দুই ডোজ টিকা দেওয়া থাকলে বাংলাদেশসহ বিশ্বের যেকোনো দেশ থেকে ইংল্যান্ডে যেতে এখন আর করোনার পরীক্ষা করাতে হবে না। দেশটিতে পর্যটকদের ভ্রমণে আরও উৎসাহিত করতে করোনার পরীক্ষার ক্ষেত্রে এই শিথিলতা আনার কথা জানিয়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন।

তবে নতুন নিয়মটি কবে থেকে কার্যকর হবে তা নিশ্চিত করা হয়নি। বিবিসি জানিয়েছে, এ বিষয়ে যুক্তরাজ্যের পরিবহন সেক্রেটারি গ্রান্ট শ্যাপস হাউস অব কমন্সে একটি বিবৃতি দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে। এর আগে গত বুধবার জনসন বলেছিলেন যে, তার সরকার ভ্রমণের জন্য করোনা পরীক্ষার ব্যবস্থা পর্যালোচনা করছে।

বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, দুই ডোজ টিকা নেওয়া থাকলেও ইংল্যান্ডে পৌঁছানোর দুই দিনের মধ্যে করোনার পরীক্ষা করাতে হয়। স্কটল্যান্ড, ওয়েলস এবং উত্তর আয়ারল্যান্ডেও এই নিয়ম রয়েছে। যাত্রীদের অবশ্যই এলএফটি পরীক্ষা বা আরও ব্যয়বহুল পিসিআর পরীক্ষা করতে হয়। কারও করোনা পজিটিভ হলে তিনি টিকা দেওয়া থাকলেও তাকে অবশ্যই দশ দিনের জন্য নির্জনাবাসে থাকতে হবে।

করোনভাইরাসের কারণে দেওয়া লকডাউনে যুক্তরাজ্যের ভ্রমণ এবং পর্যটন শিল্প খাত ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। করোনা পরীক্ষার বাধ্যবাধকতা তুলে নিলে এই খাতে অর্থনৈতিক প্রবাহ বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

বিবিসির প্রতিবেদনে বরিস জনসনকে উদ্ধৃত করে বলা হয়, আপনারা দেখতে পাচ্ছেন করোনাভাইরাসের পরিসংখ্যান আরও ভালো হতে শুরু করেছে। নতুন আইনের মাধ্যমে আমরা দেখাতে চাই যে, এই দেশটি ব্যবসার জন্য উন্মুক্ত, ভ্রমণকারীদের জন্য উন্মুক্ত।

প্রধানমন্ত্রীর এই ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছেন যুক্তরাজ্যের এয়ারলাইনসগুলোর সংগঠন এয়ারলাইনস ইউকে-এর প্রধান নির্বাহী টিম অ্যাল্ডারস্লেড। তিনি বলেন, এটি যাত্রী ও পর্যটন ব্যবসার জন্য একটি যুগান্তকারী দিন। যাত্রীদের এখন দ্রুত বুকিং করা উচিত।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক বহুজাতিক বিমান সংস্থা ইজি জেট-এর প্রধান নির্বাহী জোহান লুন্ডগ্রেন বলেছেন, নতুন নিয়মের পরে তাদের বিমান সংস্থার ব্যবসা এই গ্রীষ্মে ২০১৯ সালের কাছাকাছি নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছে।

অপর বিমান সংস্থা ভার্জিন আটলান্টিক বলছে, টিকা নেওয়া যাত্রীদের ক্ষেত্রে করোনার পরীক্ষা বন্ধের সিদ্ধান্ত পর্যটকদের বিমান ভ্রমণ বাড়বে। তারা এখন প্রিয়জন ও ব্যবসায়িক সহকর্মীদের সঙ্গে পুনরায় দেখা করতে পারবে।