৌকা নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে নির্বাচিত হয়েছিলেন। তাদের ঘনিষ্টজনরা জানিয়েছেন, এবারও নৌকা প্রতীক নিয়ে তারা নির্বাচন করবেন। এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে নৌকার প্রার্থীকে পরাজিত করে নির্বাচিত হয়েছিলেন লাউতা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান গৌছ উদ্দিন। আগামী নির্বাচনে তিনিও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। দলের কাছে চাইবেন নৌকা প্রতীক।

নির্বাচনের তফশীল ঘোষণা নির্ধারিত হয়নি- তারপরও নির্বাচনের রূপরেখার হিসেব নিকেশ জমিয়ে রাখতে চান না নেতাকর্মীরা। সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীদের নিয়ে মাঠের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। একই সাথে নিজেদের দিকে মনোযোগ টানতে প্রতিনিয়ত নতুন নতুন কৌশল নিয়ে মাঠে থাকছেন। এসব প্রার্থীদের অনেককে পর্দার অন্তরাল থেকে নিয়ন্ত্রণ করছেন জেলা ও উপজেলা আওয়ামী লীগ দায়িত্বশীলরা- এমন আভাস পাওয়া গেছে তৃণমূল নেতাকর্মীদের কাছ থেকে। কোন প্রার্থী কোন নেতার প্রিয়ভাজন সেটিও আলোচিত হচ্ছে চায়ের আড্ডা কিংবা মোড়ের দোকানে। এসব আলোচনা ছাপিয়ে আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী এক নেতা উপজেলার ১০ ইউনিয়নে নিজ বলয়ের চেয়ারম্যান প্রার্থী দিচ্ছেন। এদের কেউ কেউ পেয়ে যেতে পারেন দলীয় প্রতীক। যারা দলের প্রার্থী হতে পারবেন না তারাও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন নির্বাচনে। একইভাবে অন্য নেতারাও নিজ বলয়ের প্রার্থী নিয়ে তৎপর রয়েছেন। ফলে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থীদের নিজ দলের একাধিক বিদ্রোহী প্রার্থী মুখোমুখি হতে হবে।

বিয়ানীবাজার উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা আতাউর রহমান খান বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন নিয়ে আমাদের কাছে সুনির্দিষ্ট কোন নির্দেশনা নেই। নির্বাচন দলীয় প্রতীকে হবে না দলীয় প্রতীক ছাড়া হবে- এ নিয়েও আমাদের কাছে কোন তথ্য নেই। এমনকি কেন্দ্র থেকেও এনিয়ে কোন ইঙ্গিত আমরা পাইনি। যার কারণে এখনি এ নিয়ে কিছু বলতে পারছি না।

এবিটিভির সর্বশেষ প্রতিবেদন-

বিয়ানীবাজারে বোরো ধান ও রবিশস্যের বীজ সহায়তা পেলেন সাড়ে ৩ হাজার কৃষক