সিলেট নগরীর জিন্দাবাজারে কুয়েত প্রবাসী আওয়ামী লীগ নেতা এস এম আব্দুল আহাদ হত্যারহস্যের জট খুলতে শুরু করেছে। এ ঘটনায় একজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন। তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী এক রাজনৈতিক নেতাকে খুঁজছে পুলিশ। ওই নেতাকে গ্রেফতার করা গেলেই মূল ঘটনা বেরিয়ে আসবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন কোতোয়ালি থানার ওসি মোশারফ হোসেন।

গত ১০ সেপ্টেম্বর সিলেট ছাত্রদলের সাবেক সহসাংগঠনিক সম্পাদক নাবিল রাজা চৌধুরী গ্রুপের সক্রিয় কর্মী মুরাদ হোসেন রানাকে নগরীর ঘাসিটোলা থেকে আটক করে পুলিশ। মুরাদ গোলাপগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ রায়গড় গ্রামের কামরুল ইসলামের ছেলে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১১ সেপ্টেম্বর আদালতে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়। আদালত ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এরপর গত রোববার আব্দুল আহাদ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মুরাদ আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা অনুপ কুমার চৌধুরী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

অনুপ কুমার চৌধুরী জানান, সিলেট মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট-২ এর বিচারক সাইফুর রহমানের আদালতে জবানবন্দিতে মুরাদ বলেছেন, এক রাজনৈতিক নেতার সঙ্গে বিরোধের জেরে আহাদকে খুন করা হয়েছে। তারা ভাড়াটে হিসেবে হত্যা মিশনে অংশ নেন। তার সঙ্গে আরও ৪-৫ জন এতে জড়িত ছিল। আহাদকে মারার জন্য এক লাখ টাকার চুক্তি হয় ওই রাজনৈতিক নেতা ও তার লোকজনের সঙ্গে। ৩১ আগস্ট আহাদকে হত্যা করা হয়। গত ৩১ আগস্ট রাতে জিন্দাবাজারে আব্দুল আহাদকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করা হয়।

আহাদ আওয়ামী লীগ কুয়েত শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক এবং সিলেট বিভাগীয় লেখক ফোরাম কুয়েত শাখার সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তিনি মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার করিমপুর মেদিনী মহলের নুর মিয়ার ছেলে।

এ ঘটনায় সন্দেহভাজন আরও ৩ আসামি কারাগারে আছেন বলে জানিয়েছেন কোতোয়ালি থানার ওসি মোশারফ হোসেন।