জকিগঞ্জের বহুল আলোচিত পরীক্ষার হলে ঘুমিয়ে পড়া সহকারী শিক্ষিক দীপ্তি বিশ্বাসসহ ৬টি বিদ্যালয়ের ১০জন শিক্ষকের বিরুদ্ধে কারণদর্শানো (শোকজ) নোটিশ প্রদান করা হয়েছে। ১৮ অক্টোবর উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা শিক্ষা কমিটির সভাপতি ইকবাল আহমদ তাপাদার ১১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পরিদর্শন শেষে ৬টি বিদ্যালয়ের ১০জন শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের কথা উল্ল্যেখ করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বরাবর প্রতিবেদন দাখিল করেন।

নোটিশ প্রাপ্তরা হলেন, নরসিংহপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও উপজেলা শিক্ষক নেতা এএইচএম কামরুজ্জামান, তার স্ত্রী সহকারী শিক্ষক দিলরুবা সুলতানা, সহকারী শিক্ষক আছমা বেগম, খলাছড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক দীপ্তি বিশ্বাস, বেউর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সুপ্রভা বিশ্বাস, গধাদর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রহিমা বেগম, সহকারী শিক্ষক তমা রাণী দে, এবং লিয়াকত পুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত সকল শিক্ষককে শোকজ করা হয়।

শোকজ নোটিশে পরীক্ষা চলাকালীন হলে ঘুমিয়ে পড়া, মোবাইল ফোনে গান বাজানো, বাচ্চাকে কোলে নিয়ে শ্রেণী কক্ষের পরিবেশ নষ্ট করা ছাড়াও পরিদর্শনকালে ক্লাসে কোন শিক্ষককে না পাওয়া ইত্যাদি অভিযোগের কথা উল্ল্যেখ করা হয়েছে।

এসব অভিযোগ উল্লেখ করে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রফিজ মিয়া স্বাক্ষরিত কারণ দর্শানো নোটিশ মঙ্গলবার অভিযুক্ত শিক্ষকদের নিকট প্রেরণ করা হয়েছে।

এদিকে ১৮ অক্টোবর বিদ্যালয় পরির্দশনকালে খলাছড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক দীপ্তি বিশ্বাস ৫ম শ্রেণির মডেল টেস্ট পরীক্ষার হলে দায়িত্ব পালনকালে ঘুমে মগ্ন ছিলেন। উপজেলা চেয়ারম্যান উপস্থিত হলেও তার ঘুম ভাঙ্গেনি। ঘুমন্ত শিক্ষিকার ছবি বিভিন্ন মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়ায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়। মিডিয়ায় ছবি প্রকাশে পক্ষে-বিপক্ষে শিক্ষদের একাংশ ও অভিভাবক মহল সপ্তাহজুড়ে নানা মন্তব্য করতে থাকেন। ক্ষমতাসীন দলের প্রবাবশালী নেতার স্ত্রীর পক্ষে শিক্ষক সমিতির একাংশের সহযোগিতায় বিভিন্ন কর্মসূচি করার চেষ্টা করা হয়। মুখোমুখি অবস্থান নেন উপজেলার জনপ্রতিনিধি ও শিক্ষকদের একাংশ। ফাঁকিবাজ কিছু সংখ্যক শিক্ষদের এহেন আচরণে সচেতন অভিভাবাক মহল ক্ষোভে ফেটে পড়েন। গঠিত হয় ‘অভিভাবক পরিষদ জকিগঞ্জ’। বৃহস্পতিবার শিক্ষদের একাংশের পক্ষ থেকে মানববন্ধন কর্মসূচি আহবান করা হলে অভিভাবক পরিষদও পাল্টা কর্মসূচি দিয়ে শ্রেণি কক্ষে ঘুমানোর পক্ষের শিক্ষকদের কাঁথা-বালিশ সরবরাহের ঘোষণা দেয়।

উল্ল্যেখ, গত মাসে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রফিজ মিয়া বিভিন্ন বিদ্যালয় পরির্দশন করে অনিয়মের অভিযোগে মোট ৬২জন শিক্ষককের একদিনের বেতন কর্তন করেন। অন্যদিকে জেলা শহওে থেকে প্রায় শত কিলোমিটার দুরবতী সীমান্তিক জনপদ জকিগঞ্জে শিক্ষার হার আরো নিম্নমুখী হওয়ায় অভিভাবক মহল উদ্বিগ্ন।