আওয়ামী লীগের সম্মেলনের পর উত্তেজনা দেখা দিয়েছে মৌলভীবাজারে। সম্মেলনের কমিটি গঠন নিয়ে অসন্তোষ থেকে হামলার ঘটনাও ঘটেছে। ভাংচুর করা হয়েছে পৌর ভবন।

শনিবার সম্মেলনে জেলা আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে আসেন একই বলয়ের দুই নেতা। সভাপতি হিসেবে নেছার আহমদ ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে মিছবাউর রহমানের নাম ঘোষণা করা হয়। তাঁরা দু’জনই জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি উপাধ্যক্ষ আব্দুস শহীদ বলয়ের নেতা।

জানা যায়, মৌলভীবাজার আওয়ামী লীগে দুইটি বলয় দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয়। তার একটি হুইপ বলয় ও অপরটি মন্ত্রী বলয় নামে পরিচিত। একটির নেতৃত্বে রয়েছেন সাবেক চিফ হুইপ উপাধ্যক্ষ আব্দুস শহীদ। আরেকটি নেতৃত্বে ছিলেন সাবেক সমাজকল্যান মন্ত্রী প্রয়াত সৈয়দ মহসিন আলী। মহসিন আলী প্রয়াত হলেও তাঁর অনুসারীরা এই বলয়ের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

দীর্ঘদিন পর জেলা আওয়ামী লীগের কমিটি গঠন হলেও এ নিয়ে ক্ষোভ বিরাজ করছে সৈয়দ মহসিন আলীর অনুসারীদের মধ্যে।

আব্দুস শহীদ বলয়ের নেতারা শীর্ষ দুটি পদ দখলের পর মহসিন বলয়ের নেতাদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। কমিটি ঘোষণার পরপরই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সামনে মৌলভীবাজার পৌরসভা কার্যালয়ে হামলার ঘটনা ঘটে। এসময় পৌর মেয়র কক্ষে ও সেবা কক্ষের দরজা-জানলা ও আসবাবপত্র ভাংচুর করা হয়। এছাড়া পৌর ভবনের সম্মুখে মোটরসাইকেলে ভাঙচুর করেছে হামলাকারীরা।

শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে এ হামলা ও ভাংচুর চালানো হয়। এদিকে সন্ধ্যা ৬টার দিকে মৌলভীবাজার শহরের কোর্ট রোডে সরকারী সারবাহী একটি ট্রাকে হামলা চালায় দুবৃত্তরা। যার ফলে শহরে উত্তেজনা বিরাজ করছে।

তবে শীর্ষ দুটি পদে এক বলয়ের নেতারা থাকলেও সহ-সভাপতি ও সহ-সম্পাদক পদে নির্বাচিত ব্যক্তিদের উভয় বলয় থেকে নির্বাচিত করা। কমিটির অন্যান্য পদস্থরা হলেন- সহ-সভাপতি মুহিবুর রহমান তরফদার, শাহাব উদ্দিন আহমদ, আজমল হোসেন, ভূপতি রঞ্জন চৌধুরী ও মসুদ আহমদ নির্বাচিত হয়েছেন। যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন মেয়র ফজলুর রহমান, সৈয়দ নওশের আলী খোকন ও কামাল হোসেন। সাংগঠনিক সম্পাদক হয়েছেন রাধাপদ দেব সজল।

এছাড়া কমিটিতে উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য হিসেবে আছেন সাংসদ আব্দুস শহীদ ও মো. ফিরোজ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দলের এক সিনিয়র নেতা বলেন, এটা সম্পূর্ণ একতরফা ভাবে কমিটি দেয়া হয়েছে। ভালো হতো এক দিক থেকে সভাপতি ও একদিক থেকে সম্পাদক নির্বাচন করে দিলে তাতে করে সবাই মিলেমিশে চলার সুযোগ হত। কিন্তু নব নির্বাচিত কমিটিতে একটা পক্ষকে কোনঠাসা করা হয়েছে। যা রাজনীতিতে আরো সংঘাত বাড়াতে পারে।

কমিটি ঘোষণার পূর্বে দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, দীর্ঘ কোন সম্মেলন না করায় এখানে নেতাদের জ্যাম দেখা দিয়েছে যার ফলে এতোসব নেতার মাঝ থেকে কাকে নির্বাচন করবেন তা ভেবে বের করা কঠিন। কিন্তু কেন্দ্রকে তো একটি সিদ্ধান্তে যেতে হবে।